img

টঙ্গীতে মার্কেট ভবনের গুদামে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত :  ০৫:০২, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

টঙ্গীতে মার্কেট ভবনের গুদামে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

গাজীপুরের টঙ্গীতে মরিয়ম ম্যানশন নামের একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে ছয়জন সামান্য অগ্নিদগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের চেষ্টায় দেড় ঘণ্টা পর এই আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে। 

আজ বুধবার সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগে। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে টঙ্গী ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, টঙ্গী বাজার এলাকায় মরিয়ম ম্যানশন নামের একটি ৬তলা ভবনে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনের স্থানীয় ব্যবসায়িরা গুদাম হিসেবে মালামাল মজুদ করেন। ভোরে ওই ভবনের চার তলায় আগুন দেখতে পেয়ে নেভানোর চেষ্টা করেন। 

চার তলায় লাগা আগুন ৫ তলায় ও ৬ তলায় ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

আরও পড়ুন: আজ বায়ুদূষণের শীর্ষে ঢাকা

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবু মোহাম্মদ সাজেদুল কবির জানান, আগুনে ওই ভবনের ৫টি গোডাউন সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়ে গেছে। আংশিক পুড়েছে আরও ৫-৭টি গোডাউন। 

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে তিনি জানান। 

স্থানীয় জানান, আগুন নিভাতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ওই ভবনের ব্যবসায়ী লিখন হোসেন বলেন, আগুন নিভাতে গিয়ে আমিসহ ওই ভবনে থাকা ৬ জন দগ্ধ হয়েছি। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন লিটন, রাকিব, সাগর, রোমান ও মনোয়ারুল। তাদের কারো হাত, মাথার চুল ও পা আগুনে সামান্য ঝলসে গেছে। তারা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

img

আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির হোতা ফখরুজ্জামানসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত :  ১০:১০, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের বাংলাদেশের মূলহোতা এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের অ্যান্টি ইলিগ্যাল আর্মস রিকোভারী টিম। তাদের কাছ থেকে এক ভুক্তভোগী শিশু ও পর্নোগ্রাফ কনটেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। 

রাজধানীর খিলগাঁও থেকে তাদেরকে গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের এন্টি ইললিগ্যাল আর্মস রিকোভারি টিম। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোড ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ফকরুজ্জামান এক সময়কার খুব জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক। তিনি টিপু কিবরিয়া নামে পরিচিত। টিপু কিবরিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে বাংলায় স্নাতক এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে সেবা প্রকাশনীর মাসিক ‘কিশোর পত্রিকা’য় সহকারী সম্পাদক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশু সাহিত্য রচনা করতেন। তার অর্ধ শতাধিক বই রয়েছে। 

২০০৫ সাল থেকে শিশু পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়ান টিপু কিবরিয়া। দীর্ঘদিন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পর ২০১৪ সালে সিআইডির কাছে গ্রেপ্তার হন এবং তার নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। ২০২১ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন টিপু কিবরিয়া। ‘একশো এক’ নামে একটি কবিতার বই প্রকাশ করে। একই সাথে, সাহিত্য চর্চার আড়ালে পুনরায় শিশু পর্নোগ্রাফির সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে শুরু করেন টিপু কিবরিয়া।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ছিন্নমূল ছেলে পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি কন্টেন্ট বানান। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিক বেশে পথশিশুদের অর্থের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিজের ক্যামেরার সাহায্যে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির নগ্ন ছবি, শরীরের বিভিন্ন গোপনাঙ্গের ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। নিজের বাসা ছাড়াও বিভিন্ন পার্কের নির্জন ঝোপঝাড়ে এই ছিন্নমূল শিশুদের একই প্রক্রিয়ায় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। শিশুদের সংগ্রহ করার জন্য তার কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। যাদের মধ্যে একজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তার ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো থেকে প্রায় ২০ জন পথশিশুর ছবি ভিকটিম হিসেবে শনাক্ত করা গেছে। তার ব্যবহৃত ক্যামেরা, পিসি ও ক্লাউড স্টোরেজ থেকে পর্নোগ্রাফির উদ্দেশ্যে তোলা প্রায় ২৫০০ শিশুর স্থিরচিত্র ও প্রায় এক হাজার ভিডিও কনটেন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার ডেস্কটপে অসংখ্য ছিন্নমূল ছেলে পথশিশুদের প্রচুর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তিনি এসব কনটেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিকৃত রুচির গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতেন।