img

বাণিজ্য নিয়ে ইইউর প্রতিবেদন বাংলাদেশের জন্য 'সতর্কবার্তা'

প্রকাশিত :  ০৫:১৮, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩

বাণিজ্য নিয়ে ইইউর প্রতিবেদন বাংলাদেশের জন্য 'সতর্কবার্তা'

বাংলাদেশের শ্রম ও মানবাধিকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এই প্রতিবেদনকে ‘সতর্ক বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থনীতিবিদরা, ইউরোপীয় কমিশনের উদ্বেগের বিষয়গুলো বাংলাদেশের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ বর্তমানে ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস) সুবিধা পায়। এর অর্থ হচ্ছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়া রফতানিযোগ্য সব পণ্যের ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত প্রবেশাধিকার।

এই সুবিধার আওতায় বর্তমানে ৪৭টি দেশ রয়েছে। এই দেশগুলোকে ইউরোপে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হয় না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এটার মানে এই নয় যে তারা ইবিএ থেকে উইথ-ড্র করবে সেটা না, তাদের কিছু কনসার্ন আছে। সুতরাং সেদিক থেকে অবশ্যই এটা আমাদের সিরিয়াসলি নেয়া উচিত।’

গত ২১ নভেম্বর ইউরোপীয় কমিশন জিএসপি নিয়ে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের সাথে হাই রিপ্রেজেনটেটিভ অব দ্য ইউনিয়ন ফর ফরেইন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির সাথে যৌথভাবে করা একটি স্টাফ ওয়ার্কিং ডকুমেন্টসও রয়েছে।

জিএসপি প্লাসভুক্ত নয়টি দেশের মধ্যে প্রত্যেকটির জন্য এবং ইবিএভুক্ত শুধু তিনটি দেশের জন্য একটি ডকুমেন্টস তৈরি করা হয়েছে।

ইবিএভুক্ত এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়া।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি এ তিনটি দেশের সাথে তাদের ‘কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছে’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব দেশের সাথে যেসব ক্ষেত্রে ‘কর্মকাণ্ড বাড়ানো’ হয়েছে তার মধ্যে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে যা জাতিসঙ্ঘের মূল নীতি ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিবেদন ও পরামর্শের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

এতে ইবিএভুক্ত দেশগুলোতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, সুশীল সমাজ ও ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন পরামর্শ বাস্তবায়নের অবস্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বর্তমানে থাকা জিএসপি নিয়ম-কানুনের মেয়াদ চলতি বছরের শেষদিকে শেষ হয়ে যাবে। নতুন জিএসপি নিয়ম-কানুন গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই সময়ে বর্তমান নিয়ম-কানুনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়ার শেষ ধাপের কাজ করছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং কাউন্সিল।

জিএসপি, জিসপি প্লাস ও ইবিএ কী?

জিএসপি হচ্ছে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ইউরোপের বাজারে রফতানি সহায়তা দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য নীতি। এর মাধ্যমে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোকে ইউরোপের বাজারে পণ্য আমদানি-রফতানির শুল্ক মওকুফ বা কমানো হয়।

বর্তমানে বিশ্বের ৬৫টি দেশ এই সুবিধা ভোগ করছে। তবে ইউরোপের বাজারে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু এবং সুশাসনের বিষয়ে কিছু শর্ত পালন করতে হয়।

স্ট্যান্ডার্ড জিএসপি

ইউরোপের বাজারে বিভিন্ন দেশের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের তিনটি ভাগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড জিএসপি বা সাধারণ জিএসপি।

নিম্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্ত দেশগুলোকে সাধারণ জিএসপি সুবিধা দেয়া হয়। এর আওতাভুক্ত দেশগুলোকে ইউরোপের বাজারে রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পণ্যের শুল্ক পুরোপুরি বা আংশিক প্রত্যাহার করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি সুবিধাভুক্ত দেশের সংখ্যা ১০টি।

জিএসপি প্লাস

টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয় জিএসপি প্লাসের আওতায়। এর আওতায় নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশগুলোকে শূন্য শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়।

তবে এর জন্য জিএসপি প্লাসভুক্ত দেশগুলোকে মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসন সংক্রান্ত ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করতে হয় এবং সেগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হয়।

জিএসপি প্লাসভুক্ত দেশ হতে হলে এর জন্য আবেদন করতে হয়। বর্তমানে জিএসপি প্লাস সুবিধা ভোগকারী দেশের সংখ্যা আটটি।

ইবিএ

একটা দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার তিন বছর পর নিয়মানুযায়ী সেটি সাধারণ জিএসপি সুবিধার আওতায় পড়বে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাধারণভাবেই ২০২৯ সালের পর আর ইবিএ সুবিধা পাবে না। এর পর জিএসপির আওতায় আসবে দেশটি। তবে বাংলাদেশ তখন জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার আবেদন করতে পারবে।

যা আছে প্রতিবেদনে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে রফতানির ক্ষেত্রে ইবিএভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশ।

গত কয়েক দশকে এই সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

বাংলাদেশের রফতানি মূলত তৈরি পোশাক শিল্প নির্ভর। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট রফতানির ৯০ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে হয়েছে। একই বছর বাংলাদেশ থেকে ২২,৬৭২ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপে বাংলাদেশের সব রফতানিই ইবিএ সুবিধার আওতায় হয়ে থাকে।

২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত কোভিড মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অন্য ইবিএভুক্ত দেশের তুলনায় ইতিবাচক ছিল।

২০১৮ ও ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে দেশটি এই তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার মানে হচ্ছে এর তিন বছর পর বাংলাদেশ ইবিএভুক্ত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে সাধারণ জিএসপি ভুক্ত দেশ হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়মিত তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বাংলাদেশকে জানিয়েছে। এ পর্যন্ত দু’টি পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশ সফর করেছে। একটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে এবং আরেকটি ২০২২ সালের মার্চে। এই সফরের সময় ইইউ-এর প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগের বিষয়ে সীমিত উন্নতি সাধিত হয়েছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ক্ষেত্রে পূর্ণ তদন্ত করে দায়ীদের ন্যায়বিচারের আওতায় আনতে সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশন গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাবনার বিষয়ে যৌথ মোশন গ্রহণ করেছে।

ভবিষ্যতের যা করতে হবে সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রম অধিকারের উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রম অধিকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে। একইসাথে আইএলও এর রোড ম্যাপ অনুযায়ী অর্জিত অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানাতে হবে।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতন অভিযোগের তদন্ত করতে হবে। একই সাথে মানবাধিকার কাউন্সিলের সুপারিশ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নীত হওয়ার আলোকে জিএসপি বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

এর ফলে বাংলাদেশ ইবিএ থেকে সাধারণ জিএসপি সুবিধাভুক্ত হবে। তখন বাংলাদেশ যে জিএসপির সব ধরণের নিয়ম বিশেষ করে উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো পূর্ণ করতে সক্ষম তা দেখাতে পারে।

বাংলাদেশ তার জিএসপি সুবিধার শর্ত বাস্তবায়ন করছে কি না তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা অব্যাহত রাখবে ইইউ। একইসাথে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ঢাকায় ইইউ- এর একটি উচ্চ পর্যায়ের মিশনের মাধ্যমে চলমান সম্পৃক্ততা আরো বাড়াবে।

যা নিয়ে উদ্বেগ

শ্রম অধিকারের বিষয়ে ইইউ’র প্রধান উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে-

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শ্রম আইন প্রণয়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারের পথে আইনি বাধা দূর করা, রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় ট্রেড ইউনিয়নের অনুপস্থিতি, কারখানা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পেশাগত নিরাপত্তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে থাকা বৈষম্যের নিরসন করা।

ইউনিয়ন-বিরোধী বৈষম্য যার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা, হয়রানি, চাকরিচ্যুতি, পর্যাপ্ত তদন্ত না করে শ্রমিকদের গ্রেফতার ও মামলা দায়ের

শ্রম পরিদর্শনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা ও সামর্থ্যের ঘাটতি

এছাড়া মানবাধিকার, অনলাইন ও অফলাইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সুশীল সমাজের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নির্যাতনের অভিযোগ, হয়রানি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিষয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

সতর্কবার্তা?

২০১৭ সালে প্রথম এই দেশগুলোর সাথে ‘কর্মকাণ্ড বাড়ানো’ হয় এবং এটি এ সংক্রান্ত দ্বিতীয় নথি বলেও জানানো হয়। এ তিনটি দেশের বাইরে ইবিএভুক্ত ৪৭টি দেশের মধ্যে আর কোনো দেশ নিয়ে এই নথি বানানো হয়নি।

অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই প্রতিবেদনের মানে হচ্ছে তারা এই দেশগুলোকে বিশেষ পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘এটা থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে তাদের কিছু কনসার্ন আছে। তারা কনসার্নগুলো এ তিনটি দেশের সাথে আলাপ-আলোচনা করছে, তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে এবং এটা যে মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখছে, সেটাও তারা জানাচ্ছে। সুতরাং সেদিক থেকে অবশ্যই এটা আমাদের সিরিয়াসলি নেয়া উচিত।’

তিনি আরো বলেন, জিএসপি প্লাস সুবিধা যাদের দেয়া হতো তারা সব ধরণের শর্ত মানছে কি না সেটির প্রতিই নজর ছিল ইউরোপীয় কমিশনের। ইবিএ বা সাধারণ জিএসপিভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে তারা খুব একটা সচেতন থাকতো না। বরং ইবিএ সুবিধাটাও মোটামুটিভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দেয়া হতো।

‘কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ইবিএভুক্ত দেশগুলোর প্রতিও বিভিন্ন ইস্যুগুলো নিয়ে আরো বেশি সংশ্লিষ্ট হচ্ছে এবং এই ইস্যুগুলো মানা হচ্ছে কিনা সেটা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছে,’ বলেন তিনি।

তিনি মনে করেন, এই প্রতিবেদনকে বাংলাদেশের গুরুত্বের সাথে নিয়ে সেগুলো নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ইউরোপ একটা বড় বাজার। সেখানে বাংলাদেশ যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, সেটা তৈরি পোশাক তো বটেই সব ধরণের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হয় না। সেটার দিক থেকে এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি একটি ‘সতর্কবার্তা’ কারণ ইবিএভুক্ত যে ৪৭টি দেশ আছে, তাদের মধ্যে মাত্র তিন দেশ নিয়ে এই আলোচনাটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে, সেটার বিষয়ে তারাও কিছু কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে, শ্রম অধিকার, শ্রম পরিবেশ, মানবাধিকার ইত্যাদি।

কিছুদিন আগে শ্রম অধিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নতুন নীতির ঘোষণা দিয়েছে এবং সেখানে বাংলাদেশের এক গার্মেন্টস কর্মী ও শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তারকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে যে এটা আসলে সারাবিশ্বের শ্রম পরিস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি নীতি গ্রহণ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।


img

বাজারে উল্টো চিত্র, নতুন চাল উঠলেও বেড়েছে দাম

প্রকাশিত :  ০৯:৪৪, ১৭ জুলাই ২০২৪

বাংলা মাসের হিসেবে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত চলে ধান কাটা ও মাড়াই। এরপর ধান বিক্রি হয়ে চালকল থেকে চলে আসে আড়তে। ইতোমধ্যে নতুন ধানের চাল আসতে শুরু করেছে আড়তগুলোতে। নতুন চাল বাজারে এলে সাধারণত দাম কমে। কিন্তু এবার বাড়ছে চালের দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

এবার বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অথচ পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। গত এক মাসের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত। উৎপাদন খরচের কারণে চালের দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিল মালিকরা। আড়তদাররা বলছেন, মিল মালিকরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি আড়তে চালের দাম বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা।

মিল মালিকদের ভাষ্য, মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ২৯০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মোটা চাল (গুটি স্বর্ণা) প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে জিরাশাইল চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার টাকায়।

পাইকারি চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিলার ও মৌসুমি ধান ব্যবসায়ীদের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই বাড়তি দর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা সমন্বয় করছেন। ফলে চাল কিনতে বেশি টাকা খরচ হওয়ায় ক্রেতারা পড়ছেন বেকায়দায়।

রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার পাইকারি চাল বিক্রেতা ফাতেমা রাইস এজেন্সির মালিক দাবিরুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলেছে চালের দাম। প্রতিদিনই বাড়ছে। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আশা করি চালের দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারবো।

এদিকে ধান ও চালের সবচেয়ে বড় মোকাম নওগাঁ জেলায়। মিল গেটে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে ধানের দাম প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। ধানের দাম বাড়ার কারণে সরু ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

নওগাঁ মৌ অ্যাগ্রো অ্যারোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক ইফতারুল ইসলাম বলেন, কোরবানি ঈদের পর থেকে বাজারে জিরা ও কাটারি ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই দুই প্রকার ধানের দাম বেড়েছে প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নাটোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রব খান চৌধুরী বলেন, বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকা, বর্ষাজনিত কারণে ধান সেদ্ধ ও শুকাতে না পারায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া এবার সরকার গোডাউনে আগে ধান নেওয়ায় বাজারে মোটা চালের ঘাটতি পড়েছে। সে জন্য চিকন চালের ওপর চাপ পড়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহীর উপ-পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের অভিযান চলছে। চাল ব্যবসায়ীদের সতর্কও করা হচ্ছে। এরপরও যারা সতর্ক হচ্ছে না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।