আগুনে পোড়া কাপড়ে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়া পূজা মণ্ডপ

প্রকাশিত :  ১৫:১৪, ২০ অক্টোবর ২০২৩

আগুনে পোড়া কাপড়ে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়া পূজা মণ্ডপ

সংগ্রাম দত্ত: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ভিন্নধর্মী এক পূজামণ্ডপ তৈরি করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রাজধানীর বঙ্গবাজারের আগুনে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন শাড়ি-কাপড় দিয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়া পূজামণ্ডপে তৈরি করা হয়েছে ভিন্নধর্মী এই শিল্প।

পূজা উদযাপন কমিটি বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এই সজ্জার জন্য তিন লাখ টাকার পোড়া কাপড় কিনেছেন তারা।

আয়োজকরা বলছেন, অশুভ শক্তির বিনাশ আর জগতের শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ বছর জেলার ২২৪টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসব।

শিল্পী রোহান খান ফরহাদ তার সহযোগীদের নিয়ে পুরো মণ্ডপ সাজিয়েছেন। সাজসজ্জায় ৩০০-এর বেশি শাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। আয়োজকরা সচেতনভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেছেন। গত বছর পাটজাত বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে সাজানো হয়েছিল এই মণ্ডপ।

লক্ষী নারায়ণ আখড়ার পুরোহিত দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, এবার দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থান দুটোই হবে ঘোড়ায় চড়ে। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা থাকবে তিনি যেন দেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষের জীবনে শান্তি বয়ে আনে।

নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি পরিতোষ সাহা বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ আর জগতের শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে এই বিশ্বাসে এ বছর নারায়ণগঞ্জে ২২৪টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসব।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, দুর্গাপূজাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে মনিটরিংসহ বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave Your Comments


কোন নবী কোন ভাষায় কথা বলতেন

প্রকাশিত :  ১১:০৭, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ভাষা মহান আল্লাহর সেরা দান। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে মনের ভাব ব্যক্ত করতে মাতৃভাষা দান করেছেন। ভাষা অন্যান্য প্রাণীর ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা রুম, আয়াত : ২২)। মানুষ এবং পশু-পাখির মধ্যে পার্থক্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক এই ভাষা। কারণ, আরবরা মানুষের পরিচয় দেয় ‘হায়াওয়ানে নাতেক’ শব্দযোগে। যার অর্থ ‘বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী’।

আর স্থান ও কাল ভেদে মানুষের ভাষা বৈচিত্রে ভরা। তারা নিজেদের মাতৃভাষায় যার যার মনের ভাব প্রকাশ করে আসছে আদিকাল থেকে। মহান আল্লাহতায়ালাও পৃথিবীতে যতজন নবী-রাসূল আ: পাঠিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকে স্বজাতির ভাষায় বিজ্ঞ ছিলেন। পবিত্র কোরআনে কারিমে এসেছে, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী (মাতৃভাষী) করে পাঠিয়েছি, তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪)।

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে নবী-রাসূল আ: মাতৃভাষায় কথা বলতেন এবং মাতৃভাষাতেই মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। নবী-রাসূলদের মধ্যে কে কোন ভাষায় কথা বলতেন, সে সম্পর্কে যেসব ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায়, তা তুলে হলো—

১. পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী আদম আ: জান্নাতে আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তবে পৃথিবীতে আগমনের পর তিনি সিরিয়াক (ঝুত্রধপ) ভাষায় কথা বলেন। যাকে সিরিয়াক অ্যারামিক ভাষাও বলা হয়।

২. নুহ, শিশ, ইউনুস ও ইদরিস আ: সিরিয়াক ভাষায় কথা বলতেন।

৩. হুদ ও সালিহ আ: আরবি ভাষায় কথা বলতেন।

৪. ইবরাহিম আ: তাঁর মাতৃভাষা ছিল সিরিয়াক। তবে তিনি আরবি ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন।

৫. লুত ও ইয়াকুব আ:-ও সিরিয়াক ও আরবি উভয় ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।

৬. ইসমাইল, আইয়ুব ও শোয়াইব আ: আরবি ভাষায় কথা বলতেন।

৭. ইউসুফ আ: শৈশবে আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তবে মিসরে আগমনের পর প্রাচীন মিসরীয় ভাষা কিবতি ভাষায় কথা বলতেন।

৮. দাউদ ও সুলাইমান আ: অ্যারামিক (সিরিয়াক ভাষার উপভাষা ও হিব্রুর প্রাচীনরূপ) ভাষায় কথা বলতেন। তবে তাঁরা আরবি ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন।

৯. মুসা ও হারুন আ: প্রাচীন মিসরীয় কিবতি ভাষায় কথা বলতেন। তবে তিনি মাদায়েনে হিজরত করার পর আরবি ভাষা রপ্ত করেন। তবে মিসরের বনি ইসরাঈলরা অ্যারামিক (হিব্রু) ভাষায় কথা বলত।

১০. ইউশা বিন নুন আ: মূলত আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তবে প্রাচীন মিসরীয় কিবতি ভাষাও জানতেন।

১১. জাকারিয়া, ঈসা ও ইয়াহইয়া আ: অ্যারামিক ভাষায় কথা বলতেন। তবে তাঁরা আরবি ভাষাও জানতেন।

১২. সর্বশেষ নবী হজরত মোহাম্মদ সা: আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তিনি ছিলেন আরবের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী।

মতভিন্নতা ও সমাধান

নবীদের মাতৃভাষা নিয়ে ঐতিহাসিকদের ভেতর মতভিন্নতা আছে। তবে বেশিভাগ মতের মধ্যেই সমন্বয় করা সম্ভব। যেমন ঈসা আ:-এর ভাষার বিষয়ে দুটি মত হলো- অ্যারামিক ও হিব্রু। মূলত অ্যারামিক হলো- হিব্রু ভাষার প্রাচীনরূপ। হিব্রু অ্যারামিকের বিবর্তিত রূপ। তাই মৌলিকভাবে উভয় মতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

তথ্যসূত্র : ফিকরাহ ডটকম, আল-মুলাক্কাস ডটকম ও অন্যান্য

img