img

৭০ হাজার আসনে ৯২ হাজার জিপিএ ৫ ধারীর ভর্তির লড়াই

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ০১ ডিসেম্বর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৬, ০১ ডিসেম্বর ২০২৩

৭০ হাজার আসনে ৯২ হাজার জিপিএ ৫ ধারীর ভর্তির লড়াই

২২ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও উচ্চশিক্ষায় ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না । এ বছর মোট জিপিএ-এর চেয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা কম থাকায় এই সঙ্কট তৈরি হবে বলে শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজসহ নামী-দামি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৭০ হাজারের মতো। কিন্তু এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন শিক্ষার্থী।

এইচএসসিতে ভালো ফল করলেও পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলে আসন রয়েছে ১৩ লাখের মতো। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই থাকে সবার পছন্দের শীর্ষে। এর জন্য প্রতিযোগিতাও বেশি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় আসন সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। বাকি আসন বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য মতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, অধিভুক্ত কলেজসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে আসন রয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ হাজার, ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই লাখ তিন হাজার ৬৭৫, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আট লাখ ৭২ হাজার ৮১৫, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোতে ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ হাজার ৭৫৬, দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪০, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ১০ হাজার ৫০০টি। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ছয়টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে পাঁচ হাজার ৬০০, ১৪টি মেরিন অ্যান্ড অ্যারোনটিক্যাল কলেজে ৬৫৪, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৯০টি আসন রয়েছে। জানা গেছে, বুয়েটে আবেদনের জন্য এসএসসিতে কমপক্ষে জিপিএ ৪ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৫ থাকতে হবে। এ ছাড়া মেডিক্যালের আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে সর্বনিম্ন ৯ পয়েন্ট থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে কমপক্ষে ৮ পয়েন্ট থাকতে হবে। এ ছাড়া মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে কমপক্ষে ৭.৫ পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩ পয়েন্টের নিচে প্রযোজ্য নয়)। গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য বিজ্ঞানে এসএসসি ও এইচএসসি মিলে আট পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতেই ৩.৫০-এর নিচে নয়)। অপর দিকে মানবিকে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলে ছয় পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩ পয়েন্টের নিচে নয়)। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলে কমপক্ষে ৬.৫ পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩.০ পয়েন্টের নিচে নয়)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির শর্ত অনুযায়ী সাধারণত জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান।

এবার (২০২৩ সালে) জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৯২ হাজার ৫৯৫ জন ছাড়াও জিপিএ ৫-এর নিচে (৩.৫ পর্যন্ত) শিক্ষার্থী আছেন ছয় লাখ ১৩ হাজার ৭৮৪ জন। তবে ৭০ হাজার আসনের জন্যই মূলত এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছেন ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ তাদের প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন। বাকি ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের দ্বিতীয় পছন্দের প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ হাজারের বেশি আসন রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা তাদের কাক্সিক্ষত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে ভর্তি হতে পারবে না।

এরকম পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে পোষ্য কোটা রাখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পোষ্য কোটা থেকে বের হয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি ।

img

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমানো হলো গ্রীষ্মের ছুটি

প্রকাশিত :  ১১:৩৮, ২০ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:১১, ২০ জুন ২০২৪

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ২০ দিনের যে ছুটি চলছে, তা কমিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২৬ জুন খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে এ সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রণালয়টি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে এবার ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে ১৩ জুন, যা চলার কথা ২ জুলাই পর্যন্ত।

এর আগে মাধ্যমিক-১ শাখার একজন উপসচিব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বছরের শুরুতে তীব্র শীত ও মাঝামাঝি সময়ে প্রচণ্ড গরমের কারণে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন কারিকুলামে জুলাই মাসে যে ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন হবে, তার প্রস্তুতি ভালো হয়নি। আমাদের কাছে খবর আছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২ জুলাই পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ জুন পর্যন্ত ছুটি দিয়েছে। অর্থাৎ, ২৪ জুন থেকে তারা ক্লাস নেবেন। ওইদিন অথবা একদিন আগে বা পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নির্দেশনা আসতে পারে। এ নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে অফিস খুললে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া শনিবার পুনরায় ছুটি দেওয়া হতে পারে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল ইসলাম চৌধুরীও সেরকম ঈঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনিবার খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এখন পর্যন্ত শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা আছে। আমরা চেষ্টা করছি, শনিবার যে বন্ধ পূর্বে ছিল, সেটা যাতে করে বলবৎ রাখতে পারি। ইতোমধ্যে আমরা (শিক্ষাবর্ষের) ক্যালেন্ডারের হিসাব নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচিত হয়েছে, প্রায় চারশর মতো। সেখানে সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোতে শনিবারও খোলা রাখতে হতে পারে। আবার সিলেট অঞ্চলে বন্যার কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল সেগুলোতেও বিশেষভাবে খোলা রাখার বিধান রেখে দেশের অন্যান্য জায়গায় পূর্বের মতো বহাল হাল রাখতে পারি তার ওয়ার্ক-আউট করা হচ্ছে। আমরা ঈদুল আজহার পর সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সবাইকে অবগত করব। তবে এ মুহূর্তে যেটা মনে হচ্ছে বন্ধ রাখাটা (শনিবার) সম্ভব হবে।

বছরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকা, বিভিন্ন পরীক্ষা ও মূল্যায়নের সূচি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে স্কুল এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ছুটির তালিকা, বিভিন্ন পরীক্ষা ও মূল্যায়নের সূচি জানানো হয়। এটি ‘শিক্ষাপঞ্জি’ নামে পরিচিত।