প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩

নাদিয়ার ঘাতক বাসচালক-সহকারী গ্রেপ্তার

নাদিয়ার ঘাতক বাসচালক-সহকারী গ্রেপ্তার

জনমত ডেস্ক: রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সকালে বাড্ডার আনন্দনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বাসচালকের নাম লিটন (৩৮) ও সহকারী মো. আবুল খায়ের।

গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় প্রগতি সরণিতে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন নাদিয়া। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। 

এক বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে প্রগতি সরণি এলাকায় গিয়েছিলেন নাদিয়া।  তাদের মোটরসাইকেলটিকে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। এতে নাদিয়া মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে বাসের সামনের চাকায় পিষ্ট হন। তার মোটরসাইকেল চালক বন্ধু অক্ষত ছিলেন।   

নাদিয়ার মৃত্যুর পর ভাটারা থানায় নিরাপদ সড়ক আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘাতক বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। 

বাবার স্বপ্ন চূরমার

নিহত নাদিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম পোশাক কারখানার কর্মকর্তা। নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে।

মেয়ের স্বপ্ন ছিল ফার্মাসিস্ট হওয়ায়। সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল রোববার দুপুরে ঢাকায় প্রগতি সরণিতে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায়। সেখানে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন। পরে সেই বাসের তলায় পড়ে প্রাণ হারান তিনি।

এরপর নাদিয়ার মরদেহ আনা হয় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনা হলে সেখানে জড়ো হন স্বজন ও বন্ধুরা। মর্গে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাদিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও মা পারভীন বেগম।

এসময় বিলাপ করে বাবা মা বলছিলেন- কত কষ্ট আর সংগ্রাম করে সেই মেয়ে বড় হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এল। 

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একসময় তিনি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। এখন একটি পোশাক কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে কাজ করছেন। তিন মেয়ের মধ্যে সবার বড় নাদিয়া। রোজগারের সিংহভাগই খরচ করেন তিন মেয়ের পড়াশোনার পেছনে। গত ডিসেম্বরেই লাখ টাকা খরচ করে বড় মেয়ে নাদিয়াকে ভর্তি করেছিলেন রাজধানীর আশকোনার নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে। স্বপ্ন ছিল মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করবে, ছোট বোনগুলোকেও পথ দেখাবে।

তিনি আরও জানান, তারা নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় থাকেন। ক্লাস শুরু হবে বলে এক সপ্তাহ আগে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি হোস্টেলে এসে ওঠেন নাদিয়া। এরপর রোববার দুপুরে ফোন যায় জাহাঙ্গীরের ফোনে, আপনার মেয়ে অ্যাকসিডেন্ট করছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখনই আত্মা শুকিয়ে গিয়েছিল তার। ফোনদাতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ও কোথায়, কেমন আছে। যিনি ফোন করেছিলেন তিনি জানিয়েছিলেন, যমুনা ফিউচার পার্কের ওখানে আছে, ভালো আছে। ছুটতে ছুটতে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে ঢাকার পথ ধরেন জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী। তবে মাঝপথেই ঠিকানা বদলে যায়, তাদের আসতে বলা হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানে এসে শুনলেন ততক্ষণে সব শেষ। দিশেহারা বাবা-মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। তখন সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়।


 





Leave Your Comments


বাংলাদেশ এর আরও খবর