অমর একুশে বইমেলা

img

বইমেলায় ১১তম দিনে এলো ৯২টি নতুন বই

প্রকাশিত :  ০৪:৩৩, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৩৮, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বইমেলায় ১১তম দিনে এলো ৯২টি নতুন বই

মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার আয়োজনে প্রতিদিন আসছে নতুন নতুন বই । এরই ধারাবাহিকতায় মেলার ১১তম দিনে নতুন বই এসেছে   ৯২টি।   রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ থেকে বিষয়টি জানানো হয়।

অমর একুশে বইমেলার ১১তম দিনে বিকেল ৩টা থেকে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি: কলিম শরাফী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরওয়ার মুর্শেদ।

প্রাবন্ধিক সারওয়ার মুর্শেদ বলেন, কলিম শরাফীর যাপিত জীবন ও সংগ্রামের মূলে ছিল গণ-মানবচেতনা, মুক্তবুদ্ধি। তিনি ছিলেন মানুষের সামষ্টিক কল্যাণপ্রত্যাশী।

এসময় আলোচনায় অংশ নেন মাহমুদ সেলিম এবং গোলাম কুদ্দুছ। তারা বলেন, আজীবন সংগ্রামী শিল্পী কলিম শরাফী ছিলেন আপসহীন একজন মানুষ। দেশ ও জাতির সংকটে সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রচণ্ড বৈরিতা সত্ত্বেও গণমানুষের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা, মানবতাবাদী সংস্কৃতিবোধ, কল্যাণমুখী, অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা তিনি কখনো ত্যাগ করেননি। সমাজ-সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রেই তিনি তার সৃজনশীল প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন। মানবতাবাদী কলিম শরাফী বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোকেই তার জীবনের আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব কলিম শরাফী তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনে অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি।

অন্যদিকে আজ লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি সরকার মাসুদ, কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন এবং নাট্যগবেষক মাহফুজা হিলালী।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন-কবি আসলাম সানী, তপন বাগচী, মারুফ রায়হান, জাহিদ মুস্তাফা, স্নিগ্ধা বাউল এবং শাহিদা পারভীন রেখা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন-আবৃত্তিশিল্পী সোহরাব হোসেন, তামান্না তিথি এবং ফয়জুল আলম পাপ্পু। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুথি পাঠ করেন লাল মাহমুদ।

আজকের  বইমেলার সময়সূচি:

আগামীকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলার ১২তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি: হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনা করবেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিরীণ আখতার।

img

না ফেরার দেশে কবি অসীম সাহা

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৮ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৬, ১৮ জুন ২০২৪

খ্যাতিমান কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কবির ছেলে অর্ঘ্য সাহা। অর্ঘ্য সাহা জানান, তার বাবার মরদেহ দান করা হবে।

কবি অসীম সাহা পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর। তার বাবা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক।

অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

অসীম সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পূর্ব পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কবি অসীম সাহা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

খ্যাতিমান এ কবির মৃত্যুতে তার গুণগ্রাহী কবিরাসহ নানা স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। তার রেখে যাওয়া শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।