পাকিস্তানে জোট গঠন নিয়ে জটিল সমীকরণ

প্রকাশিত :  ১৪:২৩, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তানে জোট গঠন নিয়ে জটিল সমীকরণ

পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৩৪ আসন) পায়নি। এ ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে না পারায় দলগুলোকে এখন জোট গঠনে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। তবে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

জাতীয় নির্বাচনে ইমরানপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৯৭টি আসন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৬টি আসনে জয় পেয়েছে। আর বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪টি আসনে জয় পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। করাচি-ভিত্তিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ১৭টি আসন জিতেছে।

পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তবে সেখান থেকেই দলকে নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। নির্বাচনে ইমরানপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবার চেয়ে এগিয়ে থাকায় তারা কেন্দ্র, পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সরকার গঠন করতে চায়।

রোববার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পিটিআইয়ের আইনজীবী উমায়ের খান নিয়াজি।

এর আগেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণ করবেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো এবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে চান। তার দলের মুখপাত্র খুরশিদ আলম এর আগে সাংবাদিকদের জানান, যদি নওয়াজ শরিফকে বাদ দিয়ে বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয় তবে তাদের দল পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট করবে। 

ইতোমধ্যে পিপিপি চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে পিএমএল-এনের নেতা শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেছেন। তবে তাদের মধ্যে কী চুক্তি হয়েছে তা এখনো অস্পষ্ট।

এ ব্যাপারে বিলাওয়াল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে পিপিপির আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। 

এদিকে পিপিপি সোমবার ইসলামাবাদে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকেছে।

পিএমএল-এন নির্বাচনে বহু আগে থেকেই নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চায়। দলটি নির্বাচনে দল বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি আসনও পেয়েছে জাতীয় পরিষদে। এজন্য সবার আগেই জোট গঠনের তৎপরতায় সরব দেখা যায় নওয়াজকে। 

এবার দলটির নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেছেন, এটা সবাই জানে যে, কোনো একক রাজনৈতিক দলের স্বাধীনভাবে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট নেই। তাই জোট গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য।

পিএমএল-এনের পর এবার ইমরানপন্থি স্বতন্ত্রদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে পিপিপি। দলটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে একাধিক বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পিপিপি।

পিপিপি জানিয়েছে, স্বতন্ত্রদের জন্য আমাদের দরজা সব সময়ই খোলা আছে। তাছাড়া স্বতন্ত্রদের প্রতিও দৃষ্টি রেখেছে পিপিপি। তবে এ ব্যাপারে পিটিআই বলছে, তারা কোনো দলে যোগ দেবে না।

মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানের (এমকিউএম-পি) সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দলটি তাদের সঙ্গে জোট করতে রাজি হয়েছে। তিনি জানান, এক ঘণ্টার বৈঠকের পর আসন্ন সরকারে একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটি নীতিগত চুক্তিতে পৌঁছেছে এ দুই দল।

এদিকে বৈঠক থেকে বের হয়ে এমকিউএম-পি নেতা খালিদ মকবুল সিদ্দিকী বলেছেন, পিএমএল-এনের সঙ্গে আমাদের সরকার গঠন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। করাচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমকিউএম-পি এর খালিদ মকবুল সিদ্দিকী, ড. ফারুক সাত্তার, কামরান তেসোরি এবং মোস্তফা কামাল। আর পিএমএল-এনের পক্ষ থেকে নওয়াজ ও শাহবাজ শরিফ, ইসহাক দার, মরিয়ম নওয়াজ, রানা সানাউল্লাহ, আয়াজ সাদিক, খাজা সাদ রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave Your Comments


গাজার হাসপাতালে ক্ষুধা-অপুষ্টিতে মারা গেল আরও ১৫ শিশু

প্রকাশিত :  ১২:০১, ০৩ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৯, ০৩ মার্চ ২০২৪

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগে আরও ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তীব্র অপুষ্টির বিরুদ্ধে ইউনিসেফ প্রধানের সতর্ক করার পরই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার 

অবরুদ্ধ গাজায় বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতির খবরের মধ্যে এই ১৫ শিশু মৃত্যুর তথ্য জানা গেল।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি কামাল আদওয়ান হাসপাতালে চার শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর আল শিফা হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রায় পাঁচমাস ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ হামলার কারণে অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডটিতে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে কয়েক লাখ বাসিন্দা।

লাখো মানুষ উদ্বাস্তু, খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েলের বাধায় গাজায় ত্রাণ সহায়তা সরবরাহের গতি আরও মন্থর হয়ে গেছে। ত্রাণ না পৌঁছানোয় ছোট ছোট শিশুরাও অনাহারে থাকছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যের অভাবে শরণার্থী শিবিরে থাকা মায়েরা নবজাতকদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না। তারা দুধের পরিবর্তে নবজাতকদের খেজুর খাওয়াচ্ছেন।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর গাজামুখী অর্ধেকের বেশি ত্রাণ সহায়তাকে গত মাসে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। কোথায় ও কীভাবে এই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে–সে বিষয়েও জাতিসংঘের ওপর খবরদারি করছে ইসরায়েলি সেনারা।


img