img

নিউহ্যাম কাউন্সিলের স্পিকার হলেন রহিমা

প্রকাশিত :  ১১:৪৫, ২৫ মে ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৭, ২৫ মে ২০২৩

নিউহ্যাম কাউন্সিলের স্পিকার হলেন রহিমা

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডনঃ পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম সিটি কাউন্সিলে প্রথমবারের মত স্পীকার নির্বাচিত হয়ে ব্রিটেনের বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশের মুখ উজ্বল করলেন নবীগঞ্জের মেয়ে কাউন্সিলার রহিমা রহমান। 

নিউহ্যাম সিটি কাউন্সিলে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশী স্পীকার। ২২ মে সোমবার বিকেলে ষ্টার্টফোর্ড ওল্ড টাউন হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। 

নিউহ্যাম কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র পাকিস্তানী বংশোদ্ভত রোকশানা ফিয়াজ ওবিই’র আমন্ত্রমে ঐতিহাসিক এই ইভেন্টের সাক্ষী হতে সরকারী কর্মকর্তা—কর্মচারী ও ব্রিটিশ ম্যালটিক্যালচারাল সোসাইটির বিশিষ্টজন সহ কয়েক শ’ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী স্পীকার আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মিঃ  উইনসন বনের কাছ থেকে  আনুষ্ঠানিকভাবে রহিমা রহমান  দায়িত্বভার  গ্রহন করেন। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিঃ সেলিম প্যাটেল। 

নিউহ্যাম সিটি কাউন্সিলে ৬৬ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ৬৩ জন লেবার দলীয়, দু’জন গ্রীণ পার্টির ও একজন স্বতন্ত্র।  ৬৬ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশী, দুই জন ব্রিটিশ ভারতীয় বাঙালি কাউন্সিলর রয়েছেন। 

স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহন করে রহিমা রহমান বলেন, নিউহ্যামের জনগণ তাদের প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি মহিলা স্পিকারকে বেছে নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমি প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নিজকে গৌরবান্নিত মনে করছি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার মত দায়িত্বে মহিলারা এগিয়ে আসতে হতে আরো উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন, “বহুজাতিক নিউহ্যাম বারাতে সকল ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করছে। এখানে রয়েছে সাম্প্রদাযিক সম্পৃতির এক  অটুট বন্ধন। আমাদের সম্প্রীতির এই বন্ধনকে আরো গতিশীল করতে কাজ করব। এখানে উগ্রবাদ বর্ণবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই।  নিউহ্যামই ব্যতিক্রমী বারা যেখানে বড়দিন, ঈদ, দিওয়ালী, দূর্গাপূজা  সহ সকল উৎসব সাড়ম্বরে পালন করা হয়। 

এখানে উল্লেখ্য যে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মোস্তফাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া কাউন্সিলার রহিমা রহমান শিশুকালে পিতামাতার সাথে ব্রিটেনে আগমন করেন। বেড়ে উঠেছেন নিউহ্যামের বহুজাতিক সমাজে। তার পিতা মরহুম হাফিজ আবুল খয়ের হোসেনও ছিলেন একজন সমাজ হিতৈষী মানুষ।  

কাউন্সিলার রহিমা রহমান ১৯৯০ সালে ব্রিটেনের মূল ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ২০০৬ সালে প্রথম লেবার পার্টি থেকে গ্রীণ ষ্ট্রীট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। তবে এবার নির্বাচিত হয়েছেন বেকটন ওয়ার্ড থেকে। তার স্বামী সাবেক ছাত্র নেতা মুজিবুর রহমান জসিম ও নিউহ্যাম কাউন্সিলের গ্রীণ ষ্ট্রীট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

প্রকাশিত :  ১২:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৪

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে  গত বুধবার,১৭ এপিরীর ২০২৪,ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (কর্মাস) সেলিম রেজা ও ফার্স্ট সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান নুর।

বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে ‘বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক।প্রতীক।

রাষ্ট্রদূত ইমরান আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মুজিবনগর সরকার ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা, এবং মুজিবনগর সরকারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সাফল্য গাঁথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ইমরান বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মসহ সকলের ভালোভাবে জানার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি জাতিকে মাথা উঁচু করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করার অনুরোধ জানান।

কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং ঐতিহাসিক এই দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ছিল মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী সকল শহিদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। কর্মসূচী পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি আতাউর রহমান।

কমিউনিটি এর আরও খবর