img

যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৬:৫৯, ০২ অক্টোবর ২০২৩

যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে হবে। কোনোভাবেই অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় দলের সদস্যরা (এপিপিজি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে লন্ডনে তার অবস্থানস্থল তাজ হোটেলে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।

সোমবার (২ অক্টোবর) সাক্ষাতের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন একথা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাবিষয়ক এপিপিজির চেয়ার এবং বিনিয়োগ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী রুশনারা আলি এমপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশের সদস্যদের নিয়ে এপিপিজি ভাইস চেয়ারম্যান বীরেন্দ্র শর্মা (এমপি), ভাইস চেয়ার ভ্যালেরি ওয়াজ (এমপি), ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান হুসেন (এমপি) এবং ফয়সল চৌধুরী এমএসপি, চেয়ার, স্কটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের ক্রস-পার্টি গ্রুপ।

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে এপিপিজি প্রতিনিধিদলকে শেখ হাসিনা বলেন, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার ইতোমধ্যে করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এ লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়ন করেছেন এবং সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন এবং ইসিকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালে তার দল আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ছবিসহ ভোটার তালিকা ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বর্তমান সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে এপিপিজি প্রতিনিধিদল তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন তদারকির জন্য বাংলাদেশ এপিপিজি প্রতিনিধিদলকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছে। এপিপিজির সব সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘসময় ধরে অব্যাহত গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

শেখ হাসিনা ব্রিটেনের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসা করছে এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ১শটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৯টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে যার জন্য যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক তহবিল বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যা সম্প্রতি হ্রাসের প্রবণতা দেখাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বাংলাদেশ সরকারের উচিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা: জাতিসংঘ

প্রকাশিত :  ১৬:০৭, ১৭ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৫, ১৭ জুলাই ২০২৪

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মৌলিক মানবাধিকার। বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানুষের এ অধিকার নিশ্চিত করা। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিবের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ মন্তব্য করেন।

ব্রিফিংয়ে ডুজারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। সরকারি ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কি জাতিসংঘের মহাসচিব অবগত আছেন?

জবাবে স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। উদ্বেগ নিয়েই গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য সব জায়গায় মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘যেকোনো হুমকি ও সংঘাত থেকে প্রতিবাদকারীদের রক্ষা করার উদ্যোগ নিতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। বিশেষ করে তরুণ, শিশু ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের মতো যাঁদের বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে।’

‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মানুষের মৌলিক মানবাধিকার’ মন্তব্য করে স্টিফেন ডুজারিক বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানুষের এ অধিকার নিশ্চিত করা।

জাতীয় এর আরও খবর