img

মৌলভীবাজারে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় মহাবিপন্ন ১৩ শকুন

প্রকাশিত :  ০৯:৪৬, ২৭ মার্চ ২০২৩

 মৌলভীবাজারে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় মহাবিপন্ন ১৩ শকুন

জনমত ডেস্ক: দেশে বর্তমানে শকুনের সংখ্যা হাতেগোনা। তার ওপর সম্প্রতি মৌলভীবাজারে হত্যার শিকার হয়েছে ১৩টি মহাবিপন্ন ‘বাংলা শকুন’। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বন বিভাগ। প্রাথমিকভাবে বিষ প্রয়োগে শকুনগুলোকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বন বিভাগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের জরিপ অনুযায়ী, দেশে মাত্র ২৬০টি শকুন ছিল। তার মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ছিল ৮০টি। এই ১৩টি শকুনের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা আরও কমে গেলো।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার মিত্র জানান, শকুন হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) রাতে বন বিভাগের মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া পার্কের বিট অফিসার আবু নাঈম মোহাম্মদ নুরুন্নবী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাতে মো. রোকন মিয়া ও কছনু মিয়া নামে দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগ শকুনের মরদেহ উদ্ধার হওয়া এলাকা থেকে বিষের বোতল উদ্ধার করেছে। ডায়েরির সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ওই বিষের বোতল দুটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

জিডিতে বলা হয়েছে, বন থেকে আসা শিয়াল অভিযুক্ত দুজনের বাড়ির একটি ছাগলকে কামড় দিলে সেটি মারা যায়। এতে মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে মৃত ছাগলের গায়ে বিষ ঢেলে জমিতে ফেলে রাখে। আর তা ওই কুকুর ও শিয়ালগুলো খায়। ঘটনাস্থলে কুকুর ও শিয়ালের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

আবু নাঈম মোহাম্মদ নুরুন্নবী শুক্রবার বিকালে বলেন, ‘স্থানীয় এলাকার মানুষের মুখ থেকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনের নাম পেয়েছি। আর বেশি কোনও তথ্য পাইনি। স্থানীয় লোকজন বলেছে, শিয়ালের কামড়ে ছাগল মারা যায়। পরে ছাগলের মরদেহে বিষ মিশিয়ে জমিতে ফেলে রাখে ছাগলের মালিক।’

আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দিপু শুক্রবার বিকালে বলেন, ‘মৃত শকুনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিভাগে পাঠানো হয়েছে। হয়তো দু-একদিনের মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মর্মাহত ১৩টি শকুনের মৃত্যুতে। গত বৃহস্পতিবার দু-দফায় শকুনের মরদেহগুলো সংগ্রহ করে আইইউসিএনের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিভাগে পাঠানো হয়েছে।’

মারা যাওয়া বিপন্ন প্রজাতির ওই শকুন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ সালে ওই শকুনগুলো দেওরাছড়া চা বাগানের উঁচু একটি গাছে বসতো। ওই গাছটি কেটে ফেলার কারণে আর শকুনগুলো দেখা যায়নি। আবার ২০২১ সালে ওই শকুনের দেখা মেলে। শকুন রক্ষায় জনসাধারণকে আরও সচেতন করে তুলতে হবে।’

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘বন বিভাগ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটি জিডি আকারে রুজু হয়েছে। তদন্ত করে শিগগিরই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

প্রসঙ্গত, আইইউসিএন বাংলাদেশের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি শকুনের শরীরে আইইউসিএনের স্যাটেলাইট ট্যাগ লাগানো হয়েছিল। ওই শকুনকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে শকুনটির অবস্থান একই জায়গায় অনড় ছিল। কোনও সিগন্যাল মিলছিল না। এই অনড় থাকার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে শকুনের মৃত্যুর বিষয়টি ধরা পড়ে।

আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দিপু বলেন, ‘বুধবার (২২ মার্চ) শকুনটির অবস্থান চিহ্নিত করি আমরা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের রসুলপুরের বাসিন্দা ফয়সল আহমদের বাড়ি সংলগ্ন স্থান থেকে দুই দফায় মৃত অবস্থায় মোট ১৩টি বাংলা শকুন উদ্ধার করেছে আইইউসিএন ও বন বিভাগ। এ সময় মৃত ছাগল ও কুকুর-শিয়ালের দেহাবশেষও খুঁজে পাওয়া যায়।’

বন বিভাগ থেকে এরই মধ্যে মৃত শিয়াল, কুকুর ও ছাগলের মরদেহ ও গরুর হাঁড় মাটিতে পুঁতে ফেলেছে, যাতে অন্য কোনও শকুন ওই মাংস খেয়ে মারা না যায়।

