img

ইউকে জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশন সফলের লক্ষ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস জমিয়তের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ০৩ অক্টোবর ২০২৩

ইউকে জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশন সফলের লক্ষ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস জমিয়তের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত


আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের কাউন্সিল অধিবেশন সফলের লক্ষ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস জমিয়তের উদ্যোগে গত ২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে টাওয়ার হ্যামলেটস জমিয়তের অর্থ সম্পাদক জনাব সাদিক মিয়ার লন্ডনস্থ বাসায় বিশেষ প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউকে জমিয়ত টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সভাপতি হাফিজ মাওলানা ইলিয়াস। সভা পরিচালনা করেন জমিয়ত টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সেক্রেটারী মাওলানা নাজমুল হাসান।

সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউকে জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কাউন্সিল অধিবেশন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আবদুল মুনতাকিম, সবেমাত্র বাংলাদেশ থেকে আগত জামেয়া মাদানিয়া বিশ্বনাথ মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও জমিয়ত নেতা মাওলানা শিব্বির আহমদ, ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, কোষাধ্যক্ষ হাফিজ হোসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ,  জমিয়তের তাফসীরুল কুরআন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মুশতাক আহমদ, লন্ডন মহানগর জমিয়তের  সেক্রেটারী হ্যাকনী জমিয়তের সেক্রেটারি হাফিজ রাশিদ আহমাদ, টাওয়ার হামলেট্স শাখা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তারেক,ট্রেজারার সাদিকুল হক,লন্ডন মহানগর জমিয়তের প্রচার সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই, হ্যাকনী জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় বক্তাগন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের আগামী কাউন্সিল অধিবেশনের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরে কাউন্সিল অধিবেশন কে সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্য সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। 

মুফতি আবদুল মুনতাকিম তাঁর বক্তব্যে বলেন ইউকে জমিয়তের বিগত কাউন্সিল অধিবেশনে প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারী, বড়হুজুর খ্যাত হযরত মাওলানা তহুর উদ্দীন (রাহঃ) সহ দেশ-বিদেশের বহু সংখ্যক বুজুর্গ উলামায়ে কেরাম সমুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনেকেই আজ দুনিয়াতে নেই । তাঁরা আমাদের মতো অনুজদের কাঁধে যে মহান দায়িত্ব অর্পণ করে গিয়েছেন, এ দায়িত্বের আমানত সঠিকভাবে পালন করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেয়া আমাদের উপর বিরাট বড় একটা দায়িত্ব । উম্মাহর বর্তমান ক্রান্তিকালে এ দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহর দরবারে আমাদেরকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। আমাদের জন্য জরুরী হলো, আগামী প্রজন্ম কে দায়িত্ব গ্রহণ ও পালনের জন্য উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা।

দেশ- দুনিয়ার রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। এ লক্ষ্য সাধনে জমিয়তের আগামী কাউন্সিল অধিবেশন যেন মাইলফলক হিসেবে কাজ করে, এ প্রত্যাশা আমাদের। সভায় বাংলাদেশ থেকে সবেমাত্র আগত মাওলানা শিব্বির আহমদ বিশ্বনাথী বলেন ইউকে জমিয়তের বাস্তবধর্মী বিভিন্ন কার্যক্রম আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে থাকে।  আগামী ১৫ অক্টোবর রবিবার লন্ডনের ফোর্ডস্কয়ার মসজিদের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিল অধিবেশনে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কার্যক্রম কে ইউকের জমীনে আরো গতিশীল করবেন, সকলের কাছে আমার এই কামনা। ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন আগামী কাউন্সিল অধিবেশন কে সফল করে তোলা আমাদের জন্য সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেন্জ। আমাদের সকল কে দাওয়াতী কাজে মনোযোগ দিতে হবে। সভায় মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ আর্থিক সহযোগিতা, বহিরাগত মেহমানদের আদর আপ্যায়ন এবং কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে সকলের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে বিশেষ আলোচনা উপস্থাপন করেন। পরিশেষে সভার সভাপতি মাওলানা হাফিজ ইলিয়াসের মোনাজাতের মাধ্যমে প্রোগ্রামের পরিসমাপ্তি হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

প্রকাশিত :  ১২:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৪

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে  গত বুধবার,১৭ এপিরীর ২০২৪,ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (কর্মাস) সেলিম রেজা ও ফার্স্ট সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান নুর।

বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে ‘বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক।প্রতীক।

রাষ্ট্রদূত ইমরান আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মুজিবনগর সরকার ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা, এবং মুজিবনগর সরকারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সাফল্য গাঁথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ইমরান বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মসহ সকলের ভালোভাবে জানার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি জাতিকে মাথা উঁচু করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করার অনুরোধ জানান।

কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং ঐতিহাসিক এই দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ছিল মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী সকল শহিদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। কর্মসূচী পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি আতাউর রহমান।

কমিউনিটি এর আরও খবর