img

হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দেওয়া সেই মখলিছুরের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত :  ১০:০৪, ২৫ মে ২০২৩

 হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দেওয়া সেই মখলিছুরের বিরুদ্ধে মামলা

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দেওয়া হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সেই এম মখলিছুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও পরিবারসহ হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগে গত সোমবার সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন মোস্তাফিজুর রহমান মর্তুজ নামের এক ব্যক্তি। মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান মর্তুজ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের তরাবত উল্লার ছেলে।

অভিযুক্ত এম মখলিছুর রহমান চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামে মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী কানন আলম বলেন, ‘সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দাখিল করা হয়। আদালত মামলা গ্রহণ করে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ ধরনের কোনো মামলা আসেনি, আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মামলায় এম মখলিছুর রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামে আব্দুল কাদির মুন্সির ছেলে শাজাহান মুন্সি (৪৬), মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে মো. সাহাব উদ্দিন মুন্সি, মো. সাহাব উদ্দিন মুন্সির ছেলে সাজু চৌধুরী, মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে শাহানুর মুন্সি ও মৃত আব্দুল কাদির মুন্সির ছেলে শাহ জামাল মুন্সি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মর্তুজের মালিকানাধীন মেসার্স মুন্সি ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। এর অর্ধেক মালিকানা বিক্রি করার জন্য শাজাহান মুন্সির সঙ্গে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে একটি অঙ্গীকারনামা করা হয়। পরবর্তী সময় মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে শাজাহান মুন্সির ছোট ভাই শাহ জামাল মুন্সি নিজে দায়ভার গ্রহণ করে আরেকটি চুক্তি করেন এবং দুটি চেক প্রদান করেন। পরে টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধ করা হবে না, বুঝতে পেরে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ১০ মে (বুধবার) আসামিদের প্ররোচনায় ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট দেন এম. মখলিছুর রহমান। যা অন্য আসামিদের সহযোগিতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে বিরক্ত, অপমান ও হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

এ ব্যাপারে মোস্তাফিজুর রহমান মর্তুজ বলেন, ‘শাজাহান মুন্সি ও তার ভাইয়ের কাছে আমি টাকা পাই। যার প্রমাণাদি রয়েছে। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করার জন্য মখলিছুর রহমানকে ভাড়া করে এনে তাকে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানিকর ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।’

মামলা দায়েরের বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে এম. মখলিছুর রহমান বলেন, ‘আমি মামলায় ভীত নই। আমাকে আসামি করায় আমার ফেসবুকের ভিউ আরও বাড়বে।’

এম. মখলিছুর রহমানের ফেসবুকে দেওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, শাজাহান মুন্সি গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে মোস্তাফিজুর রহমান মর্তুজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন।


img

সিলেট নগরীতে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশিত :  ০৯:৫৭, ২০ জুন ২০২৪

গোলাপগঞ্জ থেকে ছোট বোনকে দেখতে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছু আবুল হাসান (২৮)। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনায় তার এক আত্মীয় আহত হয়েছেন। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাদের অপহরণ করে নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি ভবনের ওপর আটকে মুক্তিপন দাবি ও মারধর করে।

পরে রাতেই নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান হাসান। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার পূর্বভাগ কলাশহর গ্রারেম মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে।

হাসান স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। নিহতের ছোট বোনের স্বামী মোস্তফা আকমল জানান, তার স্ত্রীকে দেখতে সম্বন্ধি আবুল হাসান রাত ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সঙ্গে তার এক আত্মীয় ও এক যাত্রী ছিলেন। কদমতলী ওভারব্রিজ এলাকায় আরেক যাত্রী সিএনজিতে ওঠেন। এর পর তারা আর কিছু বলতে পারেন নি। জ্ঞান ফিরলে তারা সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি ভবনের ছাদের ওপর নিজেদের দেখতে পান। এ সময় কয়েক যুবক তাদের মারধর করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের কাছ থেকে তারা মোবাইল ফোন ও ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

হাসানের সঙ্গে থাকা ওই আত্মীয় আহত অবস্থায় নিচে নেমে স্থানীয়দের ঘটনাটি জানান। পরে হাসানকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রাত ১টার দিকে হাসান মারা যান।

বুধবার সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দাফনের আগে আবার ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।

কোতোয়ালি থানার ওসি মঈন উদ্দিন সিপন জানান, পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দাফনের আগে আবার লাশটি সিলেট নিয়ে আসা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।