img

কল্পনার জগতে বেশি সময় কাটায় কোন অপরাধীরা?

প্রকাশিত :  ১০:৩০, ৩১ মার্চ ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৭, ৩১ মার্চ ২০২৪

কল্পনার জগতে বেশি সময় কাটায় কোন অপরাধীরা?

বিভিন্ন মুভি-উপন্যাসে হ্যালুসিনেশন, ডিলিউশন শব্দগুলো ব্যবহার করতে দেখেছেন নিশ্চয়ই। কোনো অদৃশ্য কণ্ঠের আওয়াজ পেয়ে অমুক লোক রাস্তায় নেমে অসংখ্য মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলেছে, এমনটাও শুনে থাকবেন। কেউ কেউ কল্পনার জগতে এত বেশি সময় কাটায় যে তারা অদৃশ্য কণ্ঠের আওয়াজ শুনতে পায়।

কেউ কেউ ভাবে, তাদের ওপর অশরীরী কোনো সত্তা মানবজাতিকে উদ্ধারের ভার ন্যস্ত করেছে। গায়েবি আওয়াজ পেয়ে তারা খুন থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন অপরাধ করে।

রবার্ট ব্রচের বিখ্যাত উপন্যাস 'সাইকো' এর প্রসঙ্গ আনা যায়। এর ওপর বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।

এই উপন্যাসের অনুপ্রেরণা জোগায় একজন সত্যিকারের সিরিয়াল কিলার এড গেইন। শুধু সিরিয়াল কিলিংই নয়, স্থানীয় কবর থেকে মহিলাদের লাশ চুরি করে লাশের চামড়া ছাড়িয়ে বিভিন্ন সামগ্রী, লেদার জ্যাকেট পর্যন্ত তৈরি করতেন তিনি। চিকিৎসকেরা এড গেইনকে সিভিয়ার সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত মানসিক রোগী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তার সিজোফ্রেনিয়া বিকাশ লাভ করেছিল তার নার্সিসিস্টিক মায়ের কারণে।

মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে 'Insanity Defense' এ (বর্তমানে যা Mental Disorder Defense নামে পরিচিত) যোগ্য প্রমাণ হওয়ায় ১৯৫৭ সালে ধরা পড়ার পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে মেন্টাল হেলথ ফ্যাসিলিটিতে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ এগারো বছর অবস্থান করেন তিনি।

১৯৬৮ সালে আদালতে পাঠানোর যোগ্য হন এড গেইন। কিন্তু বিচারক পরবর্তীতে আবার তাকে সাইকোটিক সিজোফ্রেনিয়ার কারণে কারাদণ্ড না দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন। সেখানেই ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৮৪ সালে তিনি মারা যান।

সন্তান জন্মদানের পরে পোস্টপার্টাম সাইকোসিস পৃথিবীর সব দেশে প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়। আপনারা যারা হুমায়ূন আহমেদের গল্প পড়েছেন, `জিন কফিল'—ছোটোগল্পে এ ধরনের একটি কেসের উদাহরণ দেখতে পাবেন। সন্তান জন্মদানের পর মস্তিষ্কে কিছু নিউরোকেমিক্যালের অসংগতির জন্য জন্মদান পরবর্তী সময়ে সিজোফ্রেনিয়া, হ্যালুসিনেশন, ডিলিউশন দেখা দেয়। কোনো অশরীরী আত্মা মায়েদের আদেশ দিচ্ছে বাচ্চাকে খুন করতে—খুব সাধারণভাবে এমনটা দেখা যায়।

আরও পড়ুন: ডিপফেক ভিডিও থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন যেভাবে

এ ধরনের কেস, মা হয়তো মা দেখতে সন্তানের শরীরে সাধারণ হাত-পায়ের বদলে দৈত্যের মতো বড় বড় নখরযুক্ত হাত-পা। বাচ্চা রাক্ষসে পরিণত হচ্ছে এমন কেসও পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে খুব সাধারণ।

নিউরোটিক এবং সাইকোটিক বিভাগের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নিউরোটিক ডিজঅর্ডারে একজন মানুষ বাস্তবতার জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় না। সে জানে, কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল। সে কোনো গায়েবি আওয়াজ শুনতে পায় না, কোনো অশরীরী আত্মাকেও দেখতে পায় না এবং কাল্পনিক বা ভ্রমের জগতেও বাস করে না।

পক্ষান্তরে, সাইকোটিক ডিজঅর্ডারে মানুষ বাস্তব জগৎ এবং কাল্পনিক জগতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। সাইকোসিসের রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। রোগীর জেনেটিক ফ্যাক্টর, বিভিন্ন রকম মানসিক পীড়ন, হরমোন এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য কেমিক্যালের অসামঞ্জস্য (ডোপামিন এবং সেরোটনিন) ইত্যাদি কারণে একজন মানুষ সাইকোটিক রোগীতে পরিণত হয়।

একজন ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে অপরাধ করার পর মুক্তি পাবে নাকি আদালতে শাস্তি পাবে তা বের করার জন্য শুধু দুটি বিষয় মাথায় রাখবেন—

অপরাধ যখন হচ্ছিল তখন অপরাধী ঠিক আর ভুলের পার্থক্য জানতো কিনা। কিংবা, অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধী বাস্তব জগতে নাকি ঘোর কোন কাল্পনিক জগতে থাকত।

এই দুই শর্তের মাধ্যমেই নিরূপণ করা হয় একজন ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতার অজুহাতকে বাতিল করে কাঠগড়ায় তোলা সম্ভব কি না।



img

ইসরায়েলের সঙ্গে গুগলের চুক্তি, বিরোধিতা করায় চাকরি গেল ৫০ জনের

প্রকাশিত :  ১১:০৭, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

দখলদার ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে গুগলের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় ২০ জন গুগল কর্মীকে বরখাস্ত করেছে। বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীর মতে, এ নিয়ে মোট ৫০ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। খবর সিএনএন

নো টেক ফর দ্য অ্যাপার্থাইড’ শীর্ষক এই গোষ্ঠীর প্রতিবাদকারীরা গত সপ্তাহের মঙ্গলবার গুগলের কার্যালয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় তারা এক বিবৃতিতে জানান, গুগল ২০ জন কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর আগের সপ্তাহে আরও ৩০ জন কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল।

নো টেক ফর দ্য অ্যাপার্থাইডের দাবি, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেননি, তারা পাশে দাঁড়িয়ে সমাবেশ দেখেছেন। কর্মক্ষেত্রের এসব তৎপরতায় তারা সক্রিয় ছিলেন না। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এভাবে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার মধ্য দিয়ে গুগলের মতো মহিরুহ প্রযুক্তি কোম্পানি আগ্রাসী ও প্রতিশোধমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

সিএনএনকে দেয়া এক বিবৃতিতে গুগলের মুখপাত্র বলেছেন, সেদিনের প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে আরও বেশ কিছু কর্মীর চাকরি গেছে। তবে কতজন চাকরি হারিয়েছেন তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

গুগলের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আবারও নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তারা সবাই ১৬ এপ্রিল গুগল কার্যালয়ের ভেতরে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে একাধিকবার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের অনেকে এই সমাবেশ অংশ নেননি বা কার্যালয়ের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাননি।

প্রসঙ্গত, ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নামে গুগল ও অ্যামাজনের সঙ্গে ইসরায়েলের ১২০ কোটি ডলারের ওই চুক্তি রয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরকে ক্লাউড পরিষেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইসহ উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করে গুগল ও অ্যামাজন।

এই চুক্তির বিরোধিতা করে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কোম্পানিটির অফিসে শীর্ষ নির্বাহীর কক্ষের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই কর্মীরা। ওই দিন বিক্ষুব্ধরা প্রায় ১০ ঘণ্টা এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ বিক্ষোভ করেন। এই কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ওই ঘটনার পর বিক্ষোভে জড়িত নয়জনকে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর