img

চীনের সঙ্গে সরাসরি লেনেদেনে যাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৯:২০, ৩০ মার্চ ২০২৪

চীনের সঙ্গে সরাসরি লেনেদেনে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন বাড়াতে এবার চীনের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সুইফটের আদলে গড়ে ওঠা চীনা সিআইপিএসে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চলছে আলোচনা। এছাড়া রপ্তানি আয়, ঋণ ও প্রকল্প-সহায়তা যথাসম্ভব ইউয়ানের নেয়ার বিষয়টিও রয়েছে সক্রিয় বিবেচনায়। রিজার্ভ ধরে রাখার পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে এসব উদ্যোগ ইতিবাচক বলছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। 

চীনের সঙ্গে দেশটির মুদ্রা ইউয়ানে সরাসরি লেনদেনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নায় অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। চীনের আন্তঃব্যাংক টেলিকমিউকেশন ‘ক্রসবর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম-সিআইপিএসে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে রূপপুর পরমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের অর্থ রাশিয়াকে পরিশোধ করা হবে।  

গত অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ২০ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের কম। ফলে ইউয়ানের যোগান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চীনা বিনিয়োগ ও ঋণ যদি ইউয়ানে আসে তবে ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে। 

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা বলেন, “চাইনিজদের যে আপ-কামিং প্রসেসগুলো আছে তা ইউয়ানে ফাইন্যান্স করা যায় কিনা সেটা একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে বেশ আগে। এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে যে অ্যামাউন্ট ইউএসডিতে নিয়ে আসতে হয় সেটা যদি তারা ইউয়ানে নিয়ে আসে। যদি চাইনিজ একটা ব্যাংককে অনুমতি দেওয়া হয় যারা আসলে বাংলাদেশের জন্য এই ইউয়ানের চাহিদাটা যোগান দেবে।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীনের সাথে ইউয়ানে লেনদেন শুরুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে মুদ্রাটির জোগান বাড়াতে হবে।  

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, “দুটি মুদ্রাতেই যাতে লেনদেনটা হয় দর কষাকষি করে সেই জায়গাটা তৈরি করতে হবে।”

এদিকে, চীনা ঋণ ইউয়ানে নেয়ার বিষয়টি রয়েছে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায়। এ বিষয়ে মতামত পেতে অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। দেশের মোট বিদেশি ঋণে চীনের অংশীদারিত্ব এখনও কম। তাই এই মুহূর্তে চীনা ঋণকে দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন না অর্থনীতিবিদরা।

img

ব্যাংকে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত :  ১১:২১, ২৭ মে ২০২৪

এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে আমানত কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক একীভূতকরণ আতঙ্কে শেষ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর জানুয়ারি- ১ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের এ আমানত কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যংকের প্রকাশিত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স স্টাটিসটিক’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সেখানে দেখা যাচ্ছে: যেখানে শেষ ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে আমানত ছিলো ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। সেখানে জানুয়ারিতে এসে সেই আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ব্যাংক খাতের মোট আমানতের মধ্যে জানুয়ারি শেষে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। যা গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা।

সে হিসাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে জানুয়ারিতে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। আর প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোতে কমেছে ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্যাংকাররা বলছেন, সুদ যোগ হয়ে সব সময় আমানতের স্থিতি বাড়ে। কিন্তু জানুয়ারিতে কেন কমল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা কঠিন। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর না বুঝে অনেকে টাকা তোলা শুরু করেন।

‘‘মার্চে আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণ শুরুর পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। হয়তো তারই প্রভাবে আমানত কমেছে।’’

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবীদ ড. মাহফুজ কবীর বলছেন: একীভূতকরণ নিয়ে অনেক আমানকারীদের মধ্যে ভয় রয়েছে। কোন ব্যাংক কার সঙ্গে একীভূত হয় এবং একীভূত হলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না এমন সন্দেহে অনেকেই টাকা তুলে নিচ্ছেন।

‘‘এর বাইরে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বাড়তি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় অনেক গ্রাহক তাদের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙ্গানোসহ অন্যান সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিচ্ছেন। এটাও আমানত কমার একটি কারণ।’’

এমন পরিস্থিতিতে বেসিক ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে: ৮ এপ্রিল একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে অস্বাভাবিকভাবে আমানত উত্তলন করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে গভীর সঙ্কটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটি।

দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে সবল ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আলোচনার মাঝে ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা ফেরাতে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ১৭ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৪ মার্চ পদ্মা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক, ৩ এপ্রিল সরকারি খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংককে এবং সবশেষ বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়।