img

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের শুনানিতে ফের ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০১:৫৪, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের শুনানিতে ফের ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) শুনানিতে অংশ নিয়ে আবারও ইসরায়েলের নিরাপত্তায় জোর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শুনানিতে বেশির ভাগ দেশের প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্ব অবসানের দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরে।

দেশটি বলেছে, ফিলিস্তিনের দখল করা ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

ইসরায়েলের দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে আইসিজেতে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো শুনানি হয়েছে। গতকালের শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ ১০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শুনানিতে অংশ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আইন উপদেষ্টা রিচার্ড ভিসেক বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে ইসরায়েলকে আইনিভাবে সরে যেতে বাধ্য করা উচিত হবে না।

রিচার্ড ভিসেক বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসা উচিত হবে না যে দখল করা ভূখণ্ড থেকে অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে ইসরায়েলকে সরে যেতে হবে। এসব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সরে যেতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির প্রতিনিধির এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল–মালিকি বলেন, ‘আমি আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম; কিন্তু নতুন কিছু শুনতে পেলাম না।’

আল-মালিকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বলে আসছে যে আদালতে নয়, অন্য কোনো ফোরামে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু গত ৭৫ বছর অন্য ফোরামে চেষ্টা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা, ভেটো ও তাদের ক্ষমতার দাপটের মুখে পড়তে হয়েছে ফিলিস্তিনকে। কোথাও কিছু না হওয়ার কারণে ফিলিস্তিন দ্বারস্থ হয়েছে আইসিজের।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আহ্বানে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্দেশনা ও মতামত দিতে এই শুনানি চলছে।

গত সোমবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে শুরু হওয়া এই শুনানিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অর্ধশতাধিক দেশ ও তিনটি সংস্থা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। এর সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার অভিযোগে আইসিজেতে করা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার যোগসূত্র নেই।- আল জাজিরা 

img

ইসরায়েলে সত্যিই হামলা চালাতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৭:৩১, ১২ এপ্রিল ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৫, ১২ এপ্রিল ২০২৪

ইহুদীবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর ইরানের সরাসরি হামলার হুমকি নিছক কথার কথা নয়। বরং ইরানের এই হুমকি ‘বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর’ বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। 

ইসরায়েলের সামরিক সাইটগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে- এমন সংবাদ প্রচারের পরে হোয়াইট হাউস এই অভিমত ব্যক্ত করল। খবর দ্যা জেরুজালেম পোস্টের। 

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা যোগাযোগ উপদেষ্টা জন কিরবি বলেছেন, ওয়াশিংটন অবশ্যই জনসাধারণের বিষয়ে সচেতন। ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকিকে আমরা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করি।

উপদেষ্টা জন কিরবি আরো বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাতে তারা যেকোনো হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। আমরা এবং ইসরায়েলিরা বিষয়টিকে (ইরানের হুমকি) গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট শুক্রবার আইএএফ হাতজোর বিমানঘাঁটিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের কমান্ডার প্রধান জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বলেন, আমরা আমাদের অংশীদারদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় জমিন ও আকাশে নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। কীভাবে আমরা (হুমকি হামলার) প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি, তা আমাদের জানা থাকবে।

ইরান দুয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে , এমনটা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য। হামলার ভয়ে শুক্রবার সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইহুদিবাদী দেশটি। মধ্য ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তারা একাধিক ফ্রন্টে ‘চ্যালেঞ্জিং সময়’ পার করছেন।

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চালানোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কার মধ্যে বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।