জেলে ফখরুল-আব্বাসের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শাহজাহান ওমরের?

প্রকাশিত :  ০৭:১৫, ০২ ডিসেম্বর ২০২৩

জেলে ফখরুল-আব্বাসের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শাহজাহান ওমরের?

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর অত্যাসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকিট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন তিনি। 

তবে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগে কারাগারে থাকাকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আমির খসরু, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়েছিল ব্যারিস্টার ওমরের। 

তিনি জানিয়েছেন, কারাগার থেকে বের হওয়ার কয়েকদিন আগে কেরানীগঞ্জ জেলে থাকার সময় নাশতা খাওয়ার পর আমি (শাহজাহান ওমর) সবাইকে বললাম, এবারের নির্বাচনে যাওয়া উচিত। পরে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বললেন, হ্যাঁ নির্বাচনে যেতে পারি। তবে ৩টি শর্ত আছে। প্রথমটি হচ্ছে, ম্যাডাম জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সবশেষ শর্ত হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে সরকারকে। এমন আলোচনা চলছিল আমাদের মধ্যে। ঠিক তখনি জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের কয়েকজনকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দিল। 

ওই সময় আমার ধারণা ছিল, আমাদের অন্য কারাগারে সরিয়ে মির্জা ফখরুল ও আব্বাসদের নিয়ে কোনো সংলাপের আয়োজন করবে সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। 

এর আগে ৪ নভেম্বর রাতে শাহজাহান ওমরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে বাসে আগুন দেওয়ার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় তাকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

বুধবার বিকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান শাহজাহান ওমর। পরদিন বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। ঢাকা থেকে অনলাইনে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার দাবি, স্বেচ্ছায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে গেছেন। 

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘ওরা (বিএনপি) যাচ্ছে (নির্বাচনে) না, আমি কী করব? স্বতন্ত্রে যাব কেন? স্বতন্ত্রে যাওয়া মানে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা। যেহেতু বিএনপি করছে (নির্বাচন) না। আর যেখানে আমার অপশন আছে, সেখানে স্বতন্ত্রে যাব কেন, নাচতে নামছি যখন, ঘোমটা দিলে হবে নাকি। স্বতন্ত্র বলতে কোনো জিনিস আছে নাকি? স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেব কেন, যখন বেটার অপশন আছে।’

এদিকে ব্যারিস্টার ওমরকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

 

Leave Your Comments


বন্ধ পোস্তগোলা সেতু

মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের বিকল্প পথে চলার পরামর্শ

প্রকাশিত :  ০৪:৩৬, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৪৩, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পোস্তগোলা সেতুর দুটি গার্ডারের মেরামত ও রেট্রোফিটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।মেরামত চলাকালীন ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ- এই ১৬ দিন ভারী যানবাহন চলতে পারবে না এই সেতু দিয়ে। তবে বাস ও হালকা যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকবে পাঁচদিন। এই সময়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

সওজ ঢাকা জোনের গণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে) মহাসড়কের ৩য় কিলোমিটারে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বুড়িগঙ্গা সেতু-১ এর (পোস্তগোলা সেতু) দুটি গার্ডারের মেরামত ও রেট্রোফিটিং কাজ করা হবে। (পুরনো স্থাপনাকে শক্তিশালী করতে নতুন কিছু সংযোগ করাকে রেট্রোফিটিং বলা হয়ে থাকে।)

এই সময়ের মধ্যে ঢাকাসহ ২১ জেলার যানবাহনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি যানজট হতে পারে। তাই হালকা যানবাহন (বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোরিকশা) কে ২৪ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং ১, ৪ ও ৮ মার্চ বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত- ১৬ দিন ভারি যানবাহন (ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, কনটেইনার) গুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।


হালকা যানবাহনের জন্য বিকল্প সড়ক হচ্ছে-

• পদ্মা সেতু থেকে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহন শ্রীনগর-মুন্সীগঞ্জ-মুক্তারপুর সেতু- তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু- মদনপুর সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।

 • সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে পদ্মা সেতুমুখী যানবাহন মদনপুর থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু-মুক্তারপুর সেতু মুন্সীগঞ্জ-শ্রীনগর সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।

 • পদ্মা সেতু থেকে ঢাকাগামী হালকা যানবাহন শ্রীনগর-দোহার-নবাবগঞ্জ- কেরানীগঞ্জ সড়ক, তুরাগ-রোহিতপুর, আব্দুল্লাহপুর-রাজাবাড়ী বাজার- কোনা খোলা মোড়-বছিলা সেতু হয়ে মোহাম্মদপুর সড়ক ব্যবহার করবে ।

ভারি যানবাহনসমূহের জন্য বিকল্প সড়কসমূহের মধ্যে রয়েছে

• যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মহাসড়কগামী যানবাহন ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ড ও বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করে তেঘড়িয়া ইন্টারসেকশন হয়ে মহাসড়কে প্রবেশ করতে পারবে।

• জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মহাসড়ক হতে যাত্রাবাড়িগামী যানবাহন তেঘড়িয়া ইন্টারসেকশন-বাবুবাজার সেতু ব্যবহার করে ধোলাইপাড় হয়ে যাত্রাবাড়ী প্রবেশ করতে পারবে।  

• গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণ অঞ্চলগামী যানবাহন পাটুরিয়া দৌলতদিয়া ফেরীঘাট হয়ে যাতায়াত করবে।

• দেশের পূর্বাঞ্চল/দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল হতে ছেড়ে আসা দক্ষিণাঞ্চল/দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহন চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাট হয়ে যাতায়াত করবে।

• দেশের উত্তরাঞ্চল হতে ছেড়ে আসা দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াত করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ এই পোস্তগোলা সেতুর সংস্কার কাজের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তবে এসএসসি পরীক্ষার সূচির সাথে সমন্বয় করে সেই সময়সূচির পরিবর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে সংস্কার কাজ।

২০২০ সালের ২৯ জুন বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট এলাকায় ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে উদ্ধার করতে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। এসময় পোস্তগোলা সেতু পার হওয়ার সময় সেতুতে ধাক্কা দেয় ও আটকে যায় জাহাজটি। এতে সেতুর নিচের পাটাতন ও বিম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে কয়েক দফায় সংস্কার করে সেতুতে যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে।

কার্যক্ষমতা বাড়াতে পোস্তগোলা সেতু সংস্কার করতে যাচ্ছে সেতুটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

img