img

বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার

প্রকাশিত :  ১০:৪৫, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৭, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার

এক দশক আগে ২০১৪ সালে পাওয়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার।

রোববার(২৮ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এ সংক্রান্ত পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘পাঠিয়ে দিলাম। খুব ভারমুক্ত লাগছে।’ এর সঙ্গে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর পুরস্কার ফেরত দেয়া বিষয়ক একটি চিঠি ও এক লাখ টাকার চেকের ছবি সংযুক্ত করেছেন।  

এ বিষয়ে জাকির তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলা একাডেমি যে স্বেচ্ছাচারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মেনে নিতে পারি না। একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে  প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে। 

তিনি বলেন, গণতন্ত্রহীনতা, আমলাতান্ত্রিকতা, প্রতিষ্ঠানের মানের নিম্নগামিতা এবং আড়াই দশক ধরে নির্বাচন না দিয়ে নিজেদের পছন্দমত লোক দিয়ে একাডেমি পরিচালনায় নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মান যখন নিম্নগামী হতে থাকে, তখন এই পুরস্কার অর্থহীন হয়ে যায়। এজন্যই আমি পুরস্কার ফেরত পাঠিয়েছি।

২০১৪ সালে কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য পাওয়া ক্রেস্ট এবং আর্থিক সম্মানীর চেক ডাকযোগে বাংলা একাডেমিতে ফেরত পাঠিয়েছেন এই লেখক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, আমরা এখনো এ ধরনের কিছু অফিসিয়ালি জানি না।

উল্লেখ্য, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার লেখালেখির শুরু থেকেই আলাদা এক পথ নির্মাণে সচেষ্ট ছিলেন। জাকির তালুকদারের বেড়া ওঠা নাটোরে। তার লেখায় ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরাণের সংমিশ্রণ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাত্রা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। তার উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে কুরসিনামা, বহিরাগত, মুসলমানমঙ্গল, পিতৃগণ, কবি ও কামিনী, মৃত্যুগন্ধী। এছাড়া গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, অনুবাদসহ তিন ডজনের বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে তার।


img

না ফেরার দেশে কবি অসীম সাহা

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৮ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৮ জুন ২০২৪

খ্যাতিমান কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কবির ছেলে অর্ঘ্য সাহা। অর্ঘ্য সাহা জানান, তার বাবার মরদেহ দান করা হবে।

কবি অসীম সাহা পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর। তার বাবা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক।

অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

অসীম সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পূর্ব পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কবি অসীম সাহা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

খ্যাতিমান এ কবির মৃত্যুতে তার গুণগ্রাহী কবিরাসহ নানা স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। তার রেখে যাওয়া শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।