img

পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে ২৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১১:৫২, ০৩ মার্চ ২০২৪

 পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে ২৯ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানে গত কয়েকদিন ধরে চলা শৈতবৃষ্টি ও তুষারপাতে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জনই শিশু বলে খবর পাওয়া গেছে। রোববার (৩ মার্চ) দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে পাকিস্তানের ওই তিনটি প্রদেশসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত হচ্ছে। শনিবার দ্বিতীয় দিনের বৃষ্টিতে প্রায় তলিয়ে গেছে খাইবার পাকতুনখোয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল। এই প্রদেশে মারা গেছে অন্তত ২৪ জন ও আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জন।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তাঘাট। আর আকস্মিক বন্যায় অসংখ্য রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শত শত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ গৃহহীন অবস্থায় রাস্তায় বা উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এনডিএমএ শেয়ার করা ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কেপি প্রদেশে। সেখানে ২১ জন, বেলুচিস্তানে ৫ জন এবং আজাদ কাশ্মীরে তিনজন নিহত হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এশিয়া

প্রকাশিত :  ১০:২৪, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

জাতিসংঘ মঙ্গলবার বলেছে, এশিয়া ছিল ২০২৩ সালে জলবায়ু এবং আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগ-কবলিত অঞ্চল। এতে হতাহত এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রধান কারণ ছিল বন্যা এবং ঝড়। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।

ডব্লিউএমও এই প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এশিয়ায় প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রধান কারণ ছিল বন্যা ও ঝড়। অন্যদিকে তাপপ্রবাহের প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে।

বৈশ্বিক গড় উষ্ণতার চেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এশিয়া। ১৯৬০-১৯৯০ সময়কালের পর থেকে উষ্ণায়নের প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বন্যা, ঝড় ও আরও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হতাহত এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডব্লিউএমও বলছে, গত বছর এশিয়ায় ৭৯টি দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল বন্যা ও ঝড়। এর ফলে ২ হাজারের বেশি লোক মারা যায় এবং ৯০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি এশিয়ার দেশ হংকংয়ে এক ঘণ্টায় ১৫৮.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৮৮৪ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। এশিয়ার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বেশিরভাগ হিমবাহ রেকর্ড পরিমাণ ভাঙা পড়েছে এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক অবস্থার কারণে উল্লেখযোগ্য ভর হারিয়েছে।

২০২৩ সালে হিমালয়, বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম চীন খরার শিকার হয়েছিল। বৃষ্টিপাতের মাত্রা বছরের প্রায় প্রতিটি মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল।

ডব্লিউএমও প্রতিবেদনে বলছে, ২০২৩ সালে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল রেকর্ডের সর্বোচ্চ। এমনকি আর্কটিক মহাসাগরও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছিল, যেখানে বরফের চাঁদরে ঢাকা থাকে চারপাশ। আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব লাপ্তেভ সাগরসহ অনেক অঞ্চলে সমুদ্রের পৃষ্ঠ বিশ্বের তুলনায় তিনগুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। প্রতিবেদনে ব্যারেন্টস সাগরকে \'জলবায়ু পরিবর্তনের হটস্পট\' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডব্লিউএমও প্রধান সেলেস্তে সাওলো এক বিবৃতিতে বলেছেন, এশিয়া অঞ্চলের অনেক দেশ ২০২৩ সালে তাদের রেকর্ডে থাকা সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর পার করেছে। পাশাপাশি খরা ও তাপপ্রবাহ থেকে শুরু করে বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনাগুলো বেড়েই চলছে।

তথ্যসূত্র: ডব্লিউএমও, আল-জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর