img

নিজার হত্যা: ভারতের প্রতি কানাডার তদন্তে সহায়তা করার আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:৫৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজার হত্যা: ভারতের প্রতি কানাডার তদন্তে সহায়তা করার আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

শিখ নেতা হরদিপ সিং নিজার হত্যাকাণ্ডে কানাডার তদন্তে সহায়তা করতে ভারতের প্রতি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। ১৮ই জুন কানাডার ভ্যানকোভারের কাছে দুই আততায়ী নিজারকে গুলি করে হত্যা করে। এ নিয়ে কানাডার অভিযোগ, এই হত্যায় ভারত সরকার এবং তার এজেন্টরা জড়িত। ভারত এ অভিযোগকে উদ্ভট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে। 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এ ইস্যুতে কথা বলেন ব্লিঙ্কেন। তিনি জবাবদিহিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং ভারতের প্রতি আহ্বান জানান একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সমর্থন দিতে। ব্লিঙ্কেন বলেন, আমরা জবাবদিহিতা দেখতে চাই। তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল বেরিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ। ব্লিঙ্কেন বলেন, আন্তর্জাতিক দমন মারাত্মক একটি গুরুতর ইস্যু। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। 

সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তদন্তে তাদের সহযোগিতা চান।

কিন্তু ভারত এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। 

উল্লেখ্য, নিজার একজন পাঞ্জাবি এবং কানাডার নাগরিক। তিনি ভারতের পাঞ্জাবে ‘খালিস্তান’ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জড়িত। এ জন্য ভারত তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সিনিয়র একজন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে দুই দেশই। কানাডায় অবস্থানরত ভারতীয় দূতাবাসের স্টাফ সংখ্যা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে কানাডিয়ানদের জন্য ভারতীয় ভিসা দেয়া স্থগিত করেছে। 

একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান জোর দিয়ে বলেছেন, এক্ষেত্রে ভারত বিশেষ কোনো ছাড় পাবে না। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাষ্ট্রীয় সফরে আপ্যায়িত করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের বিষয়টি জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। 

এমন অবস্থায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সুলিভান জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো দেশ জড়িত থাক না কেন যুক্তরাষ্ট্র তার নীতিতে অটল থাকবে। 

উল্লেখ্য, নিজার হত্যায় ভারত সরকার এবং তার গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ জড়িত এমন ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ উত্থাপন করেছে কানাডা। এই হত্যার তদন্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছেন কানাডার একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে এমন ধারণার কথা প্রত্যাখ্যান করেন সুলিভান। তিনি বলেন, তাদের অভিন্ন উদ্বেগ আছে এ বিষয়ে। তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং এই হত্যায় জড়িতদের জবাবদিহিতা চান।

img

গাজায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সময় লাগতে পারে ১৫ বছর

প্রকাশিত :  ১০:২০, ১৬ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৫, ১৬ জুলাই ২০২৪

টানা ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা ভূখণ্ডে চালানো ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই আগ্রাসনে গাজা ভূখণ্ড পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

ফিলিস্তিনে নিযুক্ত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, গাজায় যে মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তাতে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সময় লাগতে পারে ১৫ বছর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে ১৫ বছর সময় লাগবে বলে ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সোমবার সংস্থাটি বলেছে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটির পরিচ্ছন্নতার জন্য ৪০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ অপসারণের প্রয়োজন হবে।

ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, বিভিন্ন অবকাঠামোর এসব ধ্বংসাবশেষ ও ধ্বংসস্তুপ গাজা উপত্যকার মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে, কারণ এতে অবিস্ফোরিত বহু বোমা এবং ক্ষতিকারক বিভিন্ন পদার্থ থাকতে পারে।

সংস্থাটি বলেছে, ধ্বংসস্তুপ অপসারণের জন্য ১০০টিরও বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ হবে।

অন্যদিকে ইউএনইপি বলেছে, গাজার কিছু ধ্বংসাবশেষ অ্যাসবেস্টস দ্বারা দূষিত। বিষাক্ত এই খনিজ ক্যান্সারসহ ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করে। সংস্থাটি আরও বলেছে, গাজার ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচে বিপুল সংখ্যক মানুষের দেহাবশেষ চাপা পড়ে আছে।

এদিকে সোমবার দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত শনিবার ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া আল-মাওয়াসিতে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এই হামলার দুইদিন না যেতেই আবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের উপর আরো চাপ সৃষ্টির জন্যই এই কৌশল নিয়েছে দেশটি।

গাজা উপত্যকার আল-মাওয়াসিতে হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিল। জায়গাটি ছিল তাঁবুতে পরিপূর্ণ। শনিবার ইসরাইলের আকস্মিক হামলায় ৯০ জন নিহত এবং অন্তত ৩ শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সোমবারের হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেনি রয়টার্স।

বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা রয়টার্সকে বলেছেন, চতুর্দিকে ধ্বংস্তুপের মধ্যে তারা এখন কোথায় যাবে সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।