রাউজানে কলেজছাত্র হত্যা

img

লাশ যাতে শনাক্ত না করতে পারে, সে জন্য হত্যার পর শরীর থেকে মাংস কেটে আলাদা করে খুনিরা

প্রকাশিত :  ১১:৫৩, ০১ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৯, ০১ অক্টোবর ২০২৩

লাশ যাতে শনাক্ত না করতে পারে, সে জন্য হত্যার পর শরীর থেকে মাংস কেটে আলাদা করে খুনিরা

চট্টগ্রামের রাউজানে কলেজছাত্র সিবলি সাদিককে(১৯) হত্যার পর টুকরো টুকরো করে কেটে শরীর থেকে মাংসও আলাদা করে ফেলছিলেন খুনিরা। লাশ যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শনাক্ত করতে না পারে সে জন্য খুনিরা এমন কাজ করেছিলেন। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি উচিংথোয়াই মারমা (২৩) ও ক্যাসাই অং চৌধুরীকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে র‍্যাব সদস্যরা। র‍্যাবের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সিবলিকে বীভৎস কায়দায় হত্যার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে গ্রেপ্তার দুই আসামি এই তথ্য জানায়।

আজ রোববার বেলা ১১ টায় চট্টগ্রামে র‍্যাব-৭ এর চান্দগাঁও কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, র‍্যাব চট্টগ্রাম-৭ এর অধিনায়ক মো. মাহবুব আলম।

গ্রেপ্তার উচিংথোয়াই মারমা রাঙামাটি জেলার কাউখালির কলমপতি গ্রামের মংহ্লাজাই মারমার ছেলে এবং ক্যাসাই অং চৌধুরী বান্দরবানের রুমার আশ্রম পাড়ার বাসিন্দা। এ নিয়ে সিবলি হত্যায় জড়িত ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করল আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে প্রধান আসামি উমংসিং মারমাকে (২৬) সিবলির লাশ উদ্ধারের দিন ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে জনতা।  

গতকাল গ্রেপ্তার দুই আসামি র‍্যাবের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বলেন, খামারের ছয় থেকে সাতজন সহকর্মীকে মুরগির খাদ্য(ফিড) বাইরে বিক্রি করতে বাধা দিয়েছিলেন সিবলি। তখন সিবলির সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া হয়। আর তার জের ধরেই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন তাঁরা। সিবলিকে প্রথমে ছুরি দিয়ে গলা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন উচিং থোয়াইং মারমা নামের একজন। আর হাত পা চেপে ধরেন উমংচিং মারমা ও ক্যাসাইং চৌধুরী মারমাসহ চার থেকে পাঁচজন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব ৭ এর অধিনায়ক মো. মাহবুব আলম বলেন, লাশ যেন পুলিশ শনাক্ত করতে না পারে আসামিরা সেই চেষ্টা করেছেন।

গ্রেপ্তার দুই আসামি র‍্যাবকে আরও জানায়, জনতার পিটুনিতে নিহত আসামি উমংসিং মারমাই গত ২৮ আগস্ট  সিবলিকে অপহরণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনিই ফোন করে সিবলিকে রাস্তায় আসতে বলেন। 

তখন তিনি খামার থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এলে আসামিরা জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন তাকে। এ সময় সিবলি চিৎকার করলে মুখে গামছা বেঁধে দেওয়া হয়। তাঁকে সঅপহরণের পর উমংসিং মারমার মুঠোফোন থেকে সিবলির বাবাকে কল করা হয়। অপহৃত সিবলিকে দিয়ে তার বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দর-কষাকষির একপর্যায়ে অপহরণকারীরা ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অপহৃত ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। তবে অপহরণের পরদিন ২৯ আগস্ট হত্যা করা হয় সিবলিকে। এরপরও গত ১ সেপ্টেম্বর বান্দরবানে সিবলির বাবা ও নানার কাছ থেকে মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা নেন খুনিরা।

এর আগে এই হত্যায় মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর সুইচিংমং মারমা (২৪) ও রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার অংথুইমং মারমা (২৫) এবং  ১৪ সেপ্টেম্বর অং ফ্রাই সিং মারমা (৪৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিলেন।

জবানবন্দিতে তাঁরা বলেছিলেন, খামারের কাজ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সিবলির সঙ্গে পাঁচ-সাতজন শ্রমিকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর থেকে সিবলির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ওই শ্রমিকেরা। তবে এ ঝগড়ার মীমাংসা করে দিয়েছিলেন খামারের মালিকেরা। কিন্তু ভেতরে-ভেতরে এর ক্ষোভ রয়ে গিয়েছিল শ্রমিকদের মধ্যে। তাঁরা পরিকল্পনা করতে থাকেন, সিবলিকে শায়েস্তা করবেন।

অপহরণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্বীকার সিবলি সাদিক রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ শফির ছেলে। তিনি কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। পিকআপ ভ্যানচালক শফির দুই ছেলের মধ্যে বড় তিনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির ২০০ মিটার দূরে একটি মুরগি খামারে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। খামারটিতে ১০ হাজার মুরগি আছে। এটি মূলত ডিমের খামার।

খামারটির মালিক স্থানীয় কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ইউপি সদস্য সাহাবুদ্দিনসহ মোট চারজন।

চট্টগ্রাম-৭ এর অধিনায়ক মো. মাহবুব আলম বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা ও অপহরণ মামলায় মোট ৯ থেকে ১০ জন জড়িত। এর মধ্যে দুজনকে র‍্যাব ও বাকি ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একজন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। বাকিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

img

বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৯:৪৬, ১৭ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৯, ১৭ জুলাই ২০২৪

দেশব্যাপী চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট  শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।”

দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি সফল করতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আগামীকালের কর্মসূচি সফল করুন।”

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। আজ বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর