জবির কলা অনুষদের ডিন হোসনে আরা বেগম জলি

প্রকাশিত :  ০৭:৫৮, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৪, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩

জবির কলা অনুষদের ডিন হোসনে আরা বেগম জলি

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম জলি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ এর ২২(৫) ধারা মোতাবেক সিন্ডিকেট অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগমকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য কলা অনুষদের ডিন হিসেবে নিযুক্ত করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হোসনে আরা বেগম ৩ ডিসেম্বর হতে পরবর্তী দুই বছরের জন্য কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও বিধি মোতাবেক তিনি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এর আগে কলা অনুষদের ডিন ছিলেন অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন।

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৯৩ সালে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক হিসেবে হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে বদলি হয়ে যোগদান করেন ঢাকা সরকারি তিতুমীর কলেজের বাংলা বিভাগে। পরবর্তীতে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে যোগদান করেন তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজের বাংলা বিভাগের নৈশ শাখায়। ২০০৬ সালে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগেই প্রেষণে যোগদান করেন।

২০১০ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। ২০১২ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস অ্যান্ড গ্রাফিক্স (বর্তমানে চারুকলা বিভাগ) বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

Leave Your Comments


যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বরখাস্ত জাবি শিক্ষক জনি

প্রকাশিত :  ০৪:২৯, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

অবশেষে যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার শেষ করলো প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদনের পর স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদনেও জনির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা মেলায় শাস্তিস্বরূপ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত (চাকরিচ্যুত) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সচিব আবু হাসান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আবু হাসান বলেন, ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কর্তৃক গঠিত স্ট্রাকচার্ড কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৪ (জ) ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর মাহমুদুর রহমান জনি ও একই বিভাগে ওই সময় সদ্য নিয়োগপাওয়া প্রভাষক আনিকা বুশরা বৈচির একটি অন্তরঙ্গ ছবি (সেলফি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়। যেখানে বলা হয়, ‘এভাবেই ললিপপের ভেল্কিতে শিক্ষিকা হলেন আনিকা বুশরা বৈচি।’

একই সাথে বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদনকারী ৪৩ ব্যাচের আরেক ছাত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ কথাবার্তার অডিও প্রকাশ্যে আসে। যেখানে মাহমুদুর রহমান জনি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর কথা শোনা যায়। এছাড়া, জনির সাথে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক স্থাপন এবং ‘অশালীন’ চ্যাটিংয়ের ছবি ও তথ্য উঠে আসে।

এর প্রেক্ষাপটে জনির বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর একাধিক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটিকে ওই বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্পষ্ট নয় মর্মে দাবি করে একই বছরের ৯ মার্চ পুনরায় গঠিত হয় ‘স্পষ্টীকরণ কমিটি’ । সর্বশেষ গত বছরের ১০ আগস্ট ওই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠিত হয়।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কুরিয়ারযোগে সাংবাদিকদের কাছে উপাচার্যকে গালিগালাজ করার অডিও ক্লিপ-সম্বলিত একটি ডিভিও, দায়মুক্তিপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত আবেদনপত্র ও একটি উড়োচিঠি আসে। সেখানে ৫২ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপে মাহমুদুর রহমান জনিকে বলতে শোনা যায়, ‘বাট ইউ ফরগেট, আই ওয়াজ ওয়ন্স আপন এ টাইম, আই ওয়াজ দ্য এক্স প্রেসিডেন্ট অফ বিএসএল-জেইউ। আমি হয়তো ধরা খাবো, ধরা খাবো না এমন বলছি না। কিন্তু ধরা খাওয়ার আগে আমি চার-পাঁচটা মুখ শেষ করে দেবো।’

দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুসারে স্ট্রাকচার্ড কমিটি ছয় সদস্যবিশিষ্ট হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভিসি। এ ছাড়া নিজ অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, দুজন সিন্ডিকেট সদস্য এবং রেজিস্ট্রার এই কমিটির সদস্য মনোনীত হন। স্ট্রাকচার্ড কমিটির কার্যক্রম উপাচার্যের আহবানে সংগঠিত হয়। সে হিসেবে মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে গঠিত এই কমিটিতে আছেন ভিসি অধ্যাপক নূরুল আলম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নুহু আলম, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান মাহফুজা মোবারক এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ ও অধ্যাপক আশরাফ-উল আলম।


img