img

ভারত জিতে গেলে ক্রিকেটের মজাটাই হারিয়ে যেত

প্রকাশিত :  ১৩:০৪, ২২ নভেম্বর ২০২৩

ভারত জিতে গেলে ক্রিকেটের মজাটাই হারিয়ে যেত

ভারত জিতে গেলে ক্রিকেটের মজাটাই হারিয়ে যেত বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আব্দুল রাজ্জাক। এর আগে ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করায় বিপাকে পড়েছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের এক টিভি চ্যানেলে রাজ্জাক বলেন, ‘সত্যি বলতে, ক্রিকেট জিতেছে। একটা দল পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো করে তৈরি করবে, এটা হতে পারে না। ভারত জিতে গেলে ক্রিকেটের মজাটাই হারিয়ে যেত। যারা সাহসী, যারা শক্তিশালী, যারা চেষ্টা করে এবং নির্দিষ্ট দিনে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়, ক্রিকেট সব সময় তাদের সঙ্গেই থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওরা পরিবেশকে নিজেদের মতো করে কাজে লাগিয়ে জিতত। তাই এটা ভেবে খুশি হয়েছি যে ভারত জেতেনি। কিছু তো আছেই ওদের পিচে। আমার মনে হয়, একদম তরতাজা পিচে খেলা হওয়া উচিত ছিল। দুটো দলেরই তাতে সুবিধা হতো। ফাইনালেও ভারত নিজেদের সুবিধামতো পিচ বানিয়েছিল। যদি কোহলি শতরান করে দিত তাহলে ভারতও বিশ্বকাপে জিতে যেত।’

এই রাজ্জাকই কিছু দিন আগে ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছিলেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে ঐশ্বরিয়ার কথা উদাহরণ হিসেবে এনেছিলেন তিনি। রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘আমি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সদিচ্ছার কথা বলছি। যখন আমি খেলতাম তখন অধিনায়ক ইউনুস খানের ওপর আমার পুরো ভরসা ছিল। আমি জানতাম ও পাকিস্তানকে জেতাতে চায়। সেই কারণে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতাম। অনেক সময় আমরা জিতেছি। এখন সেই ইচ্ছাটাই চলে গিয়েছে সবার।’ 

এরপরই ঐশ্বরিয়াকে উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছিলেন রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘যদি আমি ভাবি যে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে আমার বিয়ে হবে, তারপর সুন্দর সুন্দর সন্তান হবে, সেটা কী কখনো সম্ভব! আগে নিজের মানসিকতা ঠিক করতে হবে। বুঝতে হবে যে আমি কী চাই। না হলে ভালো ক্রিকেটারও তৈরি হবে না আর পাকিস্তানও জিততে পারবে না।’ পরে সেই চ্যানেলেই ক্ষমা চেয়েছিলেন রাজ্জাক।

রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে গিয়েছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে তারা। ভারতের হারে খুশি পড়শি দেশ পাকিস্তানের অনেকেই।

img

বড় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৮:৫৪, ২২ জুন ২০২৪

নবম টি-২০ বিশ্বকাপে সেমির দৌঁড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিশাল ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। একইসঙ্গে সেমিফাইনালের দৌড় থেকেও ছিটকে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান নবম আসরে সেমিফাইনালে খেলতে হলে আজ জিততেই হতো টাইগারদের। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১২০ বলে ১৯৭ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫০ রানের জয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর সেমির আগেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

শনিবার হার্দিক পান্ডিয়া, বিরাট কোহলি, ঋষভ পন্থ, শিবম দুবে ও রোহিত শর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে ভারত।

ওয়েষ্ট ইন্ডিজের অ্যান্টিগার নর্থ সাউন্ডে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিংয়ে নেমেই একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন ভারতীয় দুই তারকা ওপেনার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। রোহিতকে আউট করে ওপেনিং জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে দলীয় ৩৯ রানে সাজঘরে ফেরেন রোহিত। তার আগে মাত্র ১১ বলে তিনটি চার আর এক ছক্কায় করেন ২৩ রান।

রোহিত আউট হওয়ার পর ব্যাটিং তাণ্ডব অব্যাহত রাখেন সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার লাগাম টেনে ধরেন তানজিম হাসান সাকিব।তানজিমের বল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন বিরাট কোহলি। তিনি থেমেছেন ২৮ বলে এক চার আর তিন ছক্কায় ৩৭ রান করে। 

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান সূর্যকুমার যাদব। পরের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন এই তারকা ব্যাটসম্যান। তানজিমের শর্ট লেংথের বলে আউটসাইড-এজের পর ধরা পড়েছেন উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। তার বিদায়ে ৮.৩ ওভারে দলীয় ৭৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় ভারত।

সূর্যকুমার যাদব আউট হওয়ার পর উইকেটে সেট হয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালতে থাকেন ঋষভ পন্থ। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া ভারতীয় এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। তার লেগস্পিন বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন পন্থ। তার বিদায়ে ১১.৪ ওভারে ১০৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ভারত।

এরপর হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৩৪ বলে ৫৩ রানের ‍জুটি গড়েন শিবম দুবে। ১৭.২ ওভারে দলীয় ১৬১ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে শিবম দুবেকে সাজঘরে ফেরান রিশাদ হোসেন। তার আগে ২৪ বলে তিন ছক্কায় ৩৪ রান করেন দুবে।

ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে ২৭ বলে তিন ছক্কা আর চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে অপরাজিত ৫০ রান করেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার ফিফটিতে ভর করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ভারত।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ৪ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট নেন তরুণ তারকা পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ৩ ওভারে ৪৩ রানে ২ উইকেট নেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৩ ওভারে ৩৭ রানে মাত্র ১ উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। ৪ ওভারে ২৮ রান খরচ করেন শেখ মাহেদি হাসান। ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করে কোনো সাফল্য পাননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২ ওভারে মাত্র ৮ রান খরচ করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৪.৩ ওভারে দলীয় ৩৫ রানেই ফেরেন ওপেনার লিটন কুমার দাস। তিনি ১০ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ১৩ রান করে ফেরেন।

তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ফের ৩১ রানের জুটি গড়ে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ৩১ বলে চার বাউন্ডারিতে ২৯ রান করে ফেরেন। চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ বলে মাত্র ৪ রানে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়।

১৩.২ ওভা ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৯৮ রান। এরপর একের পর এক উইকেট পতনের কারণে শেষ ৪০ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে ছন্দ পতনের কারণে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি টাইগাররা।