img

আপিলেও হারলেন শামীমা, ফিরে পাচ্ছেন না ব্রিটিশ নাগরিকত্ব

প্রকাশিত :  ১৪:২৩, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৪, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আপিলেও হারলেন শামীমা, ফিরে পাচ্ছেন না ব্রিটিশ নাগরিকত্ব

নিজের ইচ্ছায় নয় বরং মানবপাচারের শিকার হয়ে সিরিয়া গিয়েছিলেন দাবি করে শামীমা বেগম যুক্তরাজ্য সরকারের তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছিলেন তাতে তিনি হেরে গেছেন।

শুক্রবার আপিল আদালত রায় দেয় যে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

আদালতের এই আদেশের অর্থ ২৪ বছর বয়সী শামীমাকে বর্তমানে থাকা সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরেই থাকতে হবে। তার ব্রিটেনে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

আদালত বলেছে, এটি যুক্তি দেয়া যেতে পারে যে শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত ‘কঠোর’ হয়েছে, তবে এটিও যুক্তি দেয়া যেতে পারে যে শামীমা ‘নিজেই তার দুর্ভাগ্যের লেখক’।

‘তবে এটা আদালতের তর্কের বিষয় নয়। আমাদের একমাত্র কাজ হলো দেখা যে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার বিষয়টি আইনসিদ্ধ ছিল কিনা। আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, এটা তা ছিল না। এবং তার আপিল বাতিল করা হলো।’

শামীমার পরিবার বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি তার স্কুলের দুই বন্ধুর সাথে সিরিয়ায় যেতে পূর্ব লন্ডনের বাসা ছাড়েন। পরে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসের এক যোদ্ধাকে বিয়ে করেন শামীমা। সেখানে তার তিনটি সন্তান হয়। তবে সন্তানেরা কেউ বেঁচে নেই।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শামীমাকে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে পাওয়া যায়। এ সময় তিনি জানান, ওই সময়কার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেন। এতে তিনি (শামীমা) রাষ্ট্রহীন অবস্থায় পড়েছেন।

পরের বছর ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের একটি ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, শামীমা রাষ্ট্রহীন অবস্থায় নেই। কেননা, তিনি ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নাগরিক’। তার মা একজন বাংলাদেশী।

গত বছর শামীমা যুক্তরাজ্যের স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশনে (এসআইএসি) ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হেরে যান। কমিশন বলেছে, শামীমাকে উগ্রবাদী সংগঠনটিতে নিয়োগ দিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে যাওয়া ও পরে যৌন নির্যাতনের জন্য সিরিয়ায় রেখে দেয়ার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ রয়েছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিদ তার নাগরিকত্ব কেড়ে না নিয়ে পারেননি।

এ আদেশের ফলেসিরিয়ায় শরণার্থীশিবির থেকে যুক্তরাজ্যে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি শামীমা বেগম ।

সূত্র : আলজাজিরা, এএফপি


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

img

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য দুঃসংবাদ দিল ব্রিটেন

প্রকাশিত :  ০৮:৫৫, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

দুই বছর আটকে থাকার পর বিরোধী দলগুলোর আপত্তির মুখে পাস হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের প্রস্তাবিত রুয়ান্ডা বিল। সোমবার (২২ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঋষি সুনাক জানান, দুর্বল অভিবাসীদের বিপজ্জনক ক্রসিং থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি অপরাধী চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ। এই বিলের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী কেউ এখানে অবস্থান করতে পারবে না।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি অভিবাসীদের নিয়ে রুয়ান্ডার উদ্দেশে প্রথম ফ্লাইট ছেড়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি। বিরোধী দলগুলোর আপত্তির মুখে পাঁচ মাস ধরে ঝুলে ছিল বিলটি। এখন শুধু এটি আইনে পরিণত হওয়ার অপেক্ষা।

এ নিয়ে ২০২২ সালের এপ্রিলে দেশটির সরকারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয় ব্রিটেনের। চুক্তিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা নেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ বছর দেশটিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জায়গা দেবে রুয়ান্ডা। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন বাবদ বাড়তি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাজ্য। সে বছর অভিবাসীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি যাত্রার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ইউরোপের মানবাধিকার আদালতের এক আদেশে বাতিল হয়ে যায় তা।

এদিকে রুয়ান্ডা বিলকে অমানবিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটেনের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং ইউরোপ কাউন্সিল উভয়ই যুক্তরাজ্যকে তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। কারণ এই আইনটি মানবাধিকার সুরক্ষাকে ক্ষুণ্ন করে এবং বিশ্বব্যাপী অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: গার্ডিয়ান, সিএনএন