প্রকাশিত :  ১৭:৫৫, ১৩ মে ২০২২

সিলেটে বন্যার শঙ্কা, ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট

সিলেটে বন্যার শঙ্কা, ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বন্যার। অনেক এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী মানুষ।

এদিকে প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সারি এবং পিয়াইনদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের কারণে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে পড়েছে সিলেটের গোয়ানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট উপজেলা দিয়ে ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে ওই অঞ্চলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ০ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৬টায় ছিল ১৩ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। সিলেটে সুরমার ডেঞ্জার লেভেল ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ৯ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদী শেওলা এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ১০ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটার। সারি নদী গোয়াইঘাটের ডেঞ্জার লেভেল ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। সুনামগঞ্জ সুরমার ডেঞ্জার লেভেল ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ৬ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সিলেটে বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, আগামী ১৮ তারিখ পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময়ে দিনের চেয়ে রাতে বেশি বৃষ্টিপাত হবে।

এদিকে টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাটের পিয়াইন ও সারী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সারীঘাট-গোয়াইনঘাট-হাকুর বাজার-গোয়াইনঘাট সড়ক তলিয়ে গেছে পানির নিচে।

এদিকে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ ও বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরের পিয়াইন ও সারী অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির কারণেই উপজেলার সবকটি হাওর তলিয়ে গেছে। পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাড়ি-ঘর পানিতে প্লাবিত হয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এক রকম বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাড়ি-ঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি গো-চারণ ভূমি পানিবন্ধী হওয়ায় গো-খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, টানা বৃষ্টিপাত হওয়া ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত তিন দিন ধরেই নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরাতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।





Leave Your Comments


সিলেটের খবর এর আরও খবর