img

আবারও বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ৩০ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০১, ৩০ মার্চ ২০২৪

আবারও বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

আবারো বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আশ্রয় নেন মিয়ানমারের (তাতমাদো) ৩ সেনা সদস্য ।

শনিবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার ঘুমধুম ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয় তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সরকারি জান্তাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান ক্ষমতা দখলের যুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সেনাবাহিনীর তাতমাদোর ৩ সেনা সদস্য। তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে তমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ তিন দফায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা জামছড়ি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তবাহিনীর তিনজন কর্মকর্তাসহ ১৭৭ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরের বিজিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ জানান, আজ মিয়ানমারের ৩ সেনা সদস্য আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

img

আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির হোতা ফখরুজ্জামানসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত :  ১০:১০, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের বাংলাদেশের মূলহোতা এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের অ্যান্টি ইলিগ্যাল আর্মস রিকোভারী টিম। তাদের কাছ থেকে এক ভুক্তভোগী শিশু ও পর্নোগ্রাফ কনটেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। 

রাজধানীর খিলগাঁও থেকে তাদেরকে গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের এন্টি ইললিগ্যাল আর্মস রিকোভারি টিম। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোড ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ফকরুজ্জামান এক সময়কার খুব জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক। তিনি টিপু কিবরিয়া নামে পরিচিত। টিপু কিবরিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে বাংলায় স্নাতক এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে সেবা প্রকাশনীর মাসিক ‘কিশোর পত্রিকা’য় সহকারী সম্পাদক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশু সাহিত্য রচনা করতেন। তার অর্ধ শতাধিক বই রয়েছে। 

২০০৫ সাল থেকে শিশু পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়ান টিপু কিবরিয়া। দীর্ঘদিন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পর ২০১৪ সালে সিআইডির কাছে গ্রেপ্তার হন এবং তার নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। ২০২১ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন টিপু কিবরিয়া। ‘একশো এক’ নামে একটি কবিতার বই প্রকাশ করে। একই সাথে, সাহিত্য চর্চার আড়ালে পুনরায় শিশু পর্নোগ্রাফির সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে শুরু করেন টিপু কিবরিয়া।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ছিন্নমূল ছেলে পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি কন্টেন্ট বানান। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিক বেশে পথশিশুদের অর্থের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিজের ক্যামেরার সাহায্যে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির নগ্ন ছবি, শরীরের বিভিন্ন গোপনাঙ্গের ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। নিজের বাসা ছাড়াও বিভিন্ন পার্কের নির্জন ঝোপঝাড়ে এই ছিন্নমূল শিশুদের একই প্রক্রিয়ায় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। শিশুদের সংগ্রহ করার জন্য তার কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। যাদের মধ্যে একজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তার ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো থেকে প্রায় ২০ জন পথশিশুর ছবি ভিকটিম হিসেবে শনাক্ত করা গেছে। তার ব্যবহৃত ক্যামেরা, পিসি ও ক্লাউড স্টোরেজ থেকে পর্নোগ্রাফির উদ্দেশ্যে তোলা প্রায় ২৫০০ শিশুর স্থিরচিত্র ও প্রায় এক হাজার ভিডিও কনটেন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার ডেস্কটপে অসংখ্য ছিন্নমূল ছেলে পথশিশুদের প্রচুর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তিনি এসব কনটেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিকৃত রুচির গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতেন।