প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বাংলাদেশের আউটসোর্সিং কোন পথে?

বাংলাদেশের আউটসোর্সিং কোন পথে?

জনমত প্রতিবেদন ।। বাংলাদেশের ইন্টারনেট প্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং - ইন্টারনেট এর উপর আউটসোর্সিং শতভাগ নির্ভরশীল। এ কথা বুঝার জন্য আউটসোর্সিংএ দক্ষতার প্রয়োজন নেই। ফ্রিলেন্স আউটসোর্সিং এ সামান্যতর জ্ঞান আছে যে কেউ আমার এই কথাকে বিনাবাক্যে স্বীকার করবেন। কেননা কাজের জন্যে যোগাযোগ করতে হয় বিশ্বের বড় বড় ফ্রিলেন্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে। এক বা দুটি মার্কেটপ্লেসে টু মেরেই কাজ পাওয়া যায় না। নিজের জন্যে উপযক্তি কাজটি খুজে নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা ছুটতে হয় মার্কেটপ্লেসগুলোর একটি পেইজ থেকে অপর পেইজে। একসঙ্গে ১৫-২০টি প্রোগ্রাম এবং ওয়েব পেইজ চালু করারও প্রয়োজন পড়ে। অডেক্সের কোন বায়ারের সাথে চ্যাট করার সময় স্কাইপীতে কথা বলতে হতে পারে অন্য কোন বায়ারের সাথে। ইমেল আইডি চালু করে রাখতে হয় সব সময় আবার এটাও খেয়াল রাখতে হয় অন্য কোন মার্কেটপ্লেসে কেউ নক দিচ্ছে কি না। বায়ার নক দিয়ে আপনার রিপলাই এর জন্যে বসে থাকবে না। আপনাকে না পেয়ে অন্য আরেকজনকে কাজ দিয়ে দিতে পারে। কেননা কাজের জন্যে সবাই অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে হয়ত অন্য কোন প্রোগ্রাম চালু রাখতে হতে পারে। উদাহরনস্বরুপ যদি আমার কথা বলি তবে বলব আমাকে সব সময় ৪-৫ টি প্রোগ্রাম চালু করে রাখতে হয় যা ইন্টারনেট ছাড়া পিসিতে রান করা সম্ভব না। ইমেল হান্টার, ইমেল সেন্ডর, ইমেল ভেরিফাইয়ার, এস.ই.ও পাওয়ার সুইচ, স্কাইপি। এগুলোর বাইরেও আরো প্রোগ্রাম চালু করে রাখতে হয় যা রান করার পর ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে হলে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন রয়েছে। যেমন ধরুন কাজের ফাকে হয়ত বায়ার আমাকে ইউটোবের কোন ভিডিও লিংক দেখিয়ে বলল তার সার্ভিসটি এই টিউটরিয়ালের মতো হওয়া চাই। তখন সবগুলো প্রোগ্রাম অপ করে ভিডিও সার্চ করতে হয় নতুবা অপেক্ষা করতে হয় কয়েক ঘন্টা। অথবা কাজের ফাকে নতুন কোন সারভার সেটআপ দেয়ার প্রয়োজন পড়ল তখন তো দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া সম্ভব না। এই সেদিন আমরা থ্রীজী সার্ভিস পেলাম। কিন্তু আসলে আমরা এই সার্ভিস কতটা পাচ্ছি? ইন্টারনেট সার্ভিস দাতা কোম্পানীগুলো কন্ডিশন এপ্লিকেবল এর আন্ডারে যা রেখেছে তা প্রকাশ করে নতুন কোন প্রতিকূলতা নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহ নাই। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি সর্বক্ষেত্রেই। আমাদের আইটি উপদেষ্টা জয় ৪ জীর এর গল্প শুনাচ্ছেন। যা অমাবর্ষার চাদ বলেই মনে হচ্ছে। ৩জীর যে মূল্য তাতে ৪জী ব্যবহার করা আর অমাবর্ষায় চাদ দেখা একই। ল্যান্ড লাইনগুলো সার্ভিসের নামে যেভাবে লাইন ডাউন করে রাখে তাতে আমার সন্দেহ হয় আদো কোন ক্যাবল সিসটেমে কাজ হয় না কি সিসটেম দোহাই দিয়ে টেনে হিছড়ে সার্ভিস চালু রাখা হয়। আমি শুধু এ কথাই বলব, ইন্টারনেট দ্রুত গতি এবং সহজলোভ্য করা ছাড়া ফ্রিলেন্স আউটসোর্সিং খাতে আমাদের দেখা স্বপ্ন ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে কেবল আমরা কথাই যদি বলি তবে বলব ইন্টারনেট সমস্যা না থাকলে আমার মাসিক আয় দ্বিগুন এর বেশী হবে। ডাটা এন্ট্রি , এস.ই.ও ওয়ার্কার থেকে শুরু করে অ্যাপস ডেভোলাপার, ওয়েব ডেভোলাপার যে ক্ষেত্র নিয়েই বলুন না কেন , দ্রুত গতির ইন্টার সেবা বাধ্যতামূলক। নতুবা প্রতিবেশী দেশের ওয়ার্কারদের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ পাওয়া দুরহ। তাই চিন্তা করা আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে আমরা কোন পথে এগুচ্ছি! 

