img

দুবৃর্ত্ত ল্যান্ডলর্ডদের কাছ থেকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রস্তাব দিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজিং কমিটির প্রধান

প্রকাশিত :  ১৮:১৯, ১৬ নভেম্বর ২০২৩

দুবৃর্ত্ত ল্যান্ডলর্ডদের কাছ থেকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রস্তাব দিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজিং কমিটির প্রধান

জনমত রিপোর্টঃ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউজ অব কমন্স এর হাউজিং কমিটির প্রধান বলেছেন যে যেসকল বাড়িওয়ালা বারবার নিয়ম ভঙ্গ করে এবং ভাড়াটেদের শোষণ করে তাদের কাছ থেকে ভাড়া বাড়িগুলি বাজেয়াপ্ত করা উচিত। লেভেলিং আপ, হাউজিং এবং কমিউনিটি সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ক্লাইভ বেটস এমপি বলেছেন, বাড়ি—ঘর জব্ধ করতে আদালতকে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলে সেই সকল বাড়িওয়ালার জন্য এটি ‘উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধক’ তৈরি করবে যারা অকার্যকর, অনিরাপদ এবং ওভারক্রাউডিং বাড়িগুলির জন্য আর্থিক জরিমানাকে ব্যবসার খরচ হিসেবে বিবেচনা করে।

লেবার দলীয় এই এমপি বলেন, বাজেয়াপ্ত বাড়িগুলি কাউন্সিলের সম্পত্তিতে পরিণত হতে পারে, যা পরবর্তীতে সেগুলিকে নিম্নআয়ের লোকদের বাড়িতে ব্যবহার করতে পারে বা সামাজিক আবাসনের জন্য অর্থ সংগ্রহের জন্য তাদের বিক্রি করতে পারে।

বাজেয়াপ্ত করার হুমকি “ল্যান্ডলর্ডদের মোটামুটিভাবে নিয়মের মধ্যে আনতে ভূমিকা রাখবে, কারণ এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে কিছুর মূল্য অনেক বেশি” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই কমিটি পূর্বে ২০১৮ সালে এই ধারণাটির একটি সংস্করণ প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু থেরেসা মের সরকার সেটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মূলধারার দৈনিক দ্যা গার্ডিয়ান এর ‘লিভিং হেল’ শীর্ষক সিরিজ প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত ভাড়া করা খাতের সমস্যাগুলির উপর আলোকপাত করছে, যার মধ্যে লন্ডনের একজন দুর্বৃত্ত বাড়িওয়ালা মোহাম্মদ আলী আব্বাস রসুলের মামলা রয়েছে যিনি বারবার জরিমানা, নিষেধাজ্ঞার নোটিশ সত্ত্বেও ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাড়াটেদের জন্য দুর্দশা সৃষ্টি করেছিলেন। 


রসুলের মামলার তদন্তের সাথে জড়িত একজন আবাসন কর্মকর্তা মনে করেন যে, তিনি (রসুল) এবং অন্যান্য বাড়িওয়ালারা তাদের ব্যবসায়িক মডেলে জরিমানা প্রত্যাশা করেন “এবং জরিমানার শাস্তিটি সহজেই গ্রহণ করেন।”

ইংল্যান্ডে ব্যক্তিগত ভাড়ার বাড়ি—ঘর সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে, ক্লাইভ বেটস এমপি আরও বলেছিলেন: এটা ‘সম্ভাব্য’ ছিল যে ‘নো—ফল্ট’ উচ্ছেদের বিলম্বিত নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পর পর্যন্ত কার্যকর হবে না। এটি প্রথম ২০১৯ সালের মে মাসে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

তার ক্রস—পার্টি কমিটি সম্প্রতি মন্ত্রীদের সাথে তাদের নো—ফল্ট উচ্ছেদের নিষেধাজ্ঞা পরিচালনা নিয়ে তীব্র দেনদরবারে লিপ্ত হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে হাউজিং সেক্রেটারি মাইকেল গভ এই মাসে ‘নো—ফল্ট’ উচ্ছেদের নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্ব করেছেন।

বেটস বলেছেন যে কমিটি ‘খুব ক্ষুব্ধ’ যে সরকার আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে তার উদ্বেগ উদ্ধৃত করেছিল, যা বিলম্বের ব্যাখ্যা করার সময় এটি চার বছর আগে প্রথম উত্থাপন করা হয়েছিলো।

নো—ফল্ট উচ্ছেদ বাড়িওয়ালাদের কোনো কারণ ছাড়াই ভাড়াটেদের বের করার অনুমতি দেয়। এর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল ২০১৯ কনজারভেটিভ পার্টির ইশতেহারের অংশ, কিন্তু টোরি ব্যাকবেঞ্চাররা, যাদের মধ্যে অনেকেই ল্যান্ডলর্ডও, এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

শ্যাডো হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার, গত মাসে পার্টি কনফারেন্সে বলেছিলেন যে লেবার সরকার এই নিয়ম করবে যে প্রাইভেট ডেভেলপারদেরকে প্ল্যানিং কনসেন্ট এর মূল্য হিসাবে আরও সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরি করতে হবে।

ক্রস—পার্টি হাউজিং কমিটি অনুমান করেছে যে প্রতি বছর ৯০,০০০ নতুন সামাজিক বাড়ি তৈরি করতে হবে এবং এই লক্ষ্যমাত্রা শুধুমাত্র ডেভেলপারদের অবদানের উপর নির্ভর করে অর্জন করা সম্ভব হবে না। পরিবর্তে সামাজিক আবাসনের জন্য রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে মাল্টিবিলিয়ন—পাউন্ড বৃদ্ধির প্রয়োজন বলে ক্লাইভ বেটস এমপি মনে করেন।

খারাপ ল্যান্ডলর্ডদের বাড়ি—ঘর বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে মন্তব্যের জন্য গার্ডিয়ান ডিপার্টমেন্ট ফর লেভেলিং আপ, হাউজিং এবং কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করেছিলো। কিন্তু বুধবার এই রিপোর্ট প্রকাশ পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

img

ইরানের ওপর ব্রিটেন-আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত :  ১৮:২২, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:০২, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধান মিত্রদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলে ইরানের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশ দুটি। খবর পলিটিকো ইইউ ও আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইউএভি (ড্রোন) উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ১৬ ব্যক্তি এবং ২টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এরা ইরানের শাহেদ ড্রোন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। ওই ড্রোন ১৩ এপ্রিলের হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যও ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত দেশটির সামরিক বাহিনী-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে।

শনিবার রাতে ইসরাইলে প্রত্যাশিত ও অভাবনীয় হামলা চালায় ইরান। ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরাইলের বিমান হামলায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহতের প্রতিশোদ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়।

এ হামলায় তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান। এগুলোর বেশির ভাগই আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরাইল। এ হামলা রুখতে ইসরাইলকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জর্ডান।

এ হামলার জবাবে ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নিজেদের সুরক্ষার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, আজকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় এবং অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ইসরাইলে ইরানের নজিরবিহীন হামলার জবাব দিতে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছি।

ইরানের মারাত্মক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ব্যাহত ও নস্যাৎ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক উপকরণগুলো (টুল) ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামীতে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষগুলোর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।