img

ইবিতে আবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ইবিতে আবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনার সুরাহা হতে না হতেই সিনিয়র কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে নবীন ছাত্রকে র‌্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। শনিবার পাঁচ সিনিয়র শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগপত্রের কপি রেজিস্ট্রার, ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর ও বিভাগীয় সভাপতি বরাবর জমা দিয়েছেন। নবীনবরণের দিনে এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় রোববার পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ছয় পাতার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে-২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে নাজেহাল করেছেন। দুই দফায় নানাভাবে তাকে মানসিক হেনস্তা ও গালিগালাজ করা হয়েছে। তাদের কথা না শুনলে ‘ব্যাচ আউট’ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া বিভাগের সব সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করার ভয় দেখানো হয়। অভিযুক্তরা হলেন-একই বিভাগের হিশাম নাজির শুভ, মিজানুর রহমান ইমন, পুলক, আকিব ও সাকিব। এর আগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ই-মেইলে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারকে অভিযোগ জানান।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়-২ সেপ্টেম্বর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের পর তাকে কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের পর জিমনেশিয়ামের পেছনে নিয়ে এবং সন্ধ্যায় সাদ্দাম হোসেন হলের পাশে নিয়ে দুই দফায় তাকে ম্যানার শেখানোর নামে র‌্যাগিং করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওইদিন দুপুরে তাকে যখন র‌্যাগ দেওয়া হচ্ছিল তখন ক্যাম্পাসে ‘র‌্যাগিং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে’ বলে মাইকিং চলছিল। পরদিন বিকালে বিভাগের খেলায় অংশ নিতে দেরি করায় তার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন তারা। সিনিয়রদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট না পাঠানোর কারণেও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় বলা হয়-তারা যখন ডাকবে তখনই আসতে হবে। কথা না শুনলে ‘ব্যাচ আউট’ ও বিভাগের সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করাসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

অভিযোগ তদন্তে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলীবুদ্দীন খানকে সদস্য সচিব করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরীন, আইন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনিচুর রহমান ও সহকারী প্রক্টর মিঠুন বৈরাগী। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এখনো চিঠি পাইনি। সোমবার চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। প্রক্টর ও অ্যান্টি র‌্যাগিং ভিজিলেন্স কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, বিভাগের সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়েছি। একজন সহকারী প্রক্টরকে তার সার্বিক নিরাপত্তার খোঁজখবর রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য) প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা এর আরও খবর

কোটা সংস্কার আন্দোলন

img

বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৬:০২, ১৭ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৬, ১৭ জুলাই ২০২৪

দেশব্যাপী চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট  শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।”

দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি সফল করতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আগামীকালের কর্মসূচি সফল করুন।”

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। আজ বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শিক্ষা এর আরও খবর