পাকিস্তানের নির্বাচনে এগিয়ে ইমরানপন্থী স্বতন্ত্ররা

প্রকাশিত :  ০৯:৩০, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তানের নির্বাচনে এগিয়ে ইমরানপন্থী স্বতন্ত্ররা
ভোটগ্রহণের একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যায়নি পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের। নির্বাচন কমিশন ঢিমেতালে ফলাফল ঘোষণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফলাফলে নির্বাচনে অযোগ্য হওয়া কারাবন্দি ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

পাকিস্তানের শীর্ষ গণমাধ্যম জংয়ের খবরে বলা হয়, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬৬টি আসনে জয় পেয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের নেতা। এছাড়া নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ ৪৬টি এবং পিপলস পার্টি ৩২টি আসনে জয় পেয়েছে।

পাকিস্তানে ভোটপর্ব শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটায়। কিন্তু তারপর ভোটগণনার কাজ খুবই ঢিমে গতিতে এগিয়েছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামান্য কিছু আসনের ফলাফল জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পিটিআই নেতা ওমর আয়ুব খান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনপরবর্তী রিগিং হচ্ছে। তিনি রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তারা যেন এই ধরনের কোনো রিগিং না করেন।

রাওয়ালপিন্ডির পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী বশারত রাজা বলেছেন, এখানে ফলাফল নিয়ে কারচুপি করা হয়েছে। তিনি আসলে এই কেন্দ্রে ৫০ হাজার ভোটে জিতেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ভোটকেন্দ্রেই লিড পাননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লাহোরের একটি কেন্দ্র থেকে জিতেছেন। নওয়াজ শরিফ একটি আসনে হারলেও অন্যটিতে সামান্য ভোটে জিতেছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম।

ইমরানের পিটিআই এবার দল হিসেবে লড়তে পারেনি। তবে তারা স্বতন্ত্র বা নির্দলদের সমর্থন করেছে। নির্দলরা ভোটে লড়েছেন। প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, পিটিআই সমর্থিত নির্দলরা নওয়াজ শরিফ ও ভুট্টোর দলকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছেন।

ভোটগণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, ইন্টারনেট সমস্যার জন্য ভোটগণনার ক্ষেত্রে এত দেরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।

এর আগে ভোটগ্রহণের দিনে পাকিস্তানজুড়ে বন্ধ রাখা হয় মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট চল বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্র দখলের পাশাপাশি গ্রেনেড হামলা হয়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ জনসহ নিহত হন ১২ জন।

Leave Your Comments


গাজার হাসপাতালে ক্ষুধা-অপুষ্টিতে মারা গেল আরও ১৫ শিশু

প্রকাশিত :  ১২:০১, ০৩ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৯, ০৩ মার্চ ২০২৪

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগে আরও ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তীব্র অপুষ্টির বিরুদ্ধে ইউনিসেফ প্রধানের সতর্ক করার পরই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার 

অবরুদ্ধ গাজায় বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতির খবরের মধ্যে এই ১৫ শিশু মৃত্যুর তথ্য জানা গেল।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি কামাল আদওয়ান হাসপাতালে চার শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর আল শিফা হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রায় পাঁচমাস ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ হামলার কারণে অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডটিতে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে কয়েক লাখ বাসিন্দা।

লাখো মানুষ উদ্বাস্তু, খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েলের বাধায় গাজায় ত্রাণ সহায়তা সরবরাহের গতি আরও মন্থর হয়ে গেছে। ত্রাণ না পৌঁছানোয় ছোট ছোট শিশুরাও অনাহারে থাকছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যের অভাবে শরণার্থী শিবিরে থাকা মায়েরা নবজাতকদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না। তারা দুধের পরিবর্তে নবজাতকদের খেজুর খাওয়াচ্ছেন।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর গাজামুখী অর্ধেকের বেশি ত্রাণ সহায়তাকে গত মাসে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। কোথায় ও কীভাবে এই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে–সে বিষয়েও জাতিসংঘের ওপর খবরদারি করছে ইসরায়েলি সেনারা।


img