img

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৪:৪১, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

মাদারীপুর সদরে নসিমনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ছিলারচর এলাকার রিফাত বালি (১৯) ও মারুফ সরদার (৩০)।

মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আচমত আলী খান সেতুর টোল প্লাজার কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে মাদারীপুর সদর থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি সালাউদ্দিন বলেন, রিফাত ও মারুফ মোটরসাইকেলে মাদারীপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। মাদারীপুর-শরিয়তপুর মহাসড়কের পখিরা এলাকার আসমত আলী খান সেতুর টোল প্লাজার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নসিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। 

মাদারীপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, নিহতদের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন অনুসন্ধান করে পরিচয় শনাক্ত করেছে ফায়ার সার্ভিস। ঘাতক নসিমনের চালক পালিয়ে গেছে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দীন জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নসিমনটিকে চিহ্নিত করে চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।



img

আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির হোতা ফখরুজ্জামানসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত :  ১০:১০, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের বাংলাদেশের মূলহোতা এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের অ্যান্টি ইলিগ্যাল আর্মস রিকোভারী টিম। তাদের কাছ থেকে এক ভুক্তভোগী শিশু ও পর্নোগ্রাফ কনটেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। 

রাজধানীর খিলগাঁও থেকে তাদেরকে গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের এন্টি ইললিগ্যাল আর্মস রিকোভারি টিম। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোড ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ফকরুজ্জামান এক সময়কার খুব জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক। তিনি টিপু কিবরিয়া নামে পরিচিত। টিপু কিবরিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে বাংলায় স্নাতক এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে সেবা প্রকাশনীর মাসিক ‘কিশোর পত্রিকা’য় সহকারী সম্পাদক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশু সাহিত্য রচনা করতেন। তার অর্ধ শতাধিক বই রয়েছে। 

২০০৫ সাল থেকে শিশু পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়ান টিপু কিবরিয়া। দীর্ঘদিন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পর ২০১৪ সালে সিআইডির কাছে গ্রেপ্তার হন এবং তার নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। ২০২১ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন টিপু কিবরিয়া। ‘একশো এক’ নামে একটি কবিতার বই প্রকাশ করে। একই সাথে, সাহিত্য চর্চার আড়ালে পুনরায় শিশু পর্নোগ্রাফির সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে শুরু করেন টিপু কিবরিয়া।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ছিন্নমূল ছেলে পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি কন্টেন্ট বানান। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিক বেশে পথশিশুদের অর্থের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিজের ক্যামেরার সাহায্যে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির নগ্ন ছবি, শরীরের বিভিন্ন গোপনাঙ্গের ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। নিজের বাসা ছাড়াও বিভিন্ন পার্কের নির্জন ঝোপঝাড়ে এই ছিন্নমূল শিশুদের একই প্রক্রিয়ায় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। শিশুদের সংগ্রহ করার জন্য তার কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। যাদের মধ্যে একজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তার ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো থেকে প্রায় ২০ জন পথশিশুর ছবি ভিকটিম হিসেবে শনাক্ত করা গেছে। তার ব্যবহৃত ক্যামেরা, পিসি ও ক্লাউড স্টোরেজ থেকে পর্নোগ্রাফির উদ্দেশ্যে তোলা প্রায় ২৫০০ শিশুর স্থিরচিত্র ও প্রায় এক হাজার ভিডিও কনটেন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার ডেস্কটপে অসংখ্য ছিন্নমূল ছেলে পথশিশুদের প্রচুর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তিনি এসব কনটেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিকৃত রুচির গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতেন।