img

৬ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ব্রাজিল-স্পেনের ড্র

প্রকাশিত :  ০৫:২৬, ২৭ মার্চ ২০২৪

৬ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ব্রাজিল-স্পেনের ড্র

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে গোলের পর গোল হলো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে উত্তেজনা ছড়ালো গোটা দুনিয়ায়। যেখানে ছেড়ে কথা বলেনি কেউ, চোখ রাঙিয়েছে সমানে সমানে। শুরু থেকে শেষ, লড়াইয়ের তীব্রতা কমল না এতটুকু। তবে নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত যদিও দেখল না বিজয়ীর মুখ।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাতে ব্রাজিল এবং স্পেনের শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই হলেও জয় পায়নি কোনো দলই। ম্যাচটি ড্র হয়েছে ৩-৩ গোলে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক স্পেন। প্রথম ১৫ মিনিটে ব্রাজিলকে কোনো আক্রমণেই যেতে দেয়নি স্প্যানিশরা। এ সময়ে একের পর এক আক্রমণে ব্রাজিলিয়ানদের দিশেহারা করে তোলে স্বাগতিকরা। গোল বাঁচাতে গিয়ে দ্বাদশ মিনিটে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন জোয়াও গোমেজ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মাঝ বরাবর স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন রদ্রি।

খেলার ধারার বিপরীতে ১৮ মিনিটে প্রথমবার আক্রমণ করে ব্রাজিল। তবে রদ্রিগোর কাছ থেকে ভালো জায়গায় পাস পেয়েও গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন ভিনিসিউস জুনিয়র।  

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। ইয়ামালের পাস ডি-বক্সে পেয়ে ঠান্ডা মাথায় প্রথমে ডিফেন্ডার লুকাস বেরাল্দু এবং পরে ব্রুনো গিমারেজ কাটিয়ে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন লাইপজিগের মিডফিল্ডার ওলমো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। তবে সেলেসাওরা প্রথম গোলটি পেয়েছে স্পেন গোলরক্ষকের ভুলে। সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে আরেক সতীর্থকে খুঁজে নেয়ার চেষ্টায় রদ্রিগোর পায়ে বল তুলে দেন উনাই সিমোন। এমন উপহার পেয়ে কোনো ভুল করেননি রদ্রিগো। অনেকখানি এগিয়ে থাকা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

 

আরও পড়ুন: ডি মারিয়াকে হত্যার হুমকি

আক্রমণের ধার বাড়াতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন আনে ব্রাজিল। রাফিনিয়ার জায়গায় নামেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের নায়ক এন্দরিক। আর মাঠে নেমেই সাফল্য এনে দেন এই তরুণ তারকা।

 খেলার ৫০ মিনিটে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান এন্দরিক। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল স্পেন ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সেই পেয়ে যান এন্দরিক; জোরালো ভলি মারেন তিনি। বল প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে কিঞ্চিৎ দিক পাল্টে জালে জড়ায়।

ব্রাজিল সমতা ফেরানোর পর দুই দলই আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে সমান তালে। তবে ধীরে ধীরে খেলার গতি কিছুটা কমে। দুই দলই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করতে থাকলেও ভালো সুযোগ মিলছিল না। তবে ব্রাজিলের কপাল পোড়ে পেনাল্টিতে। ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সে দানি কারভাহালকে ফাউল করে আবারও পেনাল্টি হজম করে সেলেসাওরা। স্পটকিক থেকে লিড এনে দিতে ভুল করেননি রদ্রি।

 হার এড়াতে শেষদিকে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। তবে কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারছিল না সফরকারীরা। ম্যাচ প্রায় জিতেই যাচ্ছিল স্পেন, তবে কয়েক সেকেন্ড বাকি থাকতে পেনাল্টি পেয়ে যায় ব্রাজিল। ব্রাজিলের উইঙ্গার গালেনোকে বক্সে ফাউল করে বসেন কারভাহাল। স্পটকিক থেকে সমতা ফেরান পাকেতা। রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ড্র নিয়ে (৩-৩) মাঠ ছাড়ে দুই দল। 

img

হায়দরাবাদকে হারিয়ে আইপিএলের তৃতীয় শিরোপা কলকাতার

প্রকাশিত :  ১৮:৪০, ২৬ মে ২০২৪

পুরো আসরজুড়ে খরুচে বোলিং করে আসা কলকাতার পেসার মিচেল স্টার্ক কোয়ালিফায়ারের পর ফাইনালেও হয়ে উঠলেন দুর্বার। দাপট দেখালেন আন্দ্রে রাসেল, হার্শিত রানাসহ বাকিরাও। হায়দরাবাদকে অল্প রানে আটকে দাপুটে জয়ে আইপিএলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতে নিলো কলকাতা।

এর আগে ২০১২ ও ২০১৪ সালে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে দুইবার আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয় বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কেকেআর। এরপর ৮ বছর আইপিএলের শিরোপা জিততে পারেনি কেকেআর।

যে কারণে এবারের আসরে সাবেক অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে কেকেআরের মেন্টরের দায়িত্ব দেন শাহরুখ খান। গৌতম গম্ভীরের পরামর্শে আইপিএলের ১৭তম আসরের শুরু থেকে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় কেকেআর। 

আজ রোববার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদকে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১১৩ রানে অলআউট করে ৮ বছর পর আইপিএলের শিরোপা জিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আন্দ্রে রাসেল, মিচেল স্টার্ক ও হারসিত রানার গতির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে পারেনি প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক কামিন্স। ২৩ বলে ২০ রান করেন এইডেন মার্করাম।

কলকাতার হয়ে ২.৩ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন ক্যারিবীয় তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রানে ২ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক। ৪ ওভারে ২৪ রানে ২ উইকেট নেন ভারতীয় পেসার হারসিত রানা।

১২০ বলে ১১৩ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ১.২ ওভারে দলীয় ১১ রানে উইকেট হারান ওপেনার সুনীল নারিন। এরপর ভেঙ্কটিশ আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ৪৪ বলে ৯১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

জয়ের জন্য ৬৭ বলে কলকাতার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ রান। খেলার এমন অবস্থায় আউট হয়ে ফেরেন আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তিনি ৩২ বলে ৫টি চার আর ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৯ রান করে ফেরেন। 

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ৫৮ বল আগেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন ভেঙ্কটিশ আইয়ার। তিনি ২৫ বলে ৪টি চার আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন।