img

বাংলাদেশে অলিগার্কদের উত্থান ও গণতন্ত্রের সংকট

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৯, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশে অলিগার্কদের উত্থান ও গণতন্ত্রের সংকট

মোতাহার হোসেন চৌধুরী

প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘Oligoi’ (few) ও ‘Arkhein’ (to rule) থেকে ‘অলিগার্ক’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়। দুর্নীতি সাধনে চরম ক্ষমতাচর্চায় বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির বর্ণনা করতে গিয়ে অ্যারিস্টটল অলিগার্ক শব্দটি ব্যবহার করতেন।

অ্যারিস্টটল বলতেন—এটি হচ্ছে একধরনের অপকৃষ্ট করা আভিজাত্য। (Aristotle used it to describe a privileged few exercising despotic power for corrupt purposes— a debased kind of aristocracy). এবং তিনি বলেছেন—‘অলিগার্কি হলো সরকারের ভেতরে সম্পদশালী ব্যক্তির হাত থাকা, (‘Oligarchy is when men of property have the government in their hands’)

অলিগার্কের সংজ্ঞা পাওয়া যাচ্ছে এভাবে—‘অলিগার্ক; শব্দটি সম্পদশালী অভিজাত ব্যক্তিদের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যারা শুধুই ক্ষমতা ও অর্থেরই মালিক নন, তারা প্রচুর সম্পদের উৎসগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতি বা সরকারের ওপর অর্থপূর্ণভাবে প্রভাব বিস্তার করে। (‘Oligarch; It’s a word that refers to wealthy elites, people who don’t just hold power and money but who control enough resources to influence politics or government in a meaningful way’) অভিধান অনুযায়ী ‘অলিগার্ক’ এর সমরূপ শব্দ বা শব্দার্থগুলোর কয়েকটি হচ্ছে—কর্তৃত্ববাদী, স্বেচ্ছাচারী, মাফিয়া, সিন্ডেকেট প্রভৃতি।

‘অলিগার্কদের’ নিয়ে আলোচনার ব্যাপকতা পায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার প্রক্রিয়াকালে ও পরে নব্বইয়ের দশক থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ায়। মিখাইল গর্বাচেভের হাত ধরেই সোভিয়েত ইউনিয়ন কম্যুনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে। বামপন্থি বিশাল ‘রাষ্ট্র’ সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙার পরও পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ থেকে যায় রাশিয়াই। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, তেল, গ্যাস, খনিজসহ অসংখ্য শিল্প-কলকারখানা, রিফাইনারি ও অন্যান্য ধনসম্পত্তির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রেই লাভ করে রাশিয়া।

রাশিয়ায় গর্বাচেভের উত্তরসূরি হন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন। কম্যুনিস্ট শাসনের অবসানে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের প্রবর্তনে শাসনতান্ত্রিক নৈরাজ্যের ডামাডোলে রাশিয়ায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীনতা, আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি, রুবলের ভূমিধস দরপতন, নাগরিক সমাজের অকার্যকর ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা-অস্থিরতা, দারিদ্র্য, অধিকারহীনতা ও সম্পদের বৈষম্য-অন্যায্যতার সুযোগে গড়ে ওঠে অলিগার্ক শ্রেণির আধিপত্য। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের শাসন কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হয়ে যান অলিগার্করা।

পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী আমেরিকান সাংবাদিক ও লেখক ডেভিড ইমানুয়েল হফম্যানের ‘দ্য অলিগার্ক’ বইয়ে রাশিয়ার অলিগার্কদের বিস্তারিত বিবরণ আছে। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকার নিবন্ধেও তিনি অলিগার্কদের নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন।

এসব লেখায় বলা হয়েছে, রাশিয়ায় অলিগার্করা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, ক্ষমতাসীনদের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ ও বিপুল বিত্তবৈভবের অধিকারী। তবে তাদের অনেকেই ‘Entrepreneur’ বা ব্যবসার উদ্যোক্তা না হয়েও শুধু সুযোগ সন্ধানী ক্ষমতাশ্রয়ী হয়ে বিশাল ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন অলিগার্কদের মধ্যে কীভাবে ছোট রেস্টুরেন্টের মালিক থেকে দ্রুতই খনিজ তেলের বিশাল ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন।

শুধু ক্ষমতাবৃত্তভুক্ত হয়ে সরকারি সম্পদের, বড় ব্যবসার, ব্যাংকের মালিকানার অধিকারী হয়েছেন অলিগার্করা। রাশিয়ার মানুষরা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে অলিগার্ক শ্রেণির ওপর সরকারের চেয়েও বেশি। ক্ষমতার মালিকদের সাথে যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় সম্পদের একরকমের দখলদারিত্ব সৃস্টি হয় অলিগার্কদের। অলিগার্কদের নিয়ে অদ্ভূত বা বিকৃত প্রোটো-পুঁজিবাদী শাসনকাঠামো তৈরি হয় রাশিয়ায়।

ডেভিড ই হফম্যানের লেখায় রাশিয়ার সেসময়কার কিছু অলিগার্কদের নামও ওঠে আসে। তন্মধ্যে মিখাইল খোদোরকোভস্কি, বরিস বেরেজোভস্কি, ভ্লাদিমির গুচিভস্কি অন্যতম। ভ্লাদিমির গুচিভস্কিকে বলা হতো মিডিয়া-বিনোদন জগতের রাশিয়ান মোগল। এসব অলিগার্ক শ্রেণির সাথে শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর ঘনিষ্ঠতাকে সম্পদ ও ক্ষমতার মধ্যে একধরনের ‘বৈবাহিক পরিণতি’ বা ‘পরিণয়ের’ সঙ্গেই তুলনা করা হয়।

২০০০ সালে ইয়েলৎসিনের বিদায়ের পর প্রেসিডেন্ট পুতিনের শাসন চলছে অদ্যাবধি রাশিয়ায়। পুতিনও অলিগার্কির পথেই হাঁটেন, কিছুটা নতুনভাবে। সে নতুন অধ্যায়, যা এখনও চলছে, সেটি আরো বেপরোয়া ও ভয়ানকভাবে। তার একনায়কতান্ত্রিক, কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী শাসনপদ্ধতিতে রাশিয়া অলিগার্কদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। সেখানে অলিগার্কিতে যুক্ত আছে সামরিক-বেসামরিক ব্যুরোক্রেসিসহ রাষ্ট্রের আরো কিছু নিয়ামক শক্তি।

রাশিয়া তাদেরই দখলে। এ প্রসঙ্গে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর Timothy Frye বলেন— ‘ক্ষমতাবান মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে রাশিয়ায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন।’ (‘It’s difficult to survive without being in good relations with powerful people in Russia’)

পুতিনের আমলে রাশিয়ায় একজন অলিগার্কের উদাহরণ Arkady Rotenberg. তিনি পুতিনেরই বাল্যবন্ধু ও জুডো খেলার সঙ্গী। রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযোগসাধনকারী সেতু নির্মাণে রাষ্ট্রের ব্যয় হয় ৪ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবসাটি Rotenberg-এর প্রতিষ্ঠান করেছে। একই পদ্ধতিতে রাশিয়ার ব্যবসা, শিল্প, ব্যাংক সবই পুতিনযুগের অলিগার্কদের হাতে।

বিবিসির বরাতে জানা যায়, Ambramovich নামের একজন ব্যবসায়ীর কাছে সরকারি মালিকাধীন একটি তেল কোম্পানি বিক্রি করা হয় মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ডলারে, যা পরে সে অলিগার্ক ব্যবসায়ী বিক্রি করেন ১৩ বিলিয়ন ডলারে। এরূপ বহু ক্ষেত্রেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাশিয়ায় অলিগার্করা প্রভূত ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন ও এখনও হচ্ছেন।

রাশিয়ার মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্রহীনতা সম্পর্কে সারাবিশ্বই অবগত। সেখানে বিরোধীমতের কোনো স্থান নেই। অ্যালেক্সি নাভালনিকে সবাই জানে। শুধু পুতিনের সমালোচনার জন্য তাকে কী পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেনযুদ্ধে ভাড়াটে যোদ্ধা বাহিনী ভাগনারকে ব্যবহার করছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রিগোজিন। প্রিগোজিনও ছিলেন সামান্য রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। শুধু পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় তিনি গড়ে তোলেন বিশাল প্রায় অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধাবাহিনী। সে বাহিনীতে সরকারের সহযোগিতায় যোগ দেওয়ানোও হয় সাজাপ্রাপ্ত ভয়ংকর অপরাধীদের জেলখানা থেকে বের করে। অপরাধকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার এক ভয়ানক নজির এটি। তবে প্রিগোজিন ইতোমধ্যে কথিত বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তার আগে প্রিগোজিনের বাহিনী রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরোধিতায় ‘বিদ্রোহ’ করে মস্কো অভিমুখে এক অসফল যাত্রা করেছিলেন।

রাশিয়ায় চলছে Warped Proto Capitalism-এর আদলে মূলত ‘অলিগার্কিজম’। তবে পুতিন কৌশলে দেশের মানুষকে ‘বোকা’ বানাতে পারঙ্গম। ক্রিমিয়া দখলের মাধ্যমে, ইউক্রেনযুদ্ধ বাধিয়ে, পশ্চিমাদের বিরোধিতা করে একধরনের জাতিগত উন্মাদনা সৃষ্টির প্রয়াসে পুতিন অনেকটাই সফল। সীমাহীনভাবে লঙ্ঘিত মানবাধিকারের মধ্যে, বাক-স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে রুদ্ধ করেই বর্ধিত পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী, পশ্চিমা ধাঁচের লোক দেখানো বা ‘কমপালসিভ’ (বাধ্যবাধকতার) উন্নতি দেখিয়ে চরম কর্তৃত্ববাদী হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ায় পুতিন তার ‘অপরিহার্যতা’ প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বের কিছু দেশে পুতিনের অনুকরণে কর্তৃত্ববাদী শাসকরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা রুদ্ধ করে কিংবা সংকুচিত করে অলিগার্কির মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। সেসব দেশেও ক্ষেত্রবিশেষে জাত্যাভিমান উসকে দেওয়া, উন্নয়নের প্রদর্শনীর ডামাডোল, পশ্চিমের বিরোধিতা ইত্যাদিকেই সম্বল করা হচ্ছে। প্রকারান্তরে মানুষকে জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে—মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়ন জরুরি। কিন্তু এর ভয়াবহতা ইতোমধ্যে মানুষ ভোগ করছে।

গণতন্ত্রহীন উন্নয়ন টেকসই নয় এবং এর সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করে না বলে এটিকে বলা হচ্ছে ‘কমপালসিভ ডেভেলপমেন্ট’ বা লোক দেখানো বাধ্যবাধকতার উন্নয়ন, যা শুধু অলিগার্কিকে সমৃদ্ধ করে, গোষ্ঠীতন্ত্র গেঁড়ে বসে ও রাষ্ট্রে-সমাজে সম্পদসহ সকল ক্ষেত্রের বৈষম্যকে বৃদ্ধি করে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার পরিধি, মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা অপসৃয়মাণ কিংবা সংকুচিত কিনা সে প্রশ্ন জারি রেখেও বলা যায়, এখানে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, মাথাপিছু আয় ও মোট জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

কিন্তু এটিও স্পষ্ট, এখানে বৈষম্য বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। কিছু মানুষ বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন অনেকটাই দ্রুতগতিতে এবং একথা অনস্বীকার্য এই ধনবানরা অনেকেই ক্ষমতাঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী। সরকারি হিসেবেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরকারঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা আইনি কাঠামোর মধ্যেই ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ (অলস বসিয়ে রাখা) বাবদ বিপুল অর্থ নিয়ে গেছেন রাষ্ট্রের তথা জনগণের।

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তানামীয় খাত, ব্যাংক খাত, মিডিয়ার মালিকানাসহ বহু ক্ষেত্রের আলটিমেট সুবিধাভোগী ক্ষমতাবলয়ভুক্ত মানুষরাই এবং সমাজে-সরকারে তাদের দাপট ও অন্তর্ভুক্তি দৃশ্যমানভাবেই প্রকট। কিন্তু ১৭/১৮ কোটি মানুষের দেশে এঁদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।

কেউ কেউ এটিকে রাশিয়ার অলিগার্কির সঙ্গে তুলনা করছেন এবং এটি করবার সুযোগ পাচ্ছেন এজন্য, উন্নয়ন বা ‘কমপালসিভ ডেভেলপমেন্ট’-এর সুফল দেশের সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কিনা এ প্রশ্ন উঠছে তীব্রভাবেই। কারণ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী কষ্টে আছে, সকলক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে যে কোনো সময়ের তুলনায় অধিকহারে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ কমেছে ক্ষমতাকাঠামোর বাইরের মানুষদের।

উপরন্তু বাংলাদেশের মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশ্রয়ী ধনিকশ্রেণির আহরিত বিপুল অর্থসম্পদের উৎস এখানকার মেগাপ্রকল্প, বিদ্যুৎখাত ও সমরূপ কিছু সরকারি সেবাখাতগুলো অর্থাৎ উন্নয়ননামীয় খাতগুলো, যেগুলো বহুলাংশেই ঋণনির্ভর। এই ঋণনির্ভরতার ‘কমপালসিভ উন্নয়নের’ কারণে আমরা ‘রোল মডেল’সহ নানা ধরনের ‘রেটিং’ও পেয়েছি।

একটু পেছনে তাকালে দেখা যায়, বৈশ্বিক বড় প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্স’ ২০১৭ সালে ঘোষণা দেয়, ২০৩০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশ হবে। বেশকিছু মেগা প্রকল্প, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, প্রবাসীদের আয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে সবমিলিয়ে একটা শ্রেণির মধ্যে এখানে উচ্ছ্বাস-তৃপ্তিও কম নয়। তবে রেটিংসংক্রান্ত এরূপ পরিসংখ্যানে অমীমাংসিত থেকে গেছে অর্থনীতি ‘২৮তম’ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব মানুষগুলো কীভাবে উপকৃত হবে। কিংবা সবমিলিয়ে তাদের জীবনমানের কিছুটা উন্নতি হবে কোন পদ্ধতিতে। বরং মেগাপ্রকল্পভিত্তিক উন্নয়নে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে উৎকণ্ঠাজনকভাবে।

এখন বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ কোটি টাকার মতো। অথচ ২০১৫ সালেও যা ছিল ৫ হাজার কোটি টাকার নিচে। অর্থাৎ ৮ বছরে বেড়েছে ২০ গুণ!

মেগা প্রকল্পগুলোর অনুমোদন বা আশু প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নাতীত নয় এবং প্রতিটিই একেকটা ঋণের ফাঁদ বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। মেগাপ্রকল্পগুলোর কিছু ঋণ চিত্র তুলে ধরা যায়। যেমন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় ৫১ হাজার কোটি টাকা, এটিতে জাইকার ঋণই ৮৪ শতাংশ। ২১ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পেও জাইকার ঋণ ৭৫ শতাংশ। প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ৮০ শতাংশই রাশিয়ার ঋণ !

ঋণপ্রাপ্তির সঙ্গে অবধারিতভাবেই ঋণ পরিশোধের বিষয়ও চলে আসে। তথ্য বলছে, চলতি বছর থেকেই ২১ শতাংশ হারে বাড়বে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের হার। শুধু রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্যই রাশিয়াকে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা করে পরিশোধ করতে হবে ২০২৬ সাল থেকে। অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং এরূপ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের উৎসগুলো বহুলাংশেই অনিশ্চয়তায় ভরা।

আরো চিন্তার বিষয় এইসব ঋণের টাকার বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাতারবাড়ী, রামপাল, পায়রাকেন্দ্রের জ্বালানিও আমদানিনির্ভর বিদেশি কয়লা। যার পরিমাণও বছরে ১ কোটি টন।

বলা হচ্ছে, ২০২৭ সাল থেকে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের কয়লা ও এলএনজি আমদানি করতে হবে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য। এই বিপুল অর্থের সংস্থানের প্রক্ষেপণের কোনো খবর জানা নেই! অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতিটি আমদানিনির্ভর প্রকল্পের সস্তা ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প ছিল। বাংলাদেশের অনাবিষ্কৃত গ্যাসের মজুত ৩২ টিসিএফের ওপর যা কিনা প্রায় ৩০ বছরের মজুত। (সূত্র : ইউএসজিএস, এনপিডি, রাম্বলের সমীক্ষা)।

এদিকে পেট্রোবাংলা ২০২২ সনে বলেছে- ‘আমাদের মোট চাহিদার ৭৩ শতাংশ গ্যাস আসে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে, খরচ পড়ে মাত্র পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর সেখানে বাকি ২৭ শতাংশ গ্যাস (এলএনজি) বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, খরচ পড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মূলধনি ব্যয়ও বেশি।

এ প্রসঙ্গে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা (২০১৮) বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মূলধনি ব্যয় প্রতি কিলোওয়াটে ১ হাজার ডলার, যা বৈশ্বিক গড় ব্যয় ৫৫০ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস’ বলছে, বাংলাদেশের মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসবের পেছনেও প্রভাবশালীদের স্বার্থ মুখ্য কি না সে প্রশ্নও উঠছে।

আমাদের এখানে স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা নয়, স্থানীয় শিল্পায়ন নয়, মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান নয়, স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতি নয়, বৈষম্য দূরীকরণ নয়, বরং ঋণের টাকায় ফুলেফেঁপে ওঠা অর্থনীতি ও উন্নয়নকে বড় করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই অর্থনীতির ও উন্নয়নের সুফলভোগী কারা। এখানে মেগা প্রকল্পে জিডিপি বেড়েছে, বৃহৎ শিল্পে মালিকের মুনাফা বেড়েছে, কিন্তু কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি, শ্রমিক ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে।

এখন পৃথিবীর সবদেশে মূল্যস্ফীতি কমছে, কমছে না শুধু বাংলাদেশে, বরং বাড়ছে। এখানেও নাকি সিন্ডিকেট অর্থাৎ কিছু সুযোগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী।

ঋণের টাকায় দ্রুতগতির কমপালসিভ উন্নয়নের চক্রে চীন, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ বড়লোক বৃদ্ধির দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ এটি পরিসংখ্যানগুলোই বলে দিয়েছিল। কিন্তু এই যে ‘বড়লোক’ অতিধনী এঁরা কারা? দেশের বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য-প্রকল্পের, ব্যাংকগুলোর মালিকানার-লুটপাটের, মিডিয়ার মালিকানার, সবকিছুর বেশিরভাগ হিস্যা কাদের হাতে? চারপাশ কী বলছে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন , যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশে ‘অলিগার্ক’ শ্রেণির জন্ম হয়েছে বলে কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ অভিযোগ করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অলিগার্কদের নিয়ে ‘Capital without Borders’ গ্রন্থের লেখিকা Dartmouth College-এর প্রফেসর Brooke Harrington উষ্মা প্রকাশ করেছেন— ‘I don’t know why they are not calling them Oligarch?’— ‘আমি জানি না তাদের কেন অলিগার্ক হিসেবে ডাকা হচ্ছে না?

মোতাহার হোসেন চৌধুরী : গবেষক ও রাজনীতি-অর্থনীতি বিশ্লেষক

মতামত এর আরও খবর

img

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেন মিথ্যা বলছে

প্রকাশিত :  ১২:১৪, ১৯ জুন ২০২৪

মোহাম্মদ এলমাসরি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্টনি ব্লিঙ্কেন দেশটির প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে গত বুধবার দোহায় সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি সততার পরিচয় দেন নি। নিজের বক্তব্য পর্ব ও প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্লিঙ্কেন বেশ কিছু কথা বলেছেন, যেগুলো পরিষ্কারভাবে মিথ্যা ও গভীরভাবে বিভ্রান্তিকর।

প্রথমত, ব্লিঙ্কেন জোর দিয়ে বলেছেন, ৩১ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে তিন পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা একটা ‘ইসরায়েলি প্রস্তাব’ এবং ইসরায়েল তাতে পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্লিঙ্কেনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র কি প্রস্তাবিত চুক্তিটি মেনে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে চাপ দেবে? উত্তরে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, ইসরায়েল এর মধ্যেই সেটা গ্রহণ করে নিয়েছে। কিন্তু ব্লিঙ্কেন সত্য বলেননি।

প্রকৃতপক্ষে বাইডেনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়ার কারণ হলো, আগস্টে তিনি ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশন করতে চাইছেন। এর আগে তিনি তাঁর বিপর্যয়কর গাজা নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া। বাইডেন দাবি করেছেন, এটি ‘ইসরায়েলি প্রস্তাব’, কিন্তু সেটা সত্য নয়। কারণ হলো, বাইডেন তাঁর প্রস্তাব দেওয়ার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কেউ চুক্তির ব্যাপারে কথা বলতে এগিয়ে আসেননি।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বরং চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। দুই সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে বাইডেনের খসড়া প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন।

যাহোক, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের জন্য হামাসকে দোষারোপ করা গাজায় গণহত্যার দোষারোপ থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করার আরেকটি মার্কিন প্রচেষ্টা। এ প্রেক্ষাপটে বাইডেন যে মিথ্যা বলবেন, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।

এ ছাড়া নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল সরকারের অন্য সদস্যারা আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। সেটা হলো, তাঁরা গাজা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চান। সম্প্রতি জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রতিনিধি রুট শাপির বেন-নাফতালি তাঁর দেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে ‘কোনো পরিবর্তন ঘটেনি’, ‘ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে, যতক্ষণ হামাসের সামরিক ও সরকার পরিচালনার সক্ষমতা চূর্ণ না হয়’।

বেন-নাফতালি আরও বলেন, একটা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল অর্থহীন ও অন্তহীন আলোচনায় জড়াতে রাজি নয়। ইসরায়েলের সাবেক শীর্ষ কূটনীতিক আলন লিয়েলের বক্তব্যেও ইসরায়েলি অবস্থান পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। তিনি বলেছেন, মার্কিনদের দেওয়া কোনো প্রস্তাব অবশ্যই গ্রহণ করবে না ইসরায়েল।

প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল বলে আসছে, তারা ‘পুরোপুরি বিজয়’ চায়। ইসরায়েল বলছে, তাদের ‘পুরোপুরি বিজয়’ মানে হচ্ছে হামাসকে নির্মূল করা। কিন্তু আরও বাস্তব অর্থে এর অর্থ হচ্ছে গাজাকে পুরোপুরি ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের জোর করে মিসরে কিংবা জর্ডানে পাঠিয়ে দেওয়া। এ প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই বাইডেনের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর কোনো কারণ নেই ইসরায়েলের।

কারণ, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে লড়াই স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাইডেনের প্রস্তাবে প্রথম পর্যায় শেষে ইসরায়েলকে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বাইডেনের প্রস্তাবের শর্তে আছে, ইসরায়েল যদি প্রথম পর্যায় শেষ করে পরের পর্যায়ে যেতে রাজি হয়, তবেই চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়টি শুরু হতে পারে। ইসরায়েল যদি দ্বিতীয় পর্যায়ে যেতে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির বিষয়টা সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।

ব্লিঙ্কেন দ্বিতীয় মিথ্যাচার করেছেন হামাস ও প্রস্তাবে তাঁদের অবস্থান–সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন দাবি করেন, বাইডেনের প্রস্তাবটি ৬ মে হামাসের দেওয়া প্রস্তাবের সঙ্গে ‘কার্যত অভিন্ন’। সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন নানাভাবে হামাসকে দোষারোপ করে গেছেন। তিনি বলেছেন, হামাস আন্তরিক নয়, আগে যেসব শর্ত মেনে নিয়েছিল, সেগুলোসহ ক্রমাগত শর্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে হামাস। কিন্তু এর সবকিছুই অসত্য।

প্রথমত, হামাসের ৬ মের প্রস্তাবটি বাইডেনের প্রস্তাব থেকে অনেকটাই ভিন্ন। সেখানে ইসরায়েলকে খেয়ালখুশিমতো চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, হামাসের প্রস্তাবে গাজার ওপর থেকে ইসরায়েলের অবৈধ ও শ্বাসরোধী অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্লিঙ্কেন বলেছেন, বাইডেনের প্রস্তাবে ‘অসংখ্য পরিবর্তন’ আনার কথা বলেছে হামাস।

কিন্তু হামাসের এই প্রচেষ্টা চালানোর কারণ হলো, তারা চেয়েছে বাইডেনের প্রস্তাবটি যেন তাদের প্রস্তাবের কাছাকাছি হয়। কারণ, হামাসের প্রস্তাবটিই প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। কেননা, হামাসের দিক থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। গত ৩০ মে ফিলাডেলফিয়া করিডর ইসরায়েলি সেনারা দখলে নেওয়ার কারণে এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু ব্লিঙ্কেন গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় নিজের সুবিধামতো বাদ দিয়েই হামাসকে দোষারোপ করেছেন।

তৃতীয়ত, ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘গোটা বিশ্বই’ বাইডেনের প্রস্তাব সমর্থন করেছে; একমাত্র হামাসই প্রস্তাবটি মেনে না–ও নিতে পারে। কিন্তু এটা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বাধা তৈরি করেছে। এর সব কটিতেই হামাস ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন ছিল।

চতুর্থত, ব্লিঙ্কেন দাবি করেছেন, হামাস প্রস্তাবটি পাওয়ার পরও সিদ্ধান্ত জানাতে ১৪ দিন ঝুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তাঁর এ বক্তব্যও সত্য নয়। বাইডেন চুক্তির প্রস্তাবটি ৩১ মে ঘোষণা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু লিখিত বিস্তারিত খসড়াটি ৬ জুনের আগে হামাসের কাছে আসেনি। হামাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে ১২ জুন। এর মানে পাঁচ দিন পর হামাস বাইডেনের চুক্তির খসড়ার ওপর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফলে ব্লিঙ্কেনের ১২ দিনের অভিযোগটি বিভ্রান্তিকর।

যাহোক, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের জন্য হামাসকে দোষারোপ করা গাজায় গণহত্যার দোষারোপ থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করার আরেকটি মার্কিন প্রচেষ্টা। এ প্রেক্ষাপটে বাইডেন যে মিথ্যা বলবেন, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।



মোহাম্মদ এলমাসরি দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক; আল-জাজিরা থেকে নেওয়া।

মতামত এর আরও খবর