বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করতে চায় এয়ারবাস

প্রকাশিত :  ০৭:১৩, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করতে চায় এয়ারবাস

ইউরোপীয় বৃহৎ বিমান কোম্পানি এয়ারবাস বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করতে চায়। মূলত, আন্তঃইউরোপীয় কোম্পানিসমূহের একটি কনসোর্টিয়াম এই বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই বাংলাদেশের জাতীয় এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ বিমানের বহরে ১০টি সুপরিসর বিমান যুক্ত করতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি দল ফ্রান্সের তুলুজ শহর এয়ারবাসের সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে এয়ারবাসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মোরাদ বোরো-ফালা বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশে বিমান চলাচল খাতে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

এয়ারবাস প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের বাজার এখনও পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা হয়নি। তাই তাদের কোম্পানি এদেশে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বাসস

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ভিশন ২০৪১ এ বিশ্বাস করি এবং আমরা এর অংশী হতে চাই।’

তিনি জানান, একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে ঢাকার স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, এয়ারবাস নতুন প্রজন্মের সুপরিসর বিমান ও দক্ষ বিমান ক্রু দিয়ে এয়ার ট্রান্সপোর্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়।

এ সময় ইউরোপে মহাকাশের রাজধানী হিসেবে বিবেচিত তুলুজে বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের ব্রিফিং করতে এয়ারবাসের মার্কেটিং ভাইস প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও দ্য কস্তা ও ওয়াইড-বডি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার জুয়ান ক্যামিলো রোদ্রিগেজ বোরো-ফালার সঙ্গে ছিলেন।

তাদের ব্রিফিং এমন একটি সময়ে হয়েছে যখন দুটি মালবাহী বিমানসহ ১০টি সুপরিসর এ৩৫০ এয়ারক্রাফট বিক্রির বিষয়ে ইউরোপীয় বিমান প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা চলছে।

এয়ারবাস এ৩৫০ মডেলের প্রথম ফ্লাইটটি হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৪ জুন। গত ১০ বছরে এই ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ৫৫২টি এ৩৫০ বিমান সরবরাহ করেছে, যে সব বিমান ১ হাজার ৭১ রুটে চলাচল করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ গত মাসে ঢাকা সফরে এসে এয়ারবাস বিমান ক্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘ইউরোপীয় বিমান চলাচল শিল্পের ওপর আপনাদের আস্থা রাখার জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই এবং ১০টি এ৩৫০ এয়ারবাসের ব্যাপারে যে প্রতিশ্রুতি সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালিত বিমান বাংলাদেশের বহরে ২১টি বিমান রয়েছে। যার বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারবাসের আর্কারাইভাল বোয়িং বিমান। বহরে থাকা বিমানগুলোর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০ কানাডার তৈরি বিমান।

মোরাদ বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশকে যেভাবে দেখেছি, তা কেবল লেনদেনের মানসিকতা নিয়ে নয়, যে আমরা কিছু বিক্রি করব এবং দেশ ছেড়ে চলে যাব। বরং, এয়ারবাস বাংলাদেশে সুদক্ষ পাইলট ও রক্ষণাবেক্ষণ ক্রুদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, এয়ারবাস ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মেধাবী কর্মী গড়ে তুলতে সহযোগিতা করছে।

এয়ারবাস নির্বাহী কর্মকর্তারা আরও জানান, তাদের কোম্পানি এখন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, ওভারহল (এমআরও) ডিজিটাল সমাধান ইনস্টল করতে ও বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের সম্মৃদ্ধিতে অবদান রাখতে তার দক্ষতা এবং জ্ঞান প্রদান করতে প্রস্তুত। কোম্পানিটি এখন নিয়ন্ত্রণ, ফ্লাইট নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশের (সিএএবি) মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সুবিধা দিতে চায়।

মোরাদ বলেন, এয়ারবাস ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি অপারেটরদের রক্ষণাবেক্ষণ ও ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি উন্নত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সমাধানের জন্য সর্বোত্তম মানের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতার জন্য সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিমান ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের বিমান চলাচল বৃদ্ধি ও নতুন রুটের অন্বেষণ অনেকাংশে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের নিজস্ব বিমানগুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ২৫ শতাংশেরও কম যাত্রী নিয়ে চলচল করছে, আর বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো অবশিষ্ট আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছে।

রোদ্রিগেজ বিভিন্ন দেশের জিডিপি আকার ও বিমান ভ্রমণকারীদের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে বিমান চালনার সম্ভাবনার ওপর একটি তুলনামূলক গবেষণা উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, এয়ারবাসের গবেষণায় দেখা গেছে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিমান ভ্রমণকারী ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হবে।

রাষ্ট্র-চালিত ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সে এখন যৌথভাবে ১০টি সুপরিসরসহ ৩৬টি বিমান রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের জিডিপি মূল্য ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর সারা বিশ্বে যেখানে ৭.৫ মিলিয়ন প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস। পাশাপাশি এয়ারবাস সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ভিয়েতনামে ৩৫টি সুপরিসর বিমানসহ মোট ১৮৭টি বিমান রয়েছে।

গ্লোবাল মার্কেট ফোরকাস্ট নামে আরেকটি এয়ারবাস সমীক্ষায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ২০৪২ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১০৫টি ছোট পরিসর এবং ৫৫টি সুপরিসর বিমান প্রয়োজন, যা তার বর্ধিত বিমান ভ্রমণকারীদের চাহিদা মেটাতে পারে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে লন্ডনে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগের প্রতিমন্ত্রী লর্ড ডমিনিক জনসন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মধ্যে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে একটি বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি যৌথ ইশতাহার স্বাক্ষরিত হয়।

সূত্র: বাসস

Leave Your Comments


ইন্টেলকে ১০ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৬:০৩, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৪, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম চিপ উত্পাদনকারী কোম্পানি ইন্টেলকে ১ হাজার কোটি ডলার ভর্তুকি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। এই ভর্তুকি নিয়ে আলোচনা চলছে। ব্লুমবার্গ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ ভর্তুকির বিষয়ে এখন আলোচনা চলছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে ঋণ ও সরাসরি অনুদানও থাকবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইন্টেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে চিপস অ্যাক্টের অধীনে দু’টি অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব গিনা রাইমন্ডো চলতি মাসের শুরুতে এক বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেখানে তার বিভাগ থেকে সেমিকন্ডাক্টর উত্পাদন বাড়াতে দুই মাসের মধ্যে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বিলিয়ন প্রোগ্রাম থেকে তহবিল পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

চিপ উত্পাদন ও সরবরাহ চেইনে বিনিয়োগের জন্যই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তুকির মাধ্যমে নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে, যেটি দেশটির অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উত্পাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। ওহাইওতে একটি নতুন সাইটসহ অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকোয় দীর্ঘমেয়াদে চিপ কারখানা স্থাপনে কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইন্টেল।

কোম্পানির বিবৃতি অনুযায়ী, ওহাইওর কারখানাটি বিশ্বের অন্যতম বড় চিপ উত্পাদন কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। তবে সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কোম্পানিটি ২০২৬ সালের আগে ওহাইওতে কারখানা স্থাপনের কাজ শেষ করতে পারবে না।

ইন্টেল ছাড়াও মাইক্রোন ও স্যামসাং ইলেকট্রনিকস যুক্তরাষ্ট্রে আলাদা চিপ উত্পাদন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানা গেছে।


img