img

স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে এক সন্তানের জননী

প্রকাশিত :  ১২:১৮, ০২ জুন ২০২৩

স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে এক সন্তানের জননী

নীলফামারীর ডোমারে ছাত্রলীগ নেতার নারী কেলেঙ্কারি ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়েছে। স্ত্রীর দাবি নিয়ে এক সন্তানের জননী তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) দুপুরের পর থেকে ছাত্রলীগ নেতার সাহাপাড়াস্থ বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন ওই নারী। ওই নারীকে দেখে পালাতে গিয়ে পা মচকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা পাপন।

জানা গেছে, ডোমার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডোমার পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের ছোটরাউতা সাহাপাড়া এলাকার দেবরঞ্জন সর্বজ্ঞের ছেলে অভিজিৎ সর্বজ্ঞ পাপন। গত ৯ বছর আগে গোপনে বিয়ে করেন এক সন্তানের জননীকে। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। ঘটনার দিন স্ত্রীর দাবি নিয়ে ওই নারী ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে আসলে ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারী ছাত্রলীগ নেতা পাপনের বাড়িতে আসেন। তখন তাকে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন পাপন। এ সময় ওই নারীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এসময় ওই নারীর চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ডোমার থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। সমাধানের এক পর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির পেছন দিয়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তার পা মচকে যায়। পরে পুলিশ হেফাজতে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাত্রলীগ নেতাকে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ২০১৩ সালে পাপনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। আমার একটি সন্তান রয়েছে এটা জেনে সে ২০১৪ সালে পঞ্চগড়ের বোদেশ্বরি মন্দিরে আমরা বিয়ে করি। পরে পাপন আমাকে বলে, এখন কাউকে কিছু জানাইও না। আমার মায়ের হার্টের সমস্যা, মাকে আমি ম্যানেজ করে তোমাকে বাড়িতে নিয়ে যাব। এখন তুমি ভাড়া বাসায় থাকো। আমি যখন সাহাপাড়া নারু সাহা নামের এক ব্যাক্তির বাড়িতে ভাড়া ছিলাম। সে সময় তার মা আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে আমাকে গালিগালাজ করেন ও মারতে আসেন। পরে বাড়িওয়ালা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে নীলফামারী ও ডোমার শহরের বিভিন্ন জায়গায় আমরা বাসা ভাড়া করে সংসার করে আসছিলাম।

কিন্তু গত একমাস হলো, পাপন আমার সঙ্গে আর দেখা করে না, খোঁজও নেয় না। এমনকি, আমার মোবাইল ফোনও রিসিভ করে না। এখন সে আমাকে স্ত্রী বলে অস্বীকার করছে। এরমধ্যে আমার তিন মাসের পেটের বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে। আজ আমি তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে। সে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা অভিজিৎ সর্বঙ্গ পাপন বলেন, ওই নারীর তিনটা স্বামী আছে। সে বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে ব্লাকমেইল করে টাকা নেয়। আমার কাছেও টাকা চায়। তার একটা ছেলে আছে। আমি অবিবাহিত একটা ছেলে। সে আজ পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে এসেছে। এরই মধ্যে পাপন এবং ওই নারীর অন্তরঙ্গ মেলামেশার কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

img

বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৯:৪৬, ১৭ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৯, ১৭ জুলাই ২০২৪

দেশব্যাপী চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট  শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।”

দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি সফল করতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আগামীকালের কর্মসূচি সফল করুন।”

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। আজ বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর