জনপ্রিয়তা বাড়ছে সাইকিয়াট্রিস্ট বটদের

প্রকাশিত :  ১১:৫৩, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০১, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জনপ্রিয়তা বাড়ছে সাইকিয়াট্রিস্ট বটদের

মানসিক স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে পারে এ রকম বটের চাহিদা বাড়ছে প্রতিদিন। ক্যারেক্টার ডট এআই সাইটটিতে আছে ৪৭৫টি থেরাপি, থেরাপিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট বট। 

হ্যারি পটার, ইলন মাস্ক, সুপার মারিও কিংবা ভ্লাদিমির পুতিন, যাঁর সঙ্গে যখন ইচ্ছা কথা বলতে পারেন, নিতে পারেন তাঁদের সুপরামর্শও! সব কিছুই সম্ভব হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফরম ‘ক্যারেক্টার.এআই’-এর মাধ্যমে। লাখ লাখ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে এখানে।

এই প্ল্যাটফরমে যে কেউ কাল্পনিক বা বাস্তব মানুষের ওপর ভিত্তি করে বানিয়ে ফেলতে পারে চ্যাটবট। চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ক্যারেক্টার ডট এআই থেকে বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে চ্যাটজিপিটি। অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘সিমিলারওয়েব’-এর বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, চ্যাটজিপিটির চেয়ে ক্যারেক্টারের সাইটে অনেক বেশি সময় ব্যয় করে এটির ব্যবহারকারীরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়াতে জনপ্রিয় ক্যারেক্টার ডট এআইতে অন্য সব কিছু ছাপিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে পারে এ রকম বটের চাহিদা বাড়ছে প্রতিদিন।

আরও পড়ুন: বাসযোগ্য সুপার আর্থের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

ক্যারেক্টার ডট এর মোট ৪৭৫টি বট রয়েছে, যাদের নামের সঙ্গে যুক্ত আছে থেরাপি, থেরাপিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট বা সাইকোলজিস্ট। একাধিক ভাষায় কথা বলতেও ‘এরা’ সিদ্ধহস্ত। এসব বটের মধ্যে কিছু বটকে বিনোদন বা ফ্যান্টাসি চরিত্র হিসেবেও পাওয়া যায়। প্রতি মাসেই মানসিক স্বাস্থ্যের এসব বট কয়েক মিলিয়ন টেক্সট পায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের থেকে।

‘আর ইউ ফিলিং ওকে?’ নামের বটটি এখন পর্যন্ত ১৬.৫ মিলিয়ন টেক্সট পেয়েছে। তবে সব কিছুকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ‘ব্লেজম্যান৯৮’ বটটি। গত বছরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সাত কোটি ৮০ লাখ টেক্সট এসেছে ব্লেজম্যান৯৮-এর কাছে।  মূলত সাইকোলজির ছাত্র নিউজিল্যান্ডের ৩০ বছর বয়সী স্যাম জাইয়া এই বটটিকে ডেভেলপ করেছিলেন। পেশাদার মনোবিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্থানে খুব একটা অবাক হচ্ছেন না।

পেশাদার একজন মনোবিজ্ঞানী জানান, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি মোটেও উদগ্রীব নন। সাধারণত মন খারাপের কথা কাছের কোনো বন্ধুকে বললেও যতটা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তার চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায় বটগুলো। ক্যারেক্টার ডট এআইকে থেরাপিউটিক বিপ্লবের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখছে অনেকেই। কম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ব্যবহারকারী ও আমাদের মাধ্যমে বানানো চরিত্রগুলো মানুষকে আনন্দ দেওয়াতে আমরা নিজেদের কিছুটা হলেও সার্থক ভাবি।’ তবে সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার জন্য সবার উচিত পেশাদার থেরাপিস্টদের থেকে পরামর্শ নেওয়া। ২০ মিলিয়ন নিবন্ধিত ব্যবহারকারী থাকলেও প্রতিদিন ৩৫ লাখ ডিভাইস থেকে ক্যারেক্টার ডট এআই সাইট ভিজিট হয় সারা বিশ্ব থেকে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘এলএলএম’ প্রযুক্তির বাধ্যমে বানানো ক্যারেক্টারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ‘রেপ্লিকা’। তবে অবাধ যৌনতা থাকার কারণে ক্যারেক্টারের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে ‘রেপ্লিকা’।

Leave Your Comments


ফ্রিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর কোর্স করাচ্ছে গুগল

প্রকাশিত :  ১১:০১, ০৩ মার্চ ২০২৪

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোয়ার এনেছে প্রযুক্তির জগতে। ইতিমধ্যেই এআই-র দৌলতে চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আগামী কয়েক বছর পর চাকরি পেতে গেলে বা চাকরি টিকিয়ে রাখতে গেলে অবশ্যই প্রয়োজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান।

আমরা ডিজিটাল যুগে রয়েছি। ঘুম থেকে ওঠা থেকে ঘুমোতে যাওয়া অবধি, দৈনন্দিন সমস্ত কাজেই আমরা যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠছি। ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি সকলে। যত সময় এগোচ্ছে, ততই অত্যাধুনিক হচ্ছে প্রযুক্তি। নিত্যদিনই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হচ্ছে। তবে সম্প্রতি প্রযুক্তির জগতে জোয়ার এনেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।  লাখ লাখ টাকা দিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কোর্স করাচ্ছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, কিন্তু আপনি কি জানেন বিনামূল্যেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কোর্স করা যায়?

বিনামূল্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কোর্স করার সুযোগ দিচ্ছে গুগল। চাইলে আপনিও এই কোর্স করতে পারেন। কী কী এই কোর্স, জেনে নিন—

১. ইন্ট্রোডাকশন টু জেনেরেটিভ এআই-জেনেরেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে আপনার পরিচয় করায় এই কোর্স। অপারেশনাল মেকানিজম নিয়ে শিক্ষা দেয় এই কোর্স।

২. ইন্ট্রোডাকশন টু লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল—এন্ট্রি লেভেলে মাইক্রো লার্নিং নিয়ে কোর্স এটি।

৩. ইন্ট্রোডাকশন টু রেসপন্সিবল এআই কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হয় এবং গুগল কীভাবে তাদের বিভিন্ন প্রোডাক্টে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে, তা নিয়েই গুগল এই কোর্স  তৈরি করেছে।

৪. জেনারেটিভ এআই ফান্ডামেন্টাল-জেনারেটিভ এআই, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও রেসপন্সিবল এআই নিয়ে তৈরি গুগলের এই কোর্স। কোর্স শেষে গুগলের তরফে একটি ব্যাজও দেওয়া হবে।

৫. ইন্ট্রোডাকশন টু ইমেজ জেনেরেশন—ছবিতে কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হয়, সে সম্পর্কে শিক্ষা দেবে গুগলের এই কোর্স।

img