img

তিন দেশের ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা ইইউর

প্রকাশিত :  ১৯:২৩, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

তিন দেশের ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা ইইউর

ইউক্রেন পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে দায়ী করে রাশিয়া, বেলারুশ এবং উত্তর কোরিয়ার ১৯৩ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের ইইউ’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইইউ’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর আগ্রাসনের জেরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইইউ’র রাষ্ট্রদূতরা নিষেধাজ্ঞার ১৩তম প্যাকেজের নীতিগুলো অনুমোদন করেছেন।’ এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মস্কোকে অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা এবং ইউক্রেনের শিশুদের অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ছয় ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাদের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপির।

সমাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেলজিয়াম বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কর্মকাঠামোর আওতায় ১৩তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদনে ইইউ রাষ্ট্রদূতরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

ইইউ-এর নতুন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। নতুন এ তালিকায় রাশিয়ার সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউক্রেন থেকে শিশুদের পাচার ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় উত্তর কোরিয়া ও বেলারুশের একটি করে প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এর আগে গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে রাশিয়া কয়েক শ এতিম শিশুকে অনথালয় এবং কেয়ার হোম থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া অনেককে দত্তকও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া রাশিয়ার কারা কর্মকর্তারা আর্কটিক পেনাল কলোনির দায়িত্বে ছিলেন। যেখানে বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি মারা গেছেন। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে যেতে পারবেন না। পশ্চিমা নেতারা বলছেন, নাভালনির মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ রুশ কর্তৃপক্ষ দায়ী।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যামেরন বলেন, যারা নাভালনির প্রতি নৃশংস আচরণে জড়িত, তাদের ক্ষমা নেই। আমরা তাদের জবাবদিহি করব। ব্রিটিশ সরকার নাভালনির লাশ দ্রুত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

নাভালনির মায়ের যে চাওয়া, তা যুক্তরাজ্যের আহ্বানে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ওই নারীকে মঙ্গলবারও কারাগারের বাইরে দেখা গেছে। ছেলের লাশ পাঁচদিন ধরে দেখতে চাইছেন তিনি। এখনো মা জানেন না তার ছেলের লাশ কোথায় আছে। 

নিষেধাজ্ঞা পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন ওই কারাগারের প্রধান কর্নেল ভাদিম কনস্টান্টিনোভিচ কালিনিন, উপপ্রধান লে. কর্নেল সের্গেই নিকোলাভিচ, উপপ্রধান লে. কর্নেল ভ্যাসিলি আলেকজান্দ্রোভিচ ভিড্রিন, উপপ্রধান লে. কর্নেল ভ্লাদিমির ইভানোভিচ পিলিপচিক, উপ-প্রধান লে. কর্নেল আলেকজান্ডার ভ্লাদিমিরোভিচ গোলিয়াকভ, উপপ্রধান আলেকজান্ডার ভ্যালেরিভিচ ওব্রেজটসভ।

img

ইসরায়েলে সত্যিই হামলা চালাতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৭:৩১, ১২ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৫, ১২ এপ্রিল ২০২৪

ইহুদীবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর ইরানের সরাসরি হামলার হুমকি নিছক কথার কথা নয়। বরং ইরানের এই হুমকি ‘বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর’ বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। 

ইসরায়েলের সামরিক সাইটগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে- এমন সংবাদ প্রচারের পরে হোয়াইট হাউস এই অভিমত ব্যক্ত করল। খবর দ্যা জেরুজালেম পোস্টের। 

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা যোগাযোগ উপদেষ্টা জন কিরবি বলেছেন, ওয়াশিংটন অবশ্যই জনসাধারণের বিষয়ে সচেতন। ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকিকে আমরা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করি।

উপদেষ্টা জন কিরবি আরো বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাতে তারা যেকোনো হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। আমরা এবং ইসরায়েলিরা বিষয়টিকে (ইরানের হুমকি) গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট শুক্রবার আইএএফ হাতজোর বিমানঘাঁটিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার প্রধান জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বলেন, আমরা আমাদের অংশীদারদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় জমিন ও আকাশে নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। কীভাবে আমরা (হুমকি হামলার) প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি, তা আমাদের জানা থাকবে।

ইরান দুয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে , এমনটা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য। হামলার ভয়ে শুক্রবার সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইহুদিবাদী দেশটি। মধ্য ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তারা একাধিক ফ্রন্টে ‘চ্যালেঞ্জিং সময়’ পার করছেন।

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চালানোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কার মধ্যে বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।