img

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন: মহাসচিবসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি

প্রকাশিত :  ১১:৫৯, ১৭ নভেম্বর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৩, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন: মহাসচিবসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আখতার হোসেন বাদলের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক সাতই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনের একটি রেষ্টুরেন্টে গত ১১ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত উক্ত সভায় প্রধান অতথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, মূলধারার রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বাদল। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বৃহত্তর নোয়াখালী যুব ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সভাপতি সালেহ আহমদ মানিক।

সভায় আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ দাবীর পাশাপশি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ দলের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবী জানানো হয়েছে। সভায় বক্তারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে থাকা প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দেশের জনগনের কোন আস্থা নেই। তাই দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী জানাচ্ছে। বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আর জনগণের সরকার ছাড়া দেশে শান্তি আসবে না। সভায় সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়া হয়। খবর ইউএনএ’র।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম ভূইয়া, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সভাপতি এবিএম রহমত উল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস এর সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক, ডা. মমতাজ বেগম, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম, নূরুল ইসলাম, আবুল কালাম, হোসেন মোহাম্মদ মনির, মোহাম্মদ মীর হোসেন, নাজমুল হাসান নিপুন, মনির আহমেদ, আশরাফ হাসান, গিয়াস উদ্দিন, আল মাসুদ স¤্রাট প্রমুখ। সভায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতা আকড়ে রয়েছে। সরকারের অত্যাচার-নিপীরণ-নির্যাতন, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর দু:শাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। এই সরকারের প্রতি দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশীদের কোন আস্থা নেই। যার জন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী উঠেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনায় দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। বিএনপি ও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় দিশেহারা সরকার বিরোধী দলের উপর জুলুম-নির্যাতন আর গ্রেফতারের পথ বেছে নিয়েছে। এ অবস্থায় দেশ ও প্রবাসের সকল জাতীয়বাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক দফার আন্দোলন ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তত্ত্ববধায়ক সকারের অধীনে’ নির্বাচনের কোন বিল্প নেই।

আখতার হোসেন বাদল বলেন, শেখ হাসিনার সরকার একটি ফ্যাসিস্ট, জুলুমবাজ, ভোটারবিহীন নির্বাচনের সরকার। এই সরকারের প্রতি কারো আস্থা নেই। আওয়ামী লীগ দেশে এক দলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। ফলে দেশ দু:সময় অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তিনি সাতই নভেম্বরর চেতনায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়া আমাদের নেতা। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা বিএনপি’র রাজনীতি করি। ইনশাল্লাহ বিএনপি’র নেতৃত্বেই আগামী দিনে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

প্রকাশিত :  ১২:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৪

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে  গত বুধবার,১৭ এপিরীর ২০২৪,ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (কর্মাস) সেলিম রেজা ও ফার্স্ট সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান নুর।

বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে ‘বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে মুজিবনগর সরকার’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন এবং মুজিবনগর বাঙালি জাতির বীরত্বের প্রতীক।প্রতীক।

রাষ্ট্রদূত ইমরান আরো বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক মতামতকে সুসংহত করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মুজিবনগর সরকার ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা, এবং মুজিবনগর সরকারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সাফল্য গাঁথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ইমরান বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মসহ সকলের ভালোভাবে জানার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি জাতিকে মাথা উঁচু করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করার অনুরোধ জানান।

কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং ঐতিহাসিক এই দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ছিল মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী সকল শহিদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। কর্মসূচী পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি আতাউর রহমান।

কমিউনিটি এর আরও খবর