ব্রিটেনে ঘর-বাড়ি ক্রয় বিক্রয়ে সহযোগিতা করছে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

প্রকাশিত :  ১২:১৮, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৮, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ব্রিটেনে ঘর-বাড়ি ক্রয় বিক্রয়ে সহযোগিতা করছে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

ব্রিটেনের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা বেশ কঠিন। বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকে বাড়ি কেনার মতো সামর্থ্য থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র যথার্থ তথ্যের অভাব ও আইনী বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে বাড়ি কিনতে পারছেন না। এরকম অভিবাসীদের এক দশক যাবত আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। ৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের সিইও মুস্তাফিজুর রহমান তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের হলিডে ইন হোটেলে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। পাশপাশি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সফল করতে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেনেকো’র ফাইন্যান্স টিম মেম্বার জাহিদুল হাসান ও মাহমুদুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেনেকো’র অ্যাডভাইজার অ্যান্ড সিইও মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন থাকে একটি সুখের নীড়। বর্তমান অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় বৃটেনের অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা অনেক কঠিন। বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকে বাড়ি কেনার মতো সামর্থ থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র যথার্থ তথ্যের অভাব ও আইনী বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে বাড়ি কিনতে পারছেন না। আবার অনেকে ছোট ছোট ভুলের কারণে ল্যান্ডারদের কাছ থেকে মর্গেজ পাচ্ছেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম কমিউনিটি বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ইসলামিক ল্যান্ডার বা হালাল মর্গেজের দিকে ঝুঁকছেন।

বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এক দশকের বেশি সময় থেকে বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি মূলধারায় সুনামের সাথে সেবা প্রদান করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাশাপাশি সময়-সময় বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটিকে সহযোগিতা করে আসছে। ২০১৪ সালের ফেব্রুারীতে যাত্রার শুরুতে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এআর-এর নিয়োগকৃত প্রতিনিধি হিসাবে কাজ শুরু করেছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ) অনুমতিপ্রাপ্ত একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাডভাইজারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাইস্ট্রিট বাংকের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের শতাধিক মর্গেজ ল্যান্ডারের সাথে সরাসরি কাজ করছে। যেহেতু আমরা ল্যান্ডারের সাথে সরাসরি কাজ করি, বিধায় মর্গেজ আবেদনের ক্ষেত্রে কাস্টমারদের বাস্তব অবস্থার আলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকি। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির রাজধানীখ্যাত ক্যানারি ওয়ার্ফে শুরু থেকেই বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর প্রধান অফিস থাকায় অনেক নামি-দামি ল্যান্ডার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে মিটিংয়ের বাড়তি সুবিধাও পাচ্ছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ইসলামিক মর্গেজ, ফাস্ট টাইম বাইয়ার, বাই-টু-লেট মর্টগেজ , কর্মাশিয়াল মর্গেজ, রাইট-টু-বাই মর্গেজ, বিজনেস মর্গেজ সহ বিভিন্ন ধরনের মর্গেজ নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া লাইফ ইন্সুরেন্স এবং লাইফ ইনকাম প্রটেনশন সেবা দিয়ে থাকে। আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক মর্টগেজ ব্রোকারেজ ফার্মগুলির মধ্যে একটি। আমরা শরিয়া ভিত্তিক ইসলামিক ল্যান্ডারের সাথে সরাসরি কাজ করার সুবাদে মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল মর্গেজের সেবায় সেরা অবস্থানে রয়েছি ।

বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে একঝাক দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন টিম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোস্তাফিজুর রহমান ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচ থেকে ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে এমএসসি ডিগ্রিধারী। তিনি বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ে এবং মর্গেজ বিষয়ে বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এছাড়াও তিনি বাংলা সংবাদপত্রে এ বিষয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখছেন । ২০২০ সাল থেকে বাংলা অনলাইন চ্যানেল টিভিথ্রি বাংলায় “প্রপার্টি মর্টগেজ উইথ বেনেকো ফাইন্যান্স” শিরোনামে লাইভ টক শো’র মাধমে কমিউনিটিকে তথ্য প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি শোতে অংশগ্রহণ করে মর্গেজ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করে আসছেন । বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিগত দিনে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কার্যালয় ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারে মর্গেজ নিয়ে কমিউনিটি মানুষের অংশগ্রহণে সেমিনারের আয়োজন করে। ২০২৩ সালে বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস-এর প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজুর রহমান, ‘সিটিপ্লাস নেটওয়ার্ক লিমিটেড’ চালু করেন। এটি একটি মর্গেজ নেটওয়ার্ক ফার্ম যা এখন যুক্তরাজ্যের অসংখ্য মর্গেজ অ্যাডভাইজার প্রতিষ্ঠানের প্রধান যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।

সিইও মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস মর্গেজ ইন্ডাস্ট্রির একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সফল ভাবে ১০ বছর পার করেছে। দীর্ঘ যাত্রায় বেনেকো বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারসমুহকে তাদের বাড়ির মালিকানার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে সেবা দিয়েছে। যার ফলে আমরা ক্লায়ন্টদের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছি এবং কমিউনিটিরও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে বেনেকো। বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের পথ চলায় পাশে থাকার জন্য আমাদের মূল্যবান ক্লায়েন্ট, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং বিশ্বস্ত অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । তাদের অন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া, বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস আজ যে খ্যাতি অর্জন করেছে তা অর্জন করতে পারতো না । বেনেকো ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের এই সাফল্য গভীরভাবে নিহিত রয়েছে তাদের স্বচ্ছতা, সততা এবং পরিষেবার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান সফলভাবে উদযাপন করতে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়ে বলেন, বেনেকো ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস তার ১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের হলিডে ইন হোটেলে। আর এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠিত লেন্ডার কোম্পানির কর্তকর্তারাসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট বক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।


Leave Your Comments


কমিউনিটি এর আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীকে ধরার জন্য ২০ হাজার ডলার ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১০:৩৩, ০৩ মার্চ ২০২৪

এক বাংলাদেশিকে ধরিয়ে দিতে ২০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ওই বাংলাদেশি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপহরণ চক্রের সদস্য। 

তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে দু’জনকে অপহরণ, নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং মুক্তিপণের জন্য হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত শুক্রবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর কুইন্সের রাস্তা থেকে দুই ব্যক্তি অপহৃত হয়। এই ঘটনায় সাতজন জড়িত বলে সন্দেহ করছে এফবিআই। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী রুহেল চৌধুরী হচ্ছে শেষ ব্যক্তি। তাকে ধরিয়ে দিতে গত ১ মার্চ এফবিআই একটি পোস্টারও প্রকাশ করে।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুসারে, ৩৪ বছর বয়সী আবু চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ২৪ বছর বয়সী ইফফাত লুবনাসহ আরও ছয়জন ষড়যন্ত্রকারীকে গত বছর এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গত বছরের ২৭ মার্চ জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউয়ের কাছে ১৮১তম সেন্ট থেকে অপহরণকারীরা প্রথমে এক ব্যক্তিকে তুলে নেয়। রুহেল চৌধুরীর ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসা করেন এবং তার সরবরাহ করা একটি হোন্ডা এসইউভিতে জোর করে ভুক্তভোগীকে তুলে নেন আবু চৌধুরী। পরে আবু চৌধুরী ভুক্তভোগীকে গাড়ির মধ্যে মারধর করেন এবং রুহেল চৌধুরী এ সময় নিজেই ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস


কমিউনিটি এর আরও খবর

img