ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে মানতে হবে যে নিয়ম

প্রকাশিত :  ০৭:২৭, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩৪, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে মানতে হবে যে নিয়ম

নানান সমস্যায় পড়তে হয় ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের। তবে নিয়ম অনুযায়ী চললে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় এ রোগটির। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে অনেকগুলো নিয়ম মেনে চলতে হয়। কারণ তখন আর অন্য দশজনের মতো স্বাভাবিক রুটিনে চলা সম্ভব হয় না। ডায়াবেটিস ক্ষতিকর। কিন্তু নিয়ম মেনে চলতে পারলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অনেক অসুখ থেকে দূরে থাকা সহজ হবে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস থাকলে কোন নিয়মগুলো মানতেই হবে-

মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন

যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। যতই লোভ হোক না কেন, এ জাতীয় খাবার খাবেন না। অনেক সময় আপনার কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু সেই ইচ্ছাও নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে। কোনো ধরনের কোল্ড ড্রিংকস খাবেন না। কারণ এতে অনেক বেশি চিনি থাকে। তাই এগুলো পরিহার করুন।

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে প্রসেস খাবার এবং রিফাইন কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে হবে। কারণ এ ধরনের খাবার খেলে তা আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য এটি ভীষণ ক্ষতিকর অভ্যাস।


ভাজাপোড়া ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার

ডায়াবেটিস মানেই সব ধরনের মুখরোচক খাবারে এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা চলে আসা। এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হলে আপনাকে অবশ্যই ভাজাপোড়া ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এ ধরনের খাবার ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি আরও বেশি অসুখে ভুগতে পারেন।


সাদা পাউরুটি এড়িয়ে চলুন

সকালের নাস্তায় অনেকে সাদা পাউরুটি খেয়ে থাকেন। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সাদা পাউরুটির বদলে লাল আটার তৈরি রুটি খেতে পারেন। কারণ সাদা পাউরুটি খেলে তাও ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়। তাই এ ধরনের খাবার তালিকা থেকে বাদ দিন।

Leave Your Comments


রান্নাঘরে আগুন লাগলে যা করবেন

প্রকাশিত :  ১০:১০, ০৩ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০২, ০৩ মার্চ ২০২৪

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আগুন লাগে শর্ট সার্কিট থেকে। এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ চুলার আগুন বা রান্না করতে গিয়ে আগুন লাগা। শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে আগুন লাগার কারণ ভিন্ন। অগ্নিদুর্যোগের ক্ষেত্রে যদিও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে নগর-মহানগরের বহুতল ভবন। অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ অনুসারে বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্ট সার্কিট থেকে লাগে আগুন। আবার অনেক বাড়িতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কিংবা গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকেও ছড়াতে পারে আগুন।

যেভাবেই লাগুক না কেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়? অনেক ক্ষেত্রে তা প্রাণহানীর সমূহ কারণ হয়ে উঠতে পারে। অগ্নিদুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দমকল বাহিনীকে জানানো অবশ্যকর্তব্য। কিন্তু দমকল বাহিনী এসে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রাথমিক কিছু কর্তব্য পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে যা যা করা জরুরি তা জেনে নিলে অনেক সময় আতঙ্ক চাপা দিয়ে জীবন ও সম্পদহানি এড়ানো সম্ভব। 

রান্না করার প্রস্তুতি

বাড়িতে ঢিলেঢোলা পোশাকেই আরাম। তবে রান্নার সময় ফিটিং পোশাক গায়ে থাকা উচিত। অসতর্কতাবশত কাপড়ে আগুন লেগে গেলে অনেক সময় বড় বিপদ ঘটতে পারে। রান্নার জন্য একেবারে আলাদা পোশাকের প্রয়োজন নেই। অ্যাপ্রোন বানিয়ে নিন। 

রান্নার কাউন্টারটপ পরিষ্কার রাখুন

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা জরুরি। এই প্রয়োজন কাউন্টারটপের ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজন। চুলোর আশপাশে ন্যাকড়াজাতীয় কিছু রাখবেন না? ন্যাকড়া প্রয়োজন হলে ব্যবহার করুন। চুলোর কাছে রাখা ঠিক না। প্রতি সপ্তাহে স্টোভ পরিষ্কার করুন। এখন স্টোভে জমে থাকা গ্রিজ তোলার ক্লিনার পাওয়া যায়। একটু শ্রম দিয়ে তা সাফ করুন। চুলোর আশপাশে কাগজ, খোসা এগুলো রাখলে গ্রিজ জমে অনেক সময় স্টোভে লেগে যায়। এই গ্রিজের আড়াল লিকেজ হলে পরবর্তীতে বিস্ফোরণ হতে পারে। 

চালু রাখুন অ্যাডজাস্ট ফ্যান 

রান্না করার সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। অনেকের বাড়িতে অ্যাডজাস্ট ফ্যান নেই। সেক্ষেত্রে ভেতরে একটা ফাস্ট ফ্যান রাখুন। রান্নার আগে চালিয়ে দেবেন। রান্না করার সময় অ্যাডজাস্ট ফ্যান চালান। কয়েকদিন বাড়ির বাইরে থাকলে প্রথমে রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে রান্না করুন। 

ক্লান্তিতে রান্না নয়

সাবধানের মার নেই। তবে ক্লান্তি বা ঘুমকাতুরে ভাব নিয়ে রান্না করবেন না। যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে। তখন আলসে ভর করলে অবস্থার গুরুত্ব যাচাই করা কঠিন হয়ে যাবে। সবসময় প্রস্তুতি নিয়ে রান্না করুন। রান্নাঘর সাফসুতরো রাখুন। ফ্লোরে পানি জমতে দেবেন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে দূরে যাওয়ার সুযোগ রাখবেন। 

রান্নায় সব মনোযোগ

রান্না করার সময় বাইরের কোনো কাজ করবেন না। রান্নার সব প্রস্তুতি সঙ্গে রাখুন। এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে যেখানে রান্নাঘরে রান্না চাপিয়ে বাইরে তেল-মশলা কিনতে গেছেন অনেকে। আর সেই মুহূর্তেই লেগেছে আগুন। এমনটি যেন না হয় তাই রান্নার সময় পুরো মনোযোগ রান্নায় এটে রাখুন। 

কড়াই বা রান্নার সময় আগুন লাগলে

কড়াইয়ে ভাজি বা রান্নার সময় আচমকা আগুন লেগে যায়। আতঙ্কিত হবেন না। বার্নার বা চুলা বন্ধ করে কড়াইয়ে ঢাকনা দিন। আগুন ছড়ালে বিপদ। আগুন কড়াইয়ে লেগে গেলে মূল বিপদ নয়। 

ওভেনের আগুনের ক্ষেত্রে?

এক্সটেনশন লাইনে অনেক সময় ওভেন ওভারহিট হয়ে আগুন লাগে। লাইন দ্রুত বন্ধ করে দিন। ওভেনের দরজা খুলবেন না। আগুন নেভার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। আগুন নিভে গেলে তারপর ওভেনের ভেতর পরিষ্কারের চিন্তা। এক্ষেত্রেও আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেদিক খেয়াল করুন। 

গ্যাসলাইন চেক করুন

অনেক সময় গ্যাসলাইনে লিকেজ থাকে। লিকেজ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে পাইপের আশপাশে ঘ্রাণ শুকে দেখুন। গ্যাসের ঘ্রাণ রান্নাঘরে পেলেই চেক করান। 

রান্নাঘরে স্টোর হাউজ বানাবেন না

রান্নাঘরে সব স্টোর করবেন না। অনেকেই জায়গা না পেয়ে অনেক কিছু রাখেন রান্নাঘরে। কাগজ, ঠোঙা এসব কিছুই রাখবেন না। প্লাস্টিকও না। রান্নাঘর ঘিঞ্জি করে রাখলে অনেক সময় লিকেজ শনাক্ত করা যায় না।


img