অদক্ষ জনশক্তি - ফ্রিলেন্স আউটসোর্সিং এ অদক্ষ জনশক্তি এক বিরাট প্রতিকূলতা। অদক্ষদের জন্যে বাংলাদেশী দক্ষ ওয়ার্কারদের প্রতিও নেগেটিভ প্রভাব পড়ে বায়ারদের মনে। কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ছাড়াই যারা এই পথে আসে তারা না বুঝে মার্কেটে নেগেটিভ ফিডব্যাক রেখে যায় যার ভুগান্তি পোহাতে হয় অন্যদের। শুরু করা ও লেগে থাকার সমস্যা অনেকর মধ্যেই রয়েছে। সরকারিভাবে কিছু প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা আমার কাজে মনে হয় না খুব একটা সূফল হবে। আইটি বিষয়ক কোর্সগুলো আধুনিক ও মানসম্মত করা ছাড়া আউটসোর্সিং জ্ঞান দিয়ে জনশক্তি বাড়ানোর বদলে বুঝা বাড়ানো হচ্ছে। আমার এক বন্ধু দেশের নামকরা একটি প্রতিষ্টানে ভর্তি হয়ে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং শিখে এসেছে পিডিএফ বই পড়ে। এমন জনশক্তি দিয়ে আমরা সরবতও তো খেতে পারি না। কিছুই জানে না এমন একজন বলল তার বন্ধু বলেছে ১ মাস পর না কি মাসে ১৫/২০ হাজার আয় করতে পারবে অমুক তমুক কোর্স করার পর। আউটসোর্সিং যখন এই অবস্থায় তখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। 
উপযুক্ত পরিবেশ - আউটসোর্সিং এ এতো গুলো বছর পেরিয়েও ফ্রিলেন্সারদের জন্যে কাজের পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারি নি। ব্যাংকে গিয়ে আজো যখন কোন ব্যাংক কর্মকর্তাকে বুঝাতে হয় ফ্রিলেন্সিং কোন ক্রাইম বা মানি লন্ডারিং নয় তখন নিজের গালে নিজে মনে মনে চড় মারা ছাড়া আর কি বা করার থাকে বলুন? ফ্রিলেন্সারদের জন্যে আমরা আউটডোর জবের পরিবেশ আজো তৈরি করতে পারি নি। বিভাগই শহরগুলোতে পর্যন্ত এমন সুযোগ নেই। অনেক ফ্রিলেন্সার কাজ করেন রাতে ফলে দিনে প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখিন হতে হয়। রাতে নেটে কাজ করে দিনে ঘুমাইলে নেগেটিভলী দেখা হয়। সব সময় পর্ণ ব্যবসায়ীরাই যে এমন করবে তা তো নয়।
শেষকথা - আমি যে টপিক নিয়ে আলোচনা শরু করেছি তাতে শেষ বলে কিছু আমার কাছে নেই। দ্রুত গতির ইন্টারনেট, উপযুক্ত মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ, জনশক্তিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এই বিষয়গুলো নিয়ে না ভাবলে ফ্রিলেন্স আউটসোর্সিং এর সূচক অচিরেই নিচের দিকে পড়তে পারে। যে গতিতে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা আমরা তার অনেক পেছনে রয়েছি। তবে আমি আশা করি অচিরেই সকল প্রতিকূলতা দূর করে আমরা আমাদের স্বপ্নকে বাস্তব করতে পারব। সকলের আন্তরিকতা এবং বাস্তব প্রদক্ষেপ বাধ্যতামূলক। সরকারের আরো বাস্তবধর্মী প্রদক্ষেপ নেয়া উচিত। এমন তো আর আমরা এমন অবস্থানে নেই যে আমাদের শুরু করতে হবে কনফিউশন নিয়ে। আমাদের শুরু করতে হবে নির্দিষ্ট টার্গেট সামনে রেখে। 



Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর