img

পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ২৫

প্রকাশিত :  ১০:০৫, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহতের খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। এছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯০ জন। সোমবার জোহরের নামাজের সময় স্থানীয় পুলিশ লাইন্স এলাকায় অবস্থিত মসজিদে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

নিরাপত্তা বাহিনী ও হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোহরের নামাজের সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী এ বিস্ফোরণ ঘটায়। সে নামাজের সময় সামনের কাতারে অবস্থান করছিল।  আহতদের স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিস্ফোরণে ২৫ নিহত হয়েছে এবং আহত ৯০ জনকে সেখানে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেশের নাগরিকদের রক্ত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মেডিকেল রেড এলার্ট জারি করে বলা হয়েছে, সকল চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি যখন মসজিদে ঢুকছিলেন তখন বিস্ফোরণ ঘটে। এটা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ছিল। জোহরের নামাজ শুরু হওয়া মাত্রই বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদে ১২০ জনের মতো মুসল্লি ছিলেন। যার বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য। 

এর আগে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫০ মুসল্লি আহত হয়েছেন।  তবে আত্মঘাতী হামলাকারী বেঁচে আছেন কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো যায়নি।

ডন জানিয়েছে, বেলা পৌনে ২টার দিকে  বিস্ফোরণ ঘটায় হামলাকারী।  নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।  তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। 

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো। 

img

গাজায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সময় লাগতে পারে ১৫ বছর

প্রকাশিত :  ১০:২০, ১৬ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৫, ১৬ জুলাই ২০২৪

টানা ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা ভূখণ্ডে চালানো ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই আগ্রাসনে গাজা ভূখণ্ড পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

ফিলিস্তিনে নিযুক্ত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, গাজায় যে মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তাতে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সময় লাগতে পারে ১৫ বছর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে ১৫ বছর সময় লাগবে বলে ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সোমবার সংস্থাটি বলেছে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটির পরিচ্ছন্নতার জন্য ৪০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ অপসারণের প্রয়োজন হবে।

ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, বিভিন্ন অবকাঠামোর এসব ধ্বংসাবশেষ ও ধ্বংসস্তুপ গাজা উপত্যকার মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে, কারণ এতে অবিস্ফোরিত বহু বোমা এবং ক্ষতিকারক বিভিন্ন পদার্থ থাকতে পারে।

সংস্থাটি বলেছে, ধ্বংসস্তুপ অপসারণের জন্য ১০০টিরও বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ হবে।

অন্যদিকে ইউএনইপি বলেছে, গাজার কিছু ধ্বংসাবশেষ অ্যাসবেস্টস দ্বারা দূষিত। বিষাক্ত এই খনিজ ক্যান্সারসহ ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করে। সংস্থাটি আরও বলেছে, গাজার ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচে বিপুল সংখ্যক মানুষের দেহাবশেষ চাপা পড়ে আছে।

এদিকে সোমবার দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত শনিবার ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া আল-মাওয়াসিতে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এই হামলার দুইদিন না যেতেই আবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের উপর আরো চাপ সৃষ্টির জন্যই এই কৌশল নিয়েছে দেশটি।

গাজা উপত্যকার আল-মাওয়াসিতে হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিল। জায়গাটি ছিল তাঁবুতে পরিপূর্ণ। শনিবার ইসরাইলের আকস্মিক হামলায় ৯০ জন নিহত এবং অন্তত ৩ শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সোমবারের হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেনি রয়টার্স।

বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা রয়টার্সকে বলেছেন, চতুর্দিকে ধ্বংস্তুপের মধ্যে তারা এখন কোথায় যাবে সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।