প্রকাশিত :  ১০:১১, ৩০ মার্চ ২০১৯
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৮, ৩০ মার্চ ২০১৯

এনবিআরের সার্ভার জালিয়াতিতে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত

এনবিআরের সার্ভার জালিয়াতিতে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত
  • জনমত রিপোর্ট ।। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিংয়ের চক্রটিকে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা মিজানুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। তার নেতৃত্বেই ভয়াবহ এ জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকার ওয়াইন ও সিগারেট খালাস করে নেওয়া হয়।

তবে শুধু মিজানুর রহমানই নয়, এ ঘটনায় দায় আছে এনবিআরের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের আইটি টিমের। সংশ্লিষ্টতা আছে কাস্টমস কর্মকর্তাদেরও।

বৃহস্পতিবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, ভয়াবহ এ জালিয়াতি আমরাই উদঘাটন করেছি। শুরুতে আমরা এসব পণ্য যাতে কোনোভাবেই খালাস না হয় তার জন্য সার্ভার লক করে রেখেছিলাম। কিন্তু পরে কাগজপত্রে পণ্য লক থাকলেও স্পটে গিয়ে আমরা এসব পণ্য খুঁজে পাই নাই।

তিনি আরো বলেন, চক্রটি ডি স্টীল পণ্যের আমদানির ঘোষণা দিলেও এনেছিল ওয়াইন ও সিগারেট। এসব পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা আছে। তাই তারা শুল্ক ফাঁকি দিতে এ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।

ড. সহিদুল ইসলাম আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে গেলে ভয়াবহ সব তথ্য আমাদের সামনে চলে আসে। এ ঘটনায় মূল ব্যক্তি একজন। তিনি ব্যবসায়ী বর্তমানে একটা কোম্পানির মালিক। আর সহযোগী হিসাবে অনেকেই আছে। কাস্টমের লোকজনের সংশ্লিষ্টতাও মিলতে পারে। তবে আইটি টিম যদি একটুও তৎপর হতো তাহলে এ ঘটনা ঘটতো না।

তিনি আরো বলেন, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটি আমাদের নজরদারির মধ্যে আছে। শীঘ্রই সবাই গ্রেফতার হবে। তাদের বিদেশ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। এরমধ্যে মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ২০১৮ সালের ২৪ জুন পণ্য শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে আইনগত পন্থায় শুল্কায়নোত্তর খালাস প্রদান করার জন্য কাস্টম হাউস চট্টগ্রামকে অনুরোধ করে। কিন্তু নির্দেশনা না মেনে পরবর্তীতে এসব পণ্য শুল্ক গোয়েন্দাকে না জানিয়েই খালাস করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হতে সংশ্লিষ্ট বিল অব এন্ট্রির বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইউজার আইডি নং- d.a.m.mohibul.islam@gmail.com দ্বারা Inspection Act Modify করে লক খোলা হয়।

ওইদিন বিকেল ৪.৫৮ মিনিটে এক্সিট নোট ইস্যু করে চালানটি খালাস নেওয়া হয়। একই ইউজার আইডি পর দিনই ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফের লক দেখানো হয়।

কাস্টম হাউস চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা ডি.এ.এম. মহিবুল ইসলামের বিপরীতে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম শুল্কায়নের জন্য ইউজার আইডিটি ইস্যু করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কাস্টম হাউস চট্টগ্রামের বিল অব এন্ট্রি নং-সি-৯২০৯২৮ অনুযায়ী চালানটির আমদানিকারক জারার এন্টার প্রাইজ। ঠিকানা ৫/৬, আহসান উল্লাহ রোড, গুলশান আরা সিটি, ঢাকা। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল এম/এস চাকলাদার সার্ভিস, ৪/এ, হেয়ার স্ট্রিট, ওয়ারি, ঢাকা।

এ জালিয়াতি চক্র ডি এ এম মহিবুল ইসলামের অবমুক্তির পর তার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জাল দলিল সৃজনের মাধ্যমে শতাধিক চালান খালাস করে নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হতে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে কাস্টমস গোয়েন্দা প্রায় ৪,০০০ বিল অব এন্ট্রির ক্ষেত্রে এ জাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পারে, যা মামলার তদন্তে আমলে আনা যেতে পারে।

এছাড়া অন্য একজন কাস্টমস কর্মকর্তা মো: ফজলুল হকের ইউজার আইডি একইভাবে জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কন্টেইনার খালাস করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পণ্য খালাস করায় আমদানিকারক জারার এন্টারপ্রাইজ এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট এম/এস চাকলাদার সার্ভিস ও সিএন্ডএফ এজেন্ট এম আর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামি মোঃ মিজানুর রহমান চাকলাদারকে কাকরাইল হতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত কমিটির প্রধান কমিশনার (আপিল) ফখরুল আলম, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল হাকিম, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) কমিটির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিচালক খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন এবং চট্টগ্রাম কাস্টমসের গঠিত কমিটির প্রধান যুগ্ম কমিশনার এইচ এম শরিফুল হাসান।




Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর