img

স্ত্রীকে বয়ফ্রেন্ডসহ হত্যার ষড়যন্ত্র : এফবিআই কর্তৃক প্রবাসী বাংলাদেশি শওকত গ্রেফতার

প্রকাশিত :  ০৭:০১, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

স্ত্রীকে বয়ফ্রেন্ডসহ হত্যার ষড়যন্ত্র : এফবিআই কর্তৃক প্রবাসী বাংলাদেশি শওকত গ্রেফতার

স্ত্রী এবং তার বয়ফ্রেন্ডকে হত্যা করার জন্যে ঘাতক ভাড়া করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন বস্টনের প্রবাসী মোহাম্মদ শওকত চৌধুরী (৪৬)। মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারি তাকে বস্টনের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। চট্টগ্রামের রাউজান থেকে বস্টনে এসে স্ত্রী ও সন্তানসহ বসতি গড়েন শওকত। ট্যাক্সি চালিয়ে সংসার চালাতেন আগে। সংসারের প্রয়োজনে কখনো কখনো ১৬/১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ট্যাক্সি চালান শওকত। এ অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সখ্যতা গড়েন আরেক প্রবাসী। এ নিয়ে তিক্ততা চলছে কয়েক বছর ধরেই। মঙ্গলবার তাকে বস্টনের ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয়। 

শওকতের বিরুদ্ধে খুনের জন্যে ঘাতক ভাড়া করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার জামিনের শুনানি হবার কথা ২০ জানুয়ারি। মামলায় জানা গেছে, যাকে তিনি ঘাতক ভেবেছিলেন, প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন এফবিআই’র এজেন্ট। মামলায় আরও বলা হয়েছে, এর আগে শওকত তার স্ত্রীকে হত্যার জন্যে আরেকজনকে নগদ অর্থ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অনুরোধ অনুযায়ী কাজ করেনি। অর্থাৎ শওকত তার স্ত্রীসহ বয়ফ্রেন্ডকে হত্যায় মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। শওকতের এমন মনোভাব গত নভেম্বরে অবহিত করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষকে। সেই ছদ্মবেশী এজেন্ট শওকতের সাথে যোগাযোগ করলে শওকত তাকে জানান যে, কাজটি সম্পন্ন হলেই সমুদয় অর্থ প্রদান করা হবে। সেই অর্থ সংগ্রহের জন্যে প্রয়োজন হলে তিনি ডাকাতি করতেও দ্বিধা করবেন না। গত ডিসেম্বর এবং চলতি মাসে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেন শওকত সেই এজেন্টের সাথে।

উল্লেখ্য, শওকতের স্ত্রী ইতিমধ্যেই তার ঘর ছেড়েছেন বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে। সন্তানকেও সাথে নিয়েছেন। মামলার বিবরণে প্রকাশ, দু’জনকে হত্যার জন্যে মোট ৮ হাজার ডলার প্রদানের চুক্তিতে আগাম দেয়ার কথা ৫০০ ডলার। আরেকবার যেহেতু ঠকেছেন তাই এবার কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কোন ডলার দেবেন না। সেই ৫০০ ডলার প্রদানের জন্যেই মঙ্গলবার সকালে মিলিত হন কথিত সেই ঘাতকের সাথে। সে সময়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের অক্টোবরে শওকত চৌধুরীকে বস্টন মিউনিসিপ্যাল কোর্ট দোষী সাব্যস্ত করে তার স্ত্রীর কাছে না যাবার নির্দেশ লঙ্ঘনের জন্যে। 

বস্টনের ইউএস এটর্নি রাচায়েল এস রোলিন্স এবং এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট যোসেফ আর বোনাভলেন্টো মোহাম্মদ শওকত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার তথ্য জানাতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। শওকত দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং তার পর ৩ বছর কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকতে হবে। এছাড়া জরিমানা হতে পারে কমপক্ষে আড়াই লাখ ডলার। 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

প্রকাশিত :  ১২:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৪

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে  গত বুধবার,১৭ এপিরীর ২০২৪,ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (কর্মাস) সেলিম রেজা ও ফার্স্ট সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান নুর।

বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে ‘বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক।প্রতীক।

রাষ্ট্রদূত ইমরান আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মুজিবনগর সরকার ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা, এবং মুজিবনগর সরকারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সাফল্য গাঁথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ইমরান বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মসহ সকলের ভালোভাবে জানার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি জাতিকে মাথা উঁচু করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করার অনুরোধ জানান।

কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং ঐতিহাসিক এই দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ছিল মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী সকল শহিদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। কর্মসূচী পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি আতাউর রহমান।

কমিউনিটি এর আরও খবর