img

আইসিবির ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ

প্রকাশিত :  ০৯:৩৩, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪০, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩

আইসিবির ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ডিপোজিটরি ফান্ডকে এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে শেয়ারবাজারে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে আইসিবির।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

আইসিবি একটি বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দেখভাল করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে গত ১৫ জানুয়ারি বিএসইসির চেয়ারম্যানের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শেয়ারবাজারের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। দেশের অর্থনীতি যেভাবে বিকশিত হচ্ছে, একইভাবে শেয়ারবাজারকেও বিকশিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক পরবর্তীতে বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ‘শেয়ারবাজার নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়নে যেসব নীতি সহায়তা দরকার সেগুলো দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাজার আরো বড়, সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। উনি আমাকে সমাধান দিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেয়ারবাজারে আকর্ষণীয় পণ্য চালু করা হবে। করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আমাদের কিছু কর্মসূচি বিলম্বিত হয়েছিল। সেগুলো এ বছরেই করা হবে। শেয়ারবাজার যাতে আরো সমৃদ্ধ হয়, আরো বড় হয়, লেনদেনের পরিমাণ যাতে আরো বাড়ে, সে জন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাপোর্ট দিচ্ছি। শেয়ারবাজার যাতে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সেটার জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। লেনদেন আরো বাড়া উচিত।’

উপরন্তু, বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে বন্ডে বিনিয়োগকে শেয়ারবাজার এক্সপোজারের বাইরে রাখতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেই আইনটি পাস করা হবে বলে জানা গেছে। আর এটি যেন দ্রুত পাস করা হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী।

img

বাজারে উল্টো চিত্র, নতুন চাল উঠলেও বেড়েছে দাম

প্রকাশিত :  ০৯:৪৪, ১৭ জুলাই ২০২৪

বাংলা মাসের হিসেবে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত চলে ধান কাটা ও মাড়াই। এরপর ধান বিক্রি হয়ে চালকল থেকে চলে আসে আড়তে। ইতোমধ্যে নতুন ধানের চাল আসতে শুরু করেছে আড়তগুলোতে। নতুন চাল বাজারে এলে সাধারণত দাম কমে। কিন্তু এবার বাড়ছে চালের দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

এবার বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অথচ পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। গত এক মাসের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত। উৎপাদন খরচের কারণে চালের দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিল মালিকরা। আড়তদাররা বলছেন, মিল মালিকরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি আড়তে চালের দাম বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা।

মিল মালিকদের ভাষ্য, মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ২৯০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মোটা চাল (গুটি স্বর্ণা) প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে জিরাশাইল চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার টাকায়।

পাইকারি চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিলার ও মৌসুমি ধান ব্যবসায়ীদের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই বাড়তি দর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা সমন্বয় করছেন। ফলে চাল কিনতে বেশি টাকা খরচ হওয়ায় ক্রেতারা পড়ছেন বেকায়দায়।

রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার পাইকারি চাল বিক্রেতা ফাতেমা রাইস এজেন্সির মালিক দাবিরুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলেছে চালের দাম। প্রতিদিনই বাড়ছে। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আশা করি চালের দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারবো।

এদিকে ধান ও চালের সবচেয়ে বড় মোকাম নওগাঁ জেলায়। মিল গেটে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে ধানের দাম প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। ধানের দাম বাড়ার কারণে সরু ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

নওগাঁ মৌ অ্যাগ্রো অ্যারোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক ইফতারুল ইসলাম বলেন, কোরবানি ঈদের পর থেকে বাজারে জিরা ও কাটারি ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই দুই প্রকার ধানের দাম বেড়েছে প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নাটোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রব খান চৌধুরী বলেন, বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকা, বর্ষাজনিত কারণে ধান সেদ্ধ ও শুকাতে না পারায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া এবার সরকার গোডাউনে আগে ধান নেওয়ায় বাজারে মোটা চালের ঘাটতি পড়েছে। সে জন্য চিকন চালের ওপর চাপ পড়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহীর উপ-পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের অভিযান চলছে। চাল ব্যবসায়ীদের সতর্কও করা হচ্ছে। এরপরও যারা সতর্ক হচ্ছে না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।