img

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের লেখক গীতা মেহতা আর নেই

প্রকাশিত :  ০৯:১৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের লেখক গীতা মেহতা আর নেই

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের লেখক এবং ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের বড় বোন গীতা মেহতা আর নেই। শনিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির বাসভবনে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

৮০ বছর বয়সী গীতা মেহতা মৃত্যুকালে তার ছেলেকে রেখে গেছেন। আর তার প্রকাশক স্বামী সনি মেহতা আগেই মারা গেছেন। বিশিষ্ট লেখক, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং সাংবাদিক গীতা মেহতা ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এবং ব্যবসায়ী প্রেম পট্টনায়কের বড় বোন। 

১৯৪৩ সালে বিজু পট্টনায়ক ও জ্ঞান পট্টনায়কের কোল আলো করে দিল্লিতে জন্ম হয়েছিল গীতার।

ভারতের পড়াশোনা শেষ করে ইউকের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেল নিজের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন গীতা। তাঁর লেখা একাধিক গ্রন্থ ব্যাপকভাবে সমাদৃত। ‘কর্ম কোলা’, \'স্নেক\',\'ল্যাডার\', \'এ রিভার সূত্র\', \'দ্য ইটারনাল গণেশা\' এমন বহু ধরনের বই তিনি লিখেছেন। 

ভারতীয় বার্তাসংস্থা আইএএনএস বলছে, গীতা মেহতা ১৯৭০-৭১ সালে আমেরিকান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন।

আর তার সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তার বহুল প্রশংসিত তথ্যচিত্র ‘ডেটলাইন বাংলাদেশ’-এ বর্ণনা করেছেন।

এদিকে, গীতা মেহতার প্রয়াণে শোকের ছায়া ভারতের সব মহলে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, গীতা মেহতার প্রয়াণে শোক বার্তা পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, \'শোকাহত\'।

নিজের শোকবার্তায় মোদি লেখেন, ‘তিনি একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তার বুদ্ধিমত্তা এবং লেখালেখির পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আগ্রহের জন্য পরিচিত। তিনি প্রকৃতি এবং পানি সংরক্ষণ সম্পর্কে উৎসাহী ছিলেন।’



img

না ফেরার দেশে কবি অসীম সাহা

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৮ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৮ জুন ২০২৪

খ্যাতিমান কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কবির ছেলে অর্ঘ্য সাহা। অর্ঘ্য সাহা জানান, তার বাবার মরদেহ দান করা হবে।

কবি অসীম সাহা পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর। তার বাবা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক।

অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

অসীম সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পূর্ব পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কবি অসীম সাহা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

খ্যাতিমান এ কবির মৃত্যুতে তার গুণগ্রাহী কবিরাসহ নানা স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। তার রেখে যাওয়া শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।