img

একযোগে সব পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালো রাশিয়া

প্রকাশিত :  ০৭:০৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১২, ২৬ অক্টোবর ২০২৩

একযোগে সব পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালো রাশিয়া

সহসাই ক্ষেপল রাশিয়া,! একযোগে চালালো নিজেদের সব পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা। তবে কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিরাজমান উত্তেজনায় কঠোর বার্তা দিতেই রাশিয়ার এমন পদক্ষেপ।

ব্যাপক আকারে পারমাণবিক অস্ত্রের এ মহড়াকে নিজেদের পরমাণু বাহিনীর ‘বিশেষ পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ অক্টোবর) স্মরণকালের সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্রের এ পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। এক বিবৃতিতে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরমাণু অস্ত্রবাহী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। একযোগে উৎক্ষেপণ করা হয় পারমাণবিক সব ক্ষেপণাস্ত্র। 

পরে এ মহড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। 

রাশিয়া এমন সময় ব্যাপক আকারে এ পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি- সিটিবিটি সম্প্রতি স্থগিতের ঘোষণা দেয় মস্কো। এরপরই একের পর এক পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে পুতিন বাহিনী।

 এতদিন ছোট আকারে পরীক্ষা চালিয়ে আসলেও, বুধবার হঠাৎ করেই ব্যাপক আকারে নিজেদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো রাশিয়া। 

 বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিরাজমান উত্তেজনায় কঠোর বার্তা দিতেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ। কেউ কেউ মনে করছেন, ইউক্রেনে পরমাণু হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ ধরনের মহড়া চালাতে পারে রাশিয়া। 

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়ার কাছ থেকে ইউক্রেনে পরমাণু হামলা চালানোর মতো কোনো ইঙ্গিত পায়নি তারা।


img

গাজায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সময় লাগতে পারে ১৫ বছর

প্রকাশিত :  ১০:২০, ১৬ জুলাই ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৫, ১৬ জুলাই ২০২৪

টানা ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা ভূখণ্ডে চালানো ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই আগ্রাসনে গাজা ভূখণ্ড পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

ফিলিস্তিনে নিযুক্ত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, গাজায় যে মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তাতে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারে সময় লাগতে পারে ১৫ বছর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে ১৫ বছর সময় লাগবে বলে ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সোমবার সংস্থাটি বলেছে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটির পরিচ্ছন্নতার জন্য ৪০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ অপসারণের প্রয়োজন হবে।

ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, বিভিন্ন অবকাঠামোর এসব ধ্বংসাবশেষ ও ধ্বংসস্তুপ গাজা উপত্যকার মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে, কারণ এতে অবিস্ফোরিত বহু বোমা এবং ক্ষতিকারক বিভিন্ন পদার্থ থাকতে পারে।

সংস্থাটি বলেছে, ধ্বংসস্তুপ অপসারণের জন্য ১০০টিরও বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ হবে।

অন্যদিকে ইউএনইপি বলেছে, গাজার কিছু ধ্বংসাবশেষ অ্যাসবেস্টস দ্বারা দূষিত। বিষাক্ত এই খনিজ ক্যান্সারসহ ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করে। সংস্থাটি আরও বলেছে, গাজার ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচে বিপুল সংখ্যক মানুষের দেহাবশেষ চাপা পড়ে আছে।

এদিকে সোমবার দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত শনিবার ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া আল-মাওয়াসিতে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এই হামলার দুইদিন না যেতেই আবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের উপর আরো চাপ সৃষ্টির জন্যই এই কৌশল নিয়েছে দেশটি।

গাজা উপত্যকার আল-মাওয়াসিতে হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিল। জায়গাটি ছিল তাঁবুতে পরিপূর্ণ। শনিবার ইসরাইলের আকস্মিক হামলায় ৯০ জন নিহত এবং অন্তত ৩ শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সোমবারের হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেনি রয়টার্স।

বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা রয়টার্সকে বলেছেন, চতুর্দিকে ধ্বংস্তুপের মধ্যে তারা এখন কোথায় যাবে সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।