প্রকাশিত :  ০৬:৪৬, ২৪ জানুয়ারী ২০২৩

কোরআন পোড়ানোয় ন্যাটো সদস্য হতে সুইডেনকে সমর্থন দেবে না তুরস্ক: এরদোগান

কোরআন পোড়ানোয় ন্যাটো সদস্য হতে সুইডেনকে সমর্থন দেবে না তুরস্ক: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ন্যাটো সদস্য হতে সুইডেনকে সমর্থন দেবে না তুরস্ক। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগান। সোমবার তিনি বলেন, সুইডেনের উচিৎ নয় তুরস্কের সমর্থন আশা করা। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর পর নিজের এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন এরদোগান। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে জানানো হয়, সুইডেন গত বছর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আবেদন করে। কিন্তু ন্যাটোতে নতুন সদস্য যুক্ত হতে হলে সদস্য সকল দেশের সমর্থন দরকার পড়ে। তবে তুরস্ক প্রথম থেকেই সুইডেনের আবেদনে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। কারণ হিসেবে দেশটি বলে, সুইডেন কুর্দি ‘সন্ত্রাসীদের’ আশ্রয় দিয়েছে। তুরস্কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি নিষিদ্ধ। তাদেরই এক সদস্যকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিল সুইডেন।

দেশটি ন্যাটো সদস্য পদ পেতে ওই ব্যক্তিকে তুরস্কের হাতে তুলে দিতে সম্মতও হয়েছিল। 

কিন্তু সর্বশেষ সুইডেনের স্টকহোমে কোরআন পুড়িয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে আঙ্কারা। এক বিবৃতি দিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ওপর জঘন্য আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। বাক স্বাধীনতার নামে মুসলিমদের লক্ষ্য করে, আমাদের পবিত্র মূল্যবোধকে অপমান করছে এমন মুসলিমবিরোধী কার্যক্রমের অনুমোদন সত্যিই অগ্রহণযোগ্য।

এখানেই থেমে থাকেনি আঙ্কারা। প্রেসিডেন্ট এরদোগানও কড়া ভাষায় সুইডেনকে পরিণতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ন্যাটোতে যোগ দিতে সুইডেনের উচিৎ নয় আর আমাদের সমর্থন আশা করা। এটা স্পষ্ট যে যারা আমাদের দেশের দূতাবাসের সামনে এই ধরনের অপমান জনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা তাদের আবেদনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে আর কোনো সাহায্য আশা করতে পারে না। 

সুইডেনের কর্তৃপক্ষই রোববারের ওই বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছিল। ড্যানিশ পার্টির একজন কট্টোর ডানপন্থী রাজনীতিক ওই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। সেখানে কোরআন পোড়ানোর তীব্র নিন্দাও জানান এরদোগান। বলেন, এটি শুধু ধর্মাবমাননা, এটি বাক স্বাধীনতা নয়। সুইডেনের সরকারও এই বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোবিয়াস বিলস্ট্রম বলেছেন, সুইডেনের মতপ্রকাশের সুদূরপ্রসারী স্বাধীনতা রয়েছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে সুইডিশ সরকার বা আমি এ ধরণের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি।

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগদানের জন্য আবেদন করে। এ জন্য তাদের তুরস্কের সমর্থন দরকার ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সেই সম্ভাবনাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ন্যাটো দেশগুলিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সুইডেনে হওয়া ঘটনা সমর্থনযোগ্য না হলেও আইনত সেটি অবৈধ ছিল না। 

ওই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়ায় সুইডিশ সরকারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ তুরস্ক। বলেছে এটি ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’। সোমবার তার টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে এরদোগান বলেন, সেইন্টদের অপমান করার অধিকার কারো নেই। যখন আমরা কিছু বলি, আমরা সততার সাথে বলি। কিন্তু যখন কেউ আমাদের অসম্মান করে, আমরা তাদেরকে তাদের যোগ্য স্থানে আটকে রাখি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, জর্ডান ও কুয়েতের মতো একাধিক আরব দেশ এরইমধ্যে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সৌদি আরব সংলাপ, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং ঘৃণা ও চরমপন্থা প্রত্যাখ্যান করছে।




Leave Your Comments


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর