একুশে বইমেলা

img

হাতুড়ির টুংটাং আওয়াজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ০৩:৫৬, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:২৬, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

 হাতুড়ির টুংটাং আওয়াজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা
হাতুড়ির টুংটাং আওয়াজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা

অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ আসরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এ বছর বইমেলা আয়োজনের স্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাসব্যাপী লেখক-পাঠকদের মিলনমেলাস্থলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ শেষে চলছে নির্মাণ কাজ। হাতুড়ির টুংটাং আওয়াজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি চলছে রঙের কাজ।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বইমেলা স্থল ঘুরে দেখা যায়, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বেশিরভাগ স্টল ও প্যাভিলিয়নের অবকাঠামো তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। যারা এখনও শেষ করতে পারেনি, তাদের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরেই। অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বেশিরভাগ স্টলে চলছে রঙ করার কাজ। এর সাথে একযোগে চলছে প্রকাশনীগুলোর নামফলক তৈরি ও ডেকোরেশনের কাজ।

বেশিরভাগ স্টলই তৈরি হচ্ছে কাঠ ও বাঁশের অবকাঠামোর উপর। তবে বড় বড় ও নামী প্রকাশনীগুলোর ভিত তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ইট-সিমেন্ট। ইটের ভিতের উপর বাঁশ ও ফোম (পন্ডস) দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দেয়াল। ছাদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে টিন। এর নিচে পন্ডস দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা নকশা।

বিভিন্ন প্রকাশনী ও বিপণি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল। রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের স্টল। বই মেলার নিরাপত্তায় নির্দিষ্ট প্রবেশমুখ ছাড়া চারপাশে তৈরি করা হচ্ছে টিনের প্রাচীর। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ ও বহির্গমন নিশ্চিতে তৈরি করা হচ্ছে বাঁশের ব্যারিকেড।

প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে স্টলে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক হেলাল মিয়া বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। স্টল তৈরি শেষে এখন রঙ করার কাজ চলছে। আগামীকালের মধ্যে রঙের কাজ শেষ হবে। আমরা বুঝয়ে দেওয়ার পর স্টল মালিক ডেকোরেশনের কাজ করবেন। সব ঠিকঠাক থাকলে ৩০ তারিখের মধ্যে সকল কাজ শেষ হয়ে যাবে।

কবে থেকে কাজ শুরু করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রায় সপ্তাহখানেক আগে শুরু করেছি। এখানে বেশিরভাগ স্টলের কাজই ২৩ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে।

প্যাভিলিয়নের ব্যানারে রঙের কাজ করা জামাল শেখ বলেন, আমি গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছি। প্যাভিলিয়নের অবকাঠামো প্রায় প্রস্তুত। আমার কাজ মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে। কাল-পরশুর মধ্যেই শেষ করে ফেলতে পারবো বলে আশা করছি।

লিপ ইয়ার বছর হওয়ার এবার বইমেলা চলবে ২৯ দিন। এ বছর মেলায় ৫৭৩ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮৯৫টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮৬টি সাধারণ স্টল এবং ১০৯টি স্টল লিটল ম্যাগাজিন চত্বরকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর মোট ৩৭টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আগে, গত বছর ৬০১টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৯০১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

আয়োজকরা জানান, গত ২৩ জানুয়ারি ডিজিটালাইজড লটারি পদ্ধতিতে পুরনো এবং নতুন তালিকাভুক্ত প্রকাশনার জন্য স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ৬০১টি সংস্থা ছাড়াও প্রায় ৭০টি নতুন প্রকাশনা নোটিশে সাড়া দিয়ে স্টল বরাদ্দ পেতে আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২৩টি নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

এছাড়াও এবারের বইমেলা চলাকালে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ বছর ১১টি বিভাগে ১৬ জনকে কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ বা গবেষণা, অনুবাদ, নাটক, শিশুসাহিত্য বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, পরিবেশ বা বিজ্ঞান ক্ষেত্র, জীবনী ও লোককাহিনী ইত্যাদি বিভাগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ দেওয়া হবে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার তুলে দেবেন বলে বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে।


এএস

img

না ফেরার দেশে কবি অসীম সাহা

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৮ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৮ জুন ২০২৪

খ্যাতিমান কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কবির ছেলে অর্ঘ্য সাহা। অর্ঘ্য সাহা জানান, তার বাবার মরদেহ দান করা হবে।

কবি অসীম সাহা পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর। তার বাবা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক।

অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

অসীম সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পূর্ব পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কবি অসীম সাহা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

খ্যাতিমান এ কবির মৃত্যুতে তার গুণগ্রাহী কবিরাসহ নানা স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। তার রেখে যাওয়া শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।