প্রকাশিত :  ১৩:৪৯, ০৪ আগষ্ট ২০২২

নৈশকোচে ডাকাতি ও ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলো রাজা মিয়া

নৈশকোচে ডাকাতি ও ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলো রাজা মিয়া

জনমত ডেস্ক: কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী নৈশকোচে ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজা মিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

এর আগে ভোরে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে লুন্ঠিত তিনটি মোবাইল তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

রাজা মিয়া টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তিনি পেশায় টাঙ্গাইলের ঝটিকা বাসের চালক।

পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাজা মিয়া ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও ধর্ষণের সাথে জড়িত নন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, বাসটি ২৪জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি দিবারাত্রি হোটেলে নৈশভোজের জন্য যাত্রা বিরতি দেয়। পরে দেড়টার দিকে আবার যাত্রা শুরু করে। সিরাজগঞ্জ রোড থেকে ৪জন যাত্রী উঠেন। কিছু দূরে গিয়ে আরো তিনজন ওঠেন। তার পরে কড্ডার মোড় থেকে আরো তিনজন বাসে উঠেন। তখন সবাই প্রায় ঘুমে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে একে একে সব যাত্রীকে বেঁধে ফেলে। প্রত্যেক যাত্রীর চোখ ও মুখ বেঁধে চালককেও জিম্মি করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তখন গ্রেপ্তার রাজা মিয়া বাসের চালককে উঠিয়ে নিজে নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা সব যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল, টাকা, গহনা লুট করে নেয়। তারপর পেছনে বসা এক নারীকে ডাকাত দলের ছয় সদস্য ধর্ষণ করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, গাড়িতে তখন আরো কয়েকজন নারী ছিলেন। তাদের সাথে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ছিল। হয়ত একারণেই তারা রক্ষা পেয়েছেন। ডাকাত দল বাসটি নাটিয়া পাড়া নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে ঘুরিয়ে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের সামনে ফেলে রেখে তারা নেমে যায়। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার হেকমত আলী বাদী হয়ে ডাকাতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, রক্তিপাড়ার কাছেই ডাকাত দলের সদস্য রতনের মামার বাড়ি। আমরা জানতে পেরেছি, ডাকাত দল বাস থেকে নেমে রতনের মামার বাড়িতে যায়। তারপর সেখান থেকে তারা যার যার মত চলে যায়। ডাকাত দলের সবাইকে আমরা চিহিৃত করতে পেরেছি। একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই অন্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।




Leave Your Comments


বাংলাদেশ এর আরও খবর