এ ধরনের বিষ প্রয়োগের ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে জনসাধারণকে সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।


img

শমশেরনগর হাসপাতাল প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলা নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ১৯:৫৮, ২২ জুন ২০২৪

সালেহ আহমদ (স\'লিপক): মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর জেনারেল হাসপাতালের ড. আব্দুস শহীদ এমপি প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলা নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টায় বিলেত প্রবাসী হোমল্যান্ড ইন্সুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান দানবীর আলহাজ্ব ফয়জুল হক এই নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির নির্বাহী সভাপতি বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান রঞ্জুর সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব ফয়জুল হক।

এসময় তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটি। দোতলায় উঠে মশলা ঢেলে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ফয়জুল হক। এরপর শমশেরনগর হাসপাতালের উন্নতি, দাতা ফয়জুল হকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমাজসেবী আলহাজ্ব মুজিবুল হক, শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মোত্তাকিন, আব্দুস শহীদ, মাওলানা হেলাল উদ্দিন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী মুকুল, হাজী ইউসুফ আলী, আমিনুল হক খোকন, মতিউর রহমান সাহেদ, মোস্তাফিজুর রহমান পারুল, সোনাই মিয়া, শাজাহান সিরাজ, মিজানুর রহমান, আবুল লেইছ, শমরেন্দ্র সেন শর্মা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালের কার্যক্রম ও সর্বশেষ অবস্থা ব্যাখা করে হাসপাতাল কমিটির নির্বাহী সভাপতি বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী ও নির্বাহী সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান রঞ্জু বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল উদ্বোধন না হলেও বিগত দেড় মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে (রেজিস্ট্রেশন ছাড়া) আগত রোগীদের আউটডোর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক রোগী শমশেরনগর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য, মৌলভীাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মেলাগড় গ্রামের প্রবাদপুরুষ বিলেত প্রবাসী হোমল্যান্ড ইন্সুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান দানবীর আলহাজ্ব ফয়জুল হক এর অর্থায়নে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ও টেংরা ইউপি সহ বিভিন্ন এলাকায় কলেজ, হাই স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ এতিমখানা, ঈদগাহ, দাতব্য চিকিৎসা সহ অসংখ্য সেবামূলক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গঁড়ে উঠেছে।

দানবীর আলহাজ্ব ফয়জুল হক শমশেরনগর জেনারেল হাসপাতাল প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলা কিডনি বিভাগের যাবতীয় নির্মাণ ব্যায় বহন করবেন। শমশেরনগর জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি এই ফ্লোরটি দানবীর আলহাজ্ব ফয়জুল হক নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত ইতিপূর্বে নিয়ে রেখেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকাল সোয়া ৫টায় তিন বন্ধুকে সাথে নিয়ে বৃটেন প্রবাসী আব্দুল মছব্বির শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন করে হাসপাতাল তহবিলে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

হাসপাতাল কমিটির নির্বাহী সভাপতি বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান রঞ্জুর সঞ্চালনায় অতিথি আব্দুল মছব্বিরকে এসময় শমশেরনগর হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

আলোচনা পর্বে বৃটেন প্রবাসী আব্দুল মছব্বির বলেন, ভালো কাজে শত বাঁধা আসবে। আপনাদের ঐক্যবদ্ধ কাজ সে বাঁধাকে দূরে ঠেলে এগিয়ে যাবে। নিষ্ঠার সাথে আপনাদের এ ভালো কাজ সরেজিমন দেখে আমি মুগ্ধ। তাই আজ তিন বন্ধুকে সাথে নিয়ে এ কাজ দেখালেন। বন্ধুদেরকে বলবো, তারাও যেন শমশেরনগর হাসপাতাল তহবিলে দান করেন। এরপর আব্দুল মছব্বির শমশেরনগর হাসপাতাল তহবিলে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

এসময় শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শমশেরনগর হাসপাতাল ইংল্যান্ড কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিয়মিত নতুন নতুন দাতা সংগ্রহ করে হাসপাতাল তহবিল সমৃদ্ধ করছেন। শমশেরনগরের সন্তান ইংল্যান্ড প্রবাসী আব্দুল গনি চৌধুরী সম্প্রতি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের সূর্যসন্তান ইংল্যান্ড প্রবাসী আব্দুল মছব্বিরকে ওয়াটসআপ জুম মিটিংয়ে যুক্ত করেছিলেন। সেই মিটিংয়ে আব্দুল মছব্বির শমশেরনগর হাসপাতাল কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়ে তিনি বলেছিলেন জুন মাসে বাংলাদেশে আসবেন এবং সুযোগ করে শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন এবং হাসপাতাল তহবিলে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।