img

ঔপন্যাসিক মিলান কুন্ডেরা মারা গেছেন

প্রকাশিত :  ১৫:১০, ১২ জুলাই ২০২৩

ঔপন্যাসিক মিলান কুন্ডেরা মারা গেছেন

‘দ্য আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিং’ নামের বিখ্যাত উপন্যাসের রচয়িতা মিলান কুন্ডেরা মারা গেছেন। চেকোস্লোভাকিয়ায় জন্ম নেওয়া এই লেখকের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

মিলান কুন্ডেরার ব্যক্তিগত সংগ্রহ নিয়ে গড়ে তোলা মোরাভিয়ান লাইব্রেরির (এমজেডকে) মুখপাত্র আনা ম্রাজোভা বুধবার এই লেখকের মৃত্যুসংবাদ দেন।

তিনি জানান, ‘দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মিলান কুন্ডেরা গতকাল প্যারিসে মারা যান।’

চেকোস্লোভাকিয়ার ব্রানোতে জন্ম তার। ১৯৬৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের সমালোচনা করার জন্য তাকে একঘরে করা হয়। এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমান।

মিলান কুন্ডেরার লেখার বৈশিষ্ট্য ছিল, দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে নানা তত্ত্ব ও দর্শন মিলিয়ে দেওয়া। এ বিষয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন শক্তিশালী স্বতন্ত্র ধারা। পেয়েছেন বহু পাঠকের প্রশংসা।

এই লেখক খুব কম সাক্ষাৎকার দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, লেখকেরা কথা বলবেন তাদের লেখার মধ্য দিয়ে। তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জোক’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। সেখানে তৎকালীন চেকোস্লোভাক কমিউনিস্ট শাসনের রূঢ় চিত্র তুলে ধরেন। এই বইটি ছিল দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠার পথে তার প্রথম ধাপ।

১৯৭৬ সালে ফ্রান্সের দৈনিক ল্য ম্যঁদ–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘তার কাজকে রাজনৈতিক আখ্যা দেওয়াটা অতি সরলীকরণ এবং তা করা হলে, তার লেখার প্রকৃত তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়।’

img

না ফেরার দেশে কবি অসীম সাহা

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৮ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৮ জুন ২০২৪

খ্যাতিমান কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কবির ছেলে অর্ঘ্য সাহা। অর্ঘ্য সাহা জানান, তার বাবার মরদেহ দান করা হবে।

কবি অসীম সাহা পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর। তার বাবা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক।

অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

অসীম সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পূর্ব পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কবি অসীম সাহা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

খ্যাতিমান এ কবির মৃত্যুতে তার গুণগ্রাহী কবিরাসহ নানা স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। তার রেখে যাওয়া শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।