img

সোনা পাচারকারীর পক্ষে পুলিশে ফোন দেন পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:৩৩, ২৫ মার্চ ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৯, ২৫ মার্চ ২০২৩

 সোনা পাচারকারীর পক্ষে পুলিশে ফোন দেন পরিবেশমন্ত্রী

দুবাই থেকে অবৈধভাবে আনা সোনা উদ্ধারে পুলিশকে দিয়ে এক যুবককে ধরে থানায় এনে পিটিয়েছিলেন সোনা চোরাকারবারি চক্রের নেতা। ঘটনাটি ঘটেছিল মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানায়। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন ভিআইপির অনুরোধে সোনা উদ্ধারে ওই যুবককে ধরে আনা হয়েছিল। তারা জানত না ভিআইপি একজন সোনা পাচারকারীর জন্য ফোন করেছেন।

ভিআইপির কথা বললেও তার নাম বলেনি পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে সেই ভিআইপির নাম পাওয়া গেছে। তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। থানায় বসে যুবককে মারধর করা ওই সোনা চোরাকারবারি সুলতান মিয়ার বাড়িও মৌলভীবাজারে। খবর প্রথম আলোর

তবে গত বছর আগস্টের শেষ দিকে থানায় এ ঘটনার পর সেখানকার একজন সহকারী উপ পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরিদর্শককে (তদন্ত) বদলি করা হয়। তখনই মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে, সুলতান মিয়া একজন সোনা চোরাকারবারি। দুবাই থেকে অবৈধভাবে দেশে সোনা পাঠান তিনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্যমতে, বিমানবন্দর থানার একটি সোনা পাচারের মামলায় সুলতানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে এখন তিনি কারাগারে নাকি জামিনে আছেন, তা জানা যায়নি। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, একজন ভিআইপি চোরাই সোনা উদ্ধারে তাদের অনুরোধ করবেন, সেটা তারা বুঝতে পারেননি। সোনা উদ্ধারের পর পুলিশ ওই ভিআইপিকে মামলা করার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ গোলাম আজাদ খান গত বুধবার বলেছিলেন, ‘একজন ভিআইপি অনুরোধ করে বলেছিলেন, তার এক আত্মীয়ের বিয়ের জন্য দুবাই থেকে সোনার অলংকার পাঠানো হয়েছে। যার কাছে পাঠিয়েছিলেন, তিনি স্বর্ণ বুঝিয়ে দেননি। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে। পরে আমি পুলিশ দিয়ে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করি। স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।’

তবে পুলিশ শুধু দুবাই থেকে সোনা আনা যুবককে তুলেই আনেনি, তাকে নির্যাতন এবং চোরাকারবারিকেও মারধরের সুযোগ করে দিয়েছিল। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, থানার পরিদর্শকের কক্ষে টেবিলের সামনে কাঁচুমাচু হয়ে আছেন এক যুবক। পাশে দাঁড়ানো কোমরে পিস্তল গোঁজা এক পুলিশ সদস্য। পরিদর্শকের চেয়ারে বসা সুলতান মিয়া ওই যুবককে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। হঠাৎ যুবককে কষে চড় মারেন পুলিশ সদস্য। এ সময় সুলতান মিয়া পরিদর্শকের চেয়ার থেকে উঠে এসে যুবককে মারধর শুরু করেন। যুবক মেঝেতে পড়ে গেলে পা দিয়ে তার মাথা চেপে ধরে লাথি-ঘুষি মারতে থাকেন তিনি।

ওই যুবক দুবাই থেকে অবৈধভাবে সুলতানের সোনা নিয়ে আসা নাজমুল হাসান (৩০)। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তিল্লি গ্রামে। চার লাখ টাকা খরচ করে গত বছর এপ্রিলে দুবাই গিয়েছিলেন তিনি। কাজ না পেয়ে চার মাস পর গত আগস্টে দেশে ফেরেন। বিমানের টিকিট কিনে দেন সুলতান মিয়া। শর্ত অনুযায়ী, সুলতানের দেওয়া দুটি স্বর্ণের বার এবং মোট ৯ ভরি ওজনের স্বর্ণের ৯টি চুড়ি বহন করতে হয় নাজমুলকে। কিন্তু দেশে ফিরে নাজমুল সেই স্বর্ণ সুলতানের লোকের কাছে পৌঁছে দেননি। এরপর সুলতানের হয়ে সেই স্বর্ণ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মানিকগঞ্জ পুলিশ।

মারধর করা পুলিশ সদস্য হলেন ওই থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তারেক আজিজ। কয়েক মাস পর ঘটনাটি জানাজানি হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি সুলতান মিয়া থানার মধ্যে যার চেয়ার থেকে উঠে নাজমুলকে মারধর করেন, সেই পরিদর্শক (তদন্ত) মহব্বত আলীকে বদলি করা হয়। বর্তমানে কিশোরগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ওই ঘটনার আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাটুরিয়া থানার ওসির কক্ষে সুলতান মিয়ার উপস্থিতিতে টাকার লেনদেন হচ্ছে। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নাজমুল ও তার স্বজনেরা জানিয়েছেন, সেখানে সবার উপস্থিতিতে সুলতান মিয়াকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টির দফারফা করা হয়। এর মধ্যে নাজমুল দিয়েছিলেন ছয় লাখ টাকা। আর বাকি টাকা দিয়েছিলেন নাজমুল ফেরার পর অবৈধ সোনাগুলো বিক্রি করে দেওয়া আমির নামের এক আদম ব্যাপারী। নাজমুল জানিয়েছেন, এই আমিরের মাধ্যমে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

সোনা পাচারকারীর হয়ে পুলিশের এ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত লাভের আশায় ওই পুলিশ কর্মকর্তারা আইন ও প্রথাকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন। পুলিশে শৃঙ্খলার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

img

সিলেট নগরীতে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশিত :  ০৯:৫৭, ২০ জুন ২০২৪

গোলাপগঞ্জ থেকে ছোট বোনকে দেখতে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছু আবুল হাসান (২৮)। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনায় তার এক আত্মীয় আহত হয়েছেন। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাদের অপহরণ করে নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি ভবনের ওপর আটকে মুক্তিপন দাবি ও মারধর করে।

পরে রাতেই নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান হাসান। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার পূর্বভাগ কলাশহর গ্রারেম মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে।

হাসান স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। নিহতের ছোট বোনের স্বামী মোস্তফা আকমল জানান, তার স্ত্রীকে দেখতে সম্বন্ধি আবুল হাসান রাত ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সঙ্গে তার এক আত্মীয় ও এক যাত্রী ছিলেন। কদমতলী ওভারব্রিজ এলাকায় আরেক যাত্রী সিএনজিতে ওঠেন। এর পর তারা আর কিছু বলতে পারেন নি। জ্ঞান ফিরলে তারা সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি ভবনের ছাদের ওপর নিজেদের দেখতে পান। এ সময় কয়েক যুবক তাদের মারধর করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের কাছ থেকে তারা মোবাইল ফোন ও ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

হাসানের সঙ্গে থাকা ওই আত্মীয় আহত অবস্থায় নিচে নেমে স্থানীয়দের ঘটনাটি জানান। পরে হাসানকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রাত ১টার দিকে হাসান মারা যান।

বুধবার সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দাফনের আগে আবার ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।

কোতোয়ালি থানার ওসি মঈন উদ্দিন সিপন জানান, পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দাফনের আগে আবার লাশটি সিলেট নিয়ে আসা